সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত | ইসলামে সালামের বিধান | Bangla Islam

সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত ইসলামে সালামের বিধান
সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত ইসলামে সালামের বিধান Bangla Islam

সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত

এক মুসলমান আরেক মুসলমানের সাথে সাক্ষাত হলে যে শব্দ উচ্চারণ করে তাকে সালাম বলে। আজ আমরা সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে কোরআন ও হাদিস থেকে কিছু আলোচনা করব। ইনশা-আল্লাহ।

সালাম একটি আরবি শব্দ যার উচ্চারণ আরবীতে  ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ এবং বাংলায় আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু। এর অর্থ হচ্ছে শান্তি, প্রশান্তি, কল্যাণ, দোয়া, আরাম, আনন্দ, তৃপ্তি।

সালাম একটি সম্মানজনক, অভ্যর্থনামূলক, অভিনন্দনজ্ঞাপক, শান্তিময় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামী অভিবাদন।

অন্য কিছু দেশে নবীন প্রজন্মের মুসলমানদের অনেককে আল্লাহপাকের শেখানো অভিবাদনবাক্য উচ্চারণ না করে ‘হাই, হ্যালো’ বলতে শোনা যায়।

এটা শিক্ষার অভাব ও হীনমন্যতার পরিচায়ক। পারস্পারিক শান্তি কামনার সঙ্গে হাই, হ্যালোর কোনো তুলনাই হতে পারে না।

দুনিয়াতেই শুধু নয়, পরকালের জীবনেও শান্তি কামনার এই অভিবাদনরীতি অনুসৃত হবে। আল্লাহপাকের অনুগ্রহভাজন ও সাফল্য লাভকারীদের অভিবাদন জানানো হবে,

সাথে সাথে আস্‌-সালাম (ٱلسَّلَامُ)  আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে একটি এবং জান্নাতের নাম সমূহের মধ্যে একটি জান্নাতের নাম।

সালামের উৎপত্তি ও সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত।

হাদিসে এসেছে আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আদম আ. কে সালামের শিক্ষা দেন। যেমন হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

আল্লাহ আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করে বলেন, যাও ফেরেশতাদের দলকে সালাম দাও এবং তোমার সালামের কি উত্তর দেয় মন দিয়ে শুন।

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ،….عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “‏

خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، ثُمَّ قَالَ اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ،

فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ، تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ‏.‏ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ‏.‏

فَقَالُوا السَّلاَمُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ‏.‏ فَزَادُوهُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ‏.‏

فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ، فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ حَتَّى الآنَ ‏”‏‏.‏

ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা বলার পরিণতি

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করেছেন।

তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। এরপর তিনি (আল্লাহ্) তাঁকে (আদমকে) বললেন, যাও। ঐ ফিরিশতা দলের প্রতি সালাম কর

এবং তাঁরা তোমার সালামের জওয়াব কিরূপে দেয় তা মনোযোগ দিয়ে শোন। কেননা এটাই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের রীতি।

তারপর আদম (আলাইহিস সালাম) (ফিরিশ্তাদের) বললেন, “আস্‌সালামু আলাইকুম”। ফিরিশ্তাগণ তার উত্তরে

“আস্‌সালামু আলাইকা ওয়া রাহামাতুল্লাহ” বললেন। ফিরিশতারা সালামের জওয়াবে “ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ” শব্দটি বাড়িয়ে বললেন।

যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন তারা আদম (আলাইহিস সালাম) এর আকৃতি বিশিষ্ট হবেন।

তবে আদম সন্তানদের দেহের দৈর্ঘ্য সর্বদা কমতে কমতে বর্তমান পরিমাপ পর্যন্ত পোঁছেছে।

জাতীর পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) সালামের প্রচলন ঘটান।

অনুরুপ ভাবে আল্লাহ তায়ালা জাতীর পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর ক্ষেত্রেও তার প্রচলন ঘটান যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَلَقَدْ جَاءتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُـشْرَى قَالُواْ سَلاَمًا قَالَ سَلاَمٌ فَمَا لَبِثَ أَن جَاء بِعِجْلٍ حَنِيذٍ

আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল তারা বলল সালাম, তিনিও বললেন-সালাম ।

অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন! সুরা হুদ : ৬৯

আর সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং ব্যবহার সম্পর্কে পবিত্র কুরআন-এ আল্লাহ তায়ালা এভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত ………. সালাম না কর।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا

وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর।

এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। সুরা নুর ২৪:২৭

لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ

وَلَا عَلَى أَنفُسِكُمْ أَن تَأْكُلُوا مِن بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبَائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَانِكُمْ

أَوْ بُيُوتِ أَخَوَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَالَاتِكُمْ

أَوْ مَا مَلَكْتُم مَّفَاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَأْكُلُوا جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًا

فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُون

সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে কোরআনের আয়াতের অর্থ:

 অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খঞ্জের জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে,

তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে

অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে

অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে।

তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর,

তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন,

যাতে তোমরা বুঝে নাও। সুরা নুর : ৬১

বান্দা যখন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন কি হবে ?

‘সালাম’ বা ‘শান্তি’ বলে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যেদিন তারা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে…

تَحِيَّتُهُمْ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ سَلَامٌ وَأَعَدَّ لَهُمْ أَجْرًا كَرِيمًا

যেদিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে; সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম। তিনি তাদের জন্যে সম্মানজনক পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন। সুরা আহযাব : ৪৪

তিনি আরো বলেছেন: (জান্নাতে) পরমদয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের বলা হবে, ‘সালাম’।

سَلَامٌ قَوْلًا مِن رَّبٍّ رَّحِيمٍ

করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম। সুরা ইয়া-সীন : ৫৮

জান্নাতের রক্ষীরা জান্নাতপ্রাপ্তদের স্বাগত জানাবেন একইভাবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে: যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করতো তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

দোয়া কবুলের শর্ত সমূহ | আমল কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়

যখন তারা জান্নাতের কাছে উপস্থিত হবে, তখন তার দরজা খুলে দেয়া হবে। জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে: …

وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاؤُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا

وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ

যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে

এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। সুরা যুমার : ৭৩

 

وَإِذَا حُيِّيْتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّواْ بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا

আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর; তারচেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী। সুরা নিসা : ৮৬

هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ

আপনার কাছে ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?

إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا قَالَ سَلَامٌ قَوْمٌ مُّنكَرُونَ

যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বললঃ সালাম, তখন সে বললঃ সালাম। এরা তো অপরিচিত লোক। সুরা যারিয়া’ত : ২৫

ইসলামে সালামের বিধান ও সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত।

হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ،

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ”‏

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا

أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شَىْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই সত্তার শপথ,

যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং তোমরা পরস্পরকে মহব্বত না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না।

আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় নির্দেশ করবো না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে মহব্বত করবে? তোমাদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।

وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا،

أنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم:

أَيُّ الإِسْلاَمِ خَيْرٌ ؟ قَالَ: « تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ ». متفقٌ عَلَيْهِ

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত,

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, ‘সর্বোত্তম ইসলামী কাজ কী?’ তিনি বললেন,

“(ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে (ব্যাপকভাবে) সালাম পেশ করবে।

রসুলের সাতটি (কর্ম করতে) আদেশ।

وَعَنْ أَبي عُمَارَةَ البَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ:

أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِسَبْعٍ: بِعِيَادَةِ المَرِيضِ،

وَاتِّبَاعِ الجَنَائِزِ، وَتَشْمِيتِ العَاطِسِ، وَنَصْرِ الضَّعِيفِ،

وَعَوْنِ المَظْلُومِ، وَإفْشَاءِ السَّلاَمِ، وَإبْرَارِ المُقسِمِ . متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ উমারা বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি (কর্ম করতে) আদেশ করেছেনঃ

(১) রোগী দেখতে যাওয়া,

(২) জানাযার অনুসরণ করা,

(৩) হাঁচির জবাব দেওয়া,

(৪) দুর্বলকে সাহায্য করা,

(৫) নির্যাতিত ব্যক্তির সাহায্য করা,

(৬) সালাম প্রচার করা, এবং

(৭) শপথকারীর শপথ পুরা করা।

আল্লাহই একমাত্র ইলাহ তিনি ব্যতিত আর কোন উপাস্য নেই

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَعْجَزُ النَّاسِ مَنْ عَجَزَ فِي الدُّعَاءِ، وَأَبْخَلُ النَّاسِ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلامِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

