রমজানের ফজরের নামাজ তারাতারী আদায়।

রমজানের ফজরের নামাজ
রমজানের ফজরের নামাজ

রমজানের ফজরের নামাজ।

রমজানের ফজরের নামাজ আযানের সাথে সাথে পড়া উত্তম না অন্য বাকি মাস গুলোর মত দেরি করে নামাজ আদায় করা উত্তম।

কেননা আমাদের দেশে সাধারণত রমজান মাসে সেহরীর শেষ সময় থেকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে ফজরের আযান হয়। আর তারও দশ মিনিট পরে জামাত শুরু হয়ে যায়।

যা সাধারণত অন্য মাসগুলোতে করা হয় না। বরং তখন আকাশ ফর্সা হয়ে যাওয়ার কাছা কাছি সময়ে নামাজের জামাত হয়ে থাকে।

আজ আমরা “রমজানের ফজরের নামাজ” এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ইসলাম (BanglaIslam .net) এর পক্ষ থেকে দলিল ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করে শুরু করছি…

ফজরের নামাজের ব্যাপারে হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা ফজরের নামাজ অন্ধকারে পড়ার চেয়ে

পৃথিবীতে সোবহে সাদিকের আলো ছড়িয়ে যাওয়ার পর পড়। কেননা তাতে ছোয়াব বা প্রতিদান বেশি। তবে সোবহে সাদিক হওয়ার সাথে সাথে

অর্থাৎ অন্ধকার থাকতে থাকতে পরে নিলেও ফজরের নামাজ কারাহিয়্যাত ব্যতিত আদায় হয়ে যাবে।

আর এ কারণে রমজান মাসে প্রথম ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। কেননা এর চেয়ে বেশি দেরি করা হলে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ফয়জুল বারী শরহে বুখারী উল্লেখ আছে; রমজান মাসে সেহেরির পর সাধারণত লোকেরা ঘুমিয়ে যায়। যার কারণে নামাজ কাজা হয়ে যায়ভ

এজন্য সুবহে সাদিকের পর যদি ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে নেওয়া হয়। তাহলে সকলেই জামাতে শরিক হয়ে যাবে।  তাই জামাতের সার্থে এমনটা করা যায়েজ আছে।

আর হ্যা কোন এক মহল্লার লোকেরা যদি সকলেই এ ব্যাপারে একমত হয়ে যায় যে, সারা বছরের ন্যয় রমজান মাসেও পূর্বের নির্ধারিত সময়ে

নামাজ পড়বে তাহলে কোন অসুবিধা নেই। বরং জায়েজ আছে সুতরাং এই ব্যাপার নিয়ে কথা কাটাকাটি করা ঠিক হবে না।

সঠিকটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

রমজানের ফজরের নামাজ তারাতারী আদায় তার দলিল সমূহ।

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، – هُوَ ابْنُ سُلَيْمَانَ – عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ

عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ

قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ أَسْفِرُوا بِالْفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ

হান্নাদ (রহঃ) ….. রাফি ইবনু খাদীজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি

তোমরা ইসফার অর্থাৎ চতুর্দিক ফর্সা হয়ে এলে ফজর আদায় করবে। কেননা এতে রয়েছে বিরাট ছওয়াব।

….

يُسْتَحَبُّ تَأْخِيرُ الْفَجْرِ وَلَا يُؤَخِّرُهَا بِحَيْثُ يَقَعُ الشَّكُّ فِي طُلُوعِ الشَّمْسِ

بَلْ يُسْفِرُ بِهَا بِحَيْثُ لَوْ ظَهَرَ فَسَادُ صَلَاتِهِ يُمْكِنُهُ أَنْ يُعِيدَهَا فِي الْوَقْتِ بِقِرَاءَةٍ مُسْتَحَبَّةٍ

كَذَا فِي التَّبْيِينِ وَهَذَا فِي الْأَزْمِنَةِ كُلِّهَا إلَّا صَبِيحَةَ يَوْمِ النَّحْرِ لِلْعَاجِّ بِالْمُزْدَلِفَةِ فَإِنَّ هُنَاكَ التَّغْلِيسُ أَفْضَلُ. هَكَذَا فِي الْمُحِيطِ.
——–
ص52 – كتاب الفتاوى الهندية – الفصل الثالث في بيان الأوقات التي لا تجوز فيها الصلاة وتكره فيها

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. ফজরের জামাত কখন করবে এবং কি পরিমাণ বিলম্ভ করা যাবে? - বাংলা ইসলাম

Comments are closed.