শুধু অযুতে অনেক সওয়াব | কি কারণে অঙ্গ সমূহ ঝলমল করবে | বাংলা ইসলাম

শুধু অযুতে অনেক সওয়াব
শুধু অযুতে অনেক সওয়াব কি কারণে অঙ্গ সমূহ ঝলমল করবে বাংলা ইসলাম

শুধু অযুতে অনেক সওয়াব

‘অযু’ পবিত্রতা অর্জনের একটি বিষেশ মাধ্যম। কেহ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাসনুন তরীকায় অযু করে তাহলে শুধু অযুতে অনেক সওয়াব পাবে। কেননা এটি এমন একটি নেক আমল যা অতি সহজ। যা আমরা সকলেই করি এবং দিনে একাধিকবার করি।

স্বাভাবিক ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অযুর প্রয়োজন হয়। আমরা যদি একটু খেয়াল করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত তরীকায় এই সহজ ও প্রয়োজনীয় আমলটি সম্পাদন করি

তাহলে অতি সহজে আমরা পেতে পারি অনেক বড় বড় পুরস্কার।

হাদীসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সামনে হাউজে কাউসারের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন,

মানুষ যেমন তার হাউজ থেকে অন্য মানুষকে সরিয়ে দেয় তেমনি আমিও সেদিন কিছু মানুষকে সরিয়ে দিব।

সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, সেদিন কি আপনি আমাদের চিনতে পারবেন? নবীজি ইরশাদ করলেন, বল তো, কারো যদি হাতে ও পায়ে সফেদ চিহ্ন বিশিষ্ট কিছু ঘোড়া থাকে এবং সেগুলোকে অসংখ্য কালো রংয়ের ঘোড়ার মাঝে ছেড়ে দেয়া হয়

তবে সেই ব্যক্তি কি তার ঘোড়াগুলো চিনতে পারবে না? সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ, পারবে। ইয়া রাসূলুল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তেমনি তোমাদেরও এমন কিছু চিহ্ন হবে যা অন্য কোনো উম্মতের হবে না।

কিয়ামতের দিন তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও অযুর কারণে ঝলমল করতে থাকবে।

কি কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঝলমল করতে থাকবে এবং কি ভাবে শুধু অযুতে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ… عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ، قَالَ رَقِيتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ عَلَى ظَهْرِ الْمَسْجِدِ،

فَتَوَضَّأَ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ 

ইয়াহিয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) …. নু‘আয়ম মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম।

তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে বললেনঃ ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে

যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল থাকবে উজ্জ্বল। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।

ওযুর শেষে যা বলতে হয়

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَرْبٍ الْمَرْوَزِيُّ…عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، – رضى الله عنه – قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ

مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

فُتِّحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ ‏”‏ ‏

মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু হারব মারওয়াযী (রহঃ) … উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে আর বলেঃ

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তার বান্দা ও রাসূল”

তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করবে।

অযুর ফরজ, সুন্নাত ও আদাবের প্রতি লক্ষ রেখে উত্তমরূপে অযু।

এখানে নবীজি (সা.) অযুর ফরজ, সুন্নাত ও আদাবের প্রতি লক্ষ রেখে উত্তমরূপে অযু করার এবং অযুর শেষে দুআ পড়ার একটি সহজ আমলের কথা বলেছেন।

যা দেহকে সজীব ও পবিত্র করে, মনে প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা দান করে।

এই সহজ আমলের জন্যও আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করবেন বলে সু-সংবাদ দেয়া হয়েছে। তার জন্য জান্নাতের সবকটি দরজা খুলে দেয়া হবে

এবং সে নিজের ইচ্ছামতো যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। অন্যান্য হাদীসে অযুর আরো ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ…يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ

تُضَعَّفُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا، وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ،

ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ لاَ يُخْرِجُهُ إِلاَّ الصَّلاَةُ، لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ، وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ،

فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلِ الْمَلاَئِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ‏.‏ وَلاَ يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلاَةَ ‏”‏‏.‏

মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির জামা’আতের সাথে সালাতের সাওয়াব,

তাঁর নিজের ঘরে বাজারে আদায়কৃত সালাতের সাওয়াব দ্বিগুণ করে ২৫ গুন বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণে এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করল,

তারপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তাঁর প্রতি কদমের বিনিময়ে একটী মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়।

সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, ফিরিশতাগণ তার জন্য এ বলে দু’আ করতে থাকেন-

“হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুণ এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুণ। “আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতরত বলে গণ্য হয়।

পানির শেষ কাতরার সঙ্গে ওই সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায়।

এছাড়াও অন্য হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত: নবীজি বলেছেন, মুসলিম বা মুমিন বান্দা যখন অযু করে, যখন সে মুখমন্ডল ধৌত করে

তখন পানির সঙ্গে বা পানির শেষ কাতরার সঙ্গে ওই সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায়,

যা সে দু চোখ দ্বারা করেছিল। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে ওই সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে হাত দ্বারা করেছিল। যখন সে দুই পা ধৌত করে

তখন পানির সঙ্গে ওই সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, যার দিকে সে চলেছিল।

এভাবে সে সকল গুনাহ থেকে পাকসাফ হয়ে যায়।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرِ بْنِ رِبْعِيٍّ الْقَيْسِيُّ…عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবনু মা’মার রিবঈ আল-কায়সী (রহঃ) … উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং তা উত্তমরুপে করে, তার দেহ থেকে সমুদয় গুনাহ বের হয়ে যায়, এমন কি তার নখের ভিতর থেকেও (গুনাহ) বের হয়ে যায়।

অন্য একটি সহীহ হাদীসে আরো একটি সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। হযরত উকবা ইবনে আমের রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

আমি শুনতে পেয়েছি যে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন,

কোনো মুসলিম যখন সুন্দরভাবে অযু করে অতঃপর চেহারা-মন উভয়কে আল্লাহ অভিমুখী করে দন্ডায়মান হয়

এবং দু রাকাত করে নামাজ আদায় করে তখন তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এ ছোট্ট আমল যা আমরা দৈনিক করে থাকি তার মাধ্যমে অনেক বড় ছোয়াব অর্জন করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

Facebook Comments