সবচেয়ে বড় অক্ষম সে, যে দু‘আ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং সবচেয়ে বড় কৃপণ সে, যে সালাম দিতে কৃপণতা করে।

ইসলামী শরীয়াতে সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং তার হুকুম।

উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস থেকে এ কথা স্পষ্ট যে সালাম দেওয়া ইসলামী শরীয়াতে সুন্নত তাই জামাতের মধ্য হতে যে কোনো একজনের সালাম দেয়া দ্বারা সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।

উত্তম হল জামাতের সবাইকে সালাম দেয়া। বেশী বেশী সালামের প্রচার ও প্রসার করতে হবে যাতে সালামের পূর্ণ উপকার  পাওয়া যায়। কারণ,

হাদিসে বলা হয়েছে «أفشوا السلام بينكم» অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে সালামকে প্রসার কর।

কোনো জামাতকে সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে সালাম শব্দটি মারেফা (السلام) আলিফ লাম সহ বা নাকিরা (سلام) আলিফ লাম ছারা উভয় প্রকারে ব্যবহার করা যাবে।

কারণ, হাদিসে উভয় প্রকারের ব্যবহার প্রমাণিত আছে। আল্লামা ইবনুল বান্না রহ. বলেন, সম্ভাষণের সালাম নাকিরা হবে, আর বিদায়ী সালাম মারেফা হবে।

যে সব ক্ষেত্রে এবং যাদের সালাম দেয়া মাকরূহ।

নিম্নে তাদের আলোচনা করা হল: এরা ছাড়া বাকী যাদের সাথে তোমার দেখা হবে, তাদের সালাম দেয়া সুন্নত ও বৈধ।

১. সালাতরত ব্যক্তি,

২. তিলাওয়াতকারী,

৩. যিকিরকারী,

৪. হাদিস পাঠদানকারী,

৫. খুতবাদানকারী এবং যারা খুতবা শুনায় মগ্ন

৬. ফিকহ নিয়ে আলোচনাকারী,

৭. বিচারক যিনি বিচার কার্যে ব্যস্ত

৮. মুয়াজ্জিনকে যখন সে আজান দিতে থাকে,

৯. ইকামত দানকারি,

১০. অপরিচিত যুবতী নারী, [যাদের সালাম দেয়াতে ফিতনার আশংকা থাকে]

১১. যারা দাবা খেলায় মগ্ন তাদের ও তাদের মত লোকদের সালাম দেয়া মাকরূহ।

১২. যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে খেল-তামাশায় মগ্ন,

১৩. কাফের ও লেংটা লোককে সালাম দেবে না,

১৪. পেশাব পায়খানায় লিপ্তদের,

১৫. খাওয়ায় ব্যস্ত, তবে যদি তুমি ক্ষুধার্ত হও এবং জান যে লোকটি তোমাকে ফিরিয়ে দেবে না।

ইসলামে সালামের উত্তর দেয়ার বিধান:

সালামের উত্তর দেয়া ফরযে কিফায়াহ। যদি উপস্থিত লোক একজন হয়, তবে তাকেই সালামের উত্তর দিতে হবে। কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

وَإِذَا حُيِّيْتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّواْ بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا

আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর; তারচেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী। সুরা নিসা ৪:৮৬

আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে মারফু হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন:

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ….عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه –

قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَفَعَهُ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ – قَالَ”‏

يُجْزِئُ عَنِ الْجَمَاعَةِ، إِذَا مَرُّوا أَنْ يُسَلِّمَ، أَحَدُهُمْ وَيُجْزِئُ عَنِ الْجُلُوسِ أَنْ يَرُدَّ أَحَدُهُمْ ‏”‏ ‏.‏

হাসান ইবন আলী (রহঃ) ….. আলী ইবন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ হাসান ইবন আলী (রাঃ) এ হাদীছকে মারফূ বলেছেন।

তিনি বলেন যখন কোন দল কোথাও যায়, তখন তাদের একজন সালাম দিলেই যথেষ্ট হবে।

আর বসা লোকদের মধ্য থেকে একজন সালামের জবাব দিলেই যথেষ্ট; (সকলের সালাম দেয়া বা সালামের দেয়া জরুরী নয়।)

حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ……قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ ـ رضى الله عنهما ـ

يَقُولُ نَهَانَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ سَبْعٍ نَهَى عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ ـ

أَوْ قَالَ حَلْقَةِ الذَّهَبِ ـ وَعَنِ الْحَرِيرِ، وَالإِسْتَبْرَقِ، وَالدِّيبَاجِ،

وَالْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ، وَالْقَسِّيِّ، وَآنِيَةِ الْفِضَّةِ،

وَأَمَرَنَا بِسَبْعٍ بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ،

وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ، وَرَدِّ السَّلاَمِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي، وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ، وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ‏.‏

 

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেনঃ

আদম (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেনঃ

১. স্বর্ণের আংটি বা তিনি বলেছেন, স্বর্নের বলয়,

২. মিহি রেশম,

৩. মোটা রেশম

৪. রেশম মিশ্রিত কাপড়,

৫. রেশম এর তৈরী লাল রঙের পালান বা হাওদা,

৬. রেশম মিশ্রিত কিসসী কাপড়

৭. ও রূপার পাত্র।

আর তিনি আমাদের সাতটি কাজের আদেশ করেছেনঃ

১. রোগীর শুশ্রুষা,

২. জানাযার পেছনে চলা,

৩. হাঁচির উত্তর দেওয়া,

৪. সালামের জবাব দেওয়া,

৫. দাওয়াত গ্রহন করা,

৬. কসমকারীর কসম পূরনে সাহায্য করা

৭. এবং মাযলূম ব্যাক্তির সাহায্য করা।

জিলহজের প্রথম ১০ দিন যাতে রয়েছে ৫টি বিশেষ আমল

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ……عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ـ رضى الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”

‏ إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ بِالطُّرُقَاتِ ‏”‏‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَنَا مِنْ مَجَالِسِنَا بُدٌّ نَتَحَدَّثُ فِيهَا‏.‏

فَقَالَ ‏”‏ إِذَا أَبَيْتُمْ إِلاَّ الْمَجْلِسَ فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ ‏”‏‏.‏

قَالُوا وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ غَضُّ الْبَصَرِ،

وَكَفُّ الأَذَى، وَرَدُّ السَّلاَمِ، وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىُ عَنِ الْمُنْكَرِ ‏”‏‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ

তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকো। তারা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের রাস্তায় বসা ছাড়া গত্যন্তর নেই,

আমরা সেখানে কথাবার্তা বলি। তিনি বললেনঃ যদি তোমাদের রাস্তায় মজলিস করা ছাড়া উপায় না থাকে, তবে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে।

তারা বলল ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাস্তার দাবী কি? তিনি বললেন, তা হল চোখ অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। 

সালামের জবাব দেওয়া এবং সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া আর অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা।

সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং সালাম দেয়ার পদ্ধতি:

যে ব্যক্তি আগে সালাম দেবে, তার জন্য মোস্তাহাব হল, সে বলবে:

ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু

সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করবে। যদিও উপস্থিত ব্যক্তি একজন হয়। আর সালামের উত্তর দাতা এ বলে উত্তর দেবে:

وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ

ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ

সালাম দেয়ার সময় কেউ যদি ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ এবং উত্তর দেয়ার সময় শুধু وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ. বলে, তাতে সালাম আদায় হয়ে যাবে। যখন কোনো একজন মুসলিমকে সালাম দেয়া হল,

তারপর তার সাথে যতবার দেখা হবে, ততবার সালাম দেবে। কারণ, হাদিসে সালামকে প্রসার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

«أفشوا السلام بينكم» “তোমরা সালামকে প্রসার কর”।

দেয়াল বা পাথরের আড়াল হলে সালাম দিতে হবে ?

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন:

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ….عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ إِذَا لَقِيَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ

فَإِنْ حَالَتْ بَيْنَهُمَا شَجَرَةٌ أَوْ جِدَارٌ أَوْ حَجَرٌ ثُمَّ لَقِيَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ أَيْضًا‏

আহমদ ইবন সাঈদ (রহঃ) ….. আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যখন তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের সাথে মিলবে, তখন তাকে সালাম করবে।

এরপর যদি উভয়ের মাঝে কোন গাছ, দেয়াল বা পাথরের আড়াল হয়, পরে আবার দেখা হয়, তখন পুনরায় তাকে সালাম করবে।

وَعَنْ أَبي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم:

إِنَّ أوْلَى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأَهُمْ بالسَّلاَمِ رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ

আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

‘‘আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম করে।’’

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ….عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه

أَنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ‏.‏

আলী ইবনু জাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার তিনি একদল শিশুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন,

তখন তিনি তাদের সালাম করে বললেনঃ যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তা করতেন।

বাচ্চাদেরকে সালাম দেওয়া এবং সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত শিখানো।

وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا …عَنْ سَيَّارٍ،

قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ فَمَرَّ بِصِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ ‏.‏

وَحَدَّثَ ثَابِتٌ أَنَّهُ كَانَ يَمْشِي مَعَ أَنَسٍ فَمَرَّ بِصِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ ‏.‏

وَحَدَّثَ أَنَسٌ أَنَّهُ كَانَ يَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ بِصِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ ‏.‏

আমর ইবনু আলী ও মুহাম্মদ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) … সাইয়্যার (রহঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমি সাবিত বুনানী (রহঃ) এর সঙ্গে হেঁটে পথ চলছিলাম। তিনি একদল বালকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম করলেন

এবং (তখন) সাবিত (রহঃ) হাদীস রিওয়াত করলেন যে, তিনি আনাস (রাঃ)-এর সঙ্গে হেঁটে পথ চলছিলেন।

তিনি (আনাস) একদল বালকের পাশ দিয়ে গেলেন এবং তাদের সালাম করলেন, এবং আনাস (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেন যে,

তিনি (একবার) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হেঁটে পথ চলছিলেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

বালকদের কাছ দিয়ে চললেন এবং তাদের সালাম করলেন।

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ – رضي الله عنه – قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم:

لِيُسَلِّمِ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ, وَالْمَارُّ عَلَى الْقَاعِدِ, وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

বয়োকনিষ্ঠ বয়োজ্যেষ্ঠকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।

চিঠির মাধ্যমে অথবা দূতের মাধ্যমে কাউকে সালাম দেয়, তখন ?

আর যখন কোনো ব্যক্তি দূর থেকে চিঠির মাধ্যমে অথবা দূতের মাধ্যমে কাউকে সালাম দেয়, তখন তার নিকট সালাম পৌছার পর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব।

তবে মোস্তাহাব হল, দূতকেও সালাম দেয়া এবং এ কথা বলা, وعليك وعليه السلام তোমার উপর ও তার উপর সালাম। কারণ, হাদিসে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে একজন ব্যক্তি এসে বলল:

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ…عَنْ غَالِبٍ، قَالَ إِنَّا لَجُلُوسٌ بِبَابِ الْحَسَنِ

إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ بَعَثَنِي أَبِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

فَقَالَ ائْتِهِ فَأَقْرِئْهُ السَّلاَمَ ‏.‏ قَالَ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ إِنَّ أَبِي يُقْرِئُكَ السَّلاَمَ ‏.‏

فَقَالَ ‏ “‏ عَلَيْكَ وَعَلَى أَبِيكَ السَّلاَمُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ বকর ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ….. গালিব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ

একদা আমি হাসান (রাঃ)-এর দরজায় বসে ছিলাম। এ সময় সেখানে এক ব্যক্তি এসে বলে যে, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন,

যিনি আমার দাদা থেকে হাদীছ শুনেছেন। তিনি বলেনঃ একবার আমার পিতা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠান

এবং বলেনঃ তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হয়ে আমার সালাম পেশ করো। রাবী বলেনঃ

আমি তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলি যে, আমার পিতা আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তখন তিনি বলেনঃ তোমার ও তোমার পিতার প্রতি সালাম।

যদি কোনো ব্যক্তি বধিরকে সালাম দেয় ?

তখন মুখে বলবে এবং হাতে ইশারা করবে। আর বোবা ব্যক্তির সালাম দেয়া ও উত্তর দেয়া উভয়টি ইশারা দ্বারা হবে।

কারণ, তার ইশারা কথার স্থলাভিষিক্ত। আর নারীদের সালাম দেয়া পুরুষদের পরস্পরের সালামের মতই- কোনো পার্থক্য নাই। সালাম দেয়ার সময় মাথা ঝুঁকানো সম্পূর্ণ অবৈধ, তবে কোলাকুলি করা বৈধ।

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم،

الرَّجُلُ مِنَّا يَلْقَى أخَاهُ، أَوْ صَدِيقَهُ، أَيَنحَنِي لَهُ؟ قَالَ : لاَ(لاَ يَنحَنِي لَهُ)

. قَالَ: أفَيَلْتَزِمُهُ وَيُقَبِّلُهُ ؟ قَالَ:لاَ

قَالَ: فَيَأخُذُ بِيَدِهِ وَيُصَافِحُهُ ؟ قَالَ : نَعَمْ. رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটা লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে

কোন লোক তার ভাইয়ের সাথে কিংবা তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করলে তার সামনে কি মাথা নত করবে?’ তিনি বললেন, ‘‘না।’’

সে বলল, ‘তাহলে কি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমা দেবে?’ তিনি বললেন, ‘‘না।’’ সে বলল, ‘তাহলে কি তার হাত ধরে তার সঙ্গে মুসাফাহা করবে?’

তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ।’’

 

যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত কেমন ?

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتٗا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةٗ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَٰرَكَةٗ طَيِّبَةٗۚ

তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা নিজদের উপর সালাম করবে,

আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতপূর্ণ ও পবিত্র অভিবাদনস্বরূপ। সূরা নূর, আয়াত: ৬১

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

يا بني إذا دخلت على أهلك فسلم يكن بركة عليك وعلى أهلك

হে বৎস! তুমি যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও। তা তোমার জন্য ও তোমার পরিবার পরিজনের জন্য বরকত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন:

إذا خرج الرجل من بيته فقال بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله

يقال له هديت وكفيت ووقيت وتنحى عنه الشيطان

যখন কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এ দো‘আ পাঠ করে, بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله তাকে বলা হয়,

তোমাকে হেদায়েত দেয়া হয়েছে, তোমাকে বাঁচানো হয়েছে। আর শয়তান তার থেকে দূর হয়ে যায়। 

যখন কোন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে, সে যেন এ দো‘আ পাঠ করে।

اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله

ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا

হে আল্লাহ! তোমার নিকট উত্তম বাসস্থান চাই এবং উত্তম বের হওয়া চাই। হে আল্লাহ! আমরা আল্লাহর নামে প্রবেশ করলাম

এবং আল্লাহর নামে বের হলাম। হে আমাদের রব আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করলাম”। তারপর সে তার পরিবার-পরিজনকে সালাম দেবে।

অমুসলিমকে সালাম দেওয়ার বিধান কী?

অমুসলিমকে ‘সালাম’ দেওয়া বৈধ নয়। কোনো প্রয়োজনে দিতে হলে ‘আসসালামু আল মানিত্তাবাআল হুদা’ বলা। আর অমুসলিমরা সালাম দিলে তদুত্তরে শুধু ‘ওয়া আলাইকুম’ বলা।

বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে মুসলিমদের ওপর অমুসলিমদের প্রাধান্য দেওয়া নিন্দনীয়। তবে তাদের সঙ্গে যাবতীয় লেনদেন, সদাচরণ ও সাধারণ সম্পর্ক রাখা বৈধ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমান:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ بِطَانَةً مِّن دُونِكُمْ لاَ يَأْلُونَكُمْ خَبَالاً

وَدُّواْ مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاء مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ

قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الآيَاتِ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না

তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়।

আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো,

যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও। সুরা ইমরান : ১১৮

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ

وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে,

সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। সুরা মায়েদা : ৫১

আল্লাহ আমাদের সকলকে উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস সমূহের আলোকে নিজেদের জীবনে সুন্নত তরীকায় সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত বুঝে তার সব গুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

মাও. ইবরাহিম মোস্তফা
মাও. ইবরাহিম মোস্তফা
Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. নাভির নিচে হাত বাঁধা। নামাজে হাত বাধার সঠিক নিয়ম। Bangla Islam

Comments are closed.