যে দোয়া এক বার পড়লে এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখা হয় | Bangla Islam

এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী
যে দোয়া এক বার পড়লে এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখা হয় Bangla Islam

যে দোয়া এক বার পড়লে এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখা হয়

সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আমাদেরকে তাওফিক দান করেছেন যে দোয়া এক বার পড়লে এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখা হয় তা নিয়ে আলোচনা করার।

আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে অনেক আদর ও যত্ন করে সৃষ্টি করেছেন। যে আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ

আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।

ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ

অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।

ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا

فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি,

অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।

ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ

এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে

ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ

অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে।

وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ

আমি তোমাদের উপর সুপ্তপথ সৃষ্টি করেছি এবং আমি সৃষ্টি সম্বন্ধে গাফেল নই।

এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী ও চিরস্থায়ী সুখময় জান্নাত কাদের জন্য

আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন চিরস্থায়ী সুখময় জান্নাত। যাহার তলদেশে দিয়ে প্রবাহিত ঝর্ণা সমূহ। যেমন কোরআনে তিনি ইরশাদ করেন:

وَبَشِّرِ الَّذِين آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ

كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ

وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে।

যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম।

বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে। সুরা বাকারা আয়াত ২৫

আল্লাহর পর কে আমাদেরকে বেশী ভালোবাসেন?

আর আল্লাহ তাআলার পরেই আমাদেরকে বেশী ভালোবাসেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় চিন্তা করতেন কিভাবে আমরা নাযাত পেতে পারি, কিভাবে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তিতে থাকতে পারি। যেমন হাদিসে এসেছে :

.وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْإِيمَانَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ إِلى جُحْرِهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইসলাম মাদীনার দিকে এভাবে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ (পরিশেষে) তার গর্তে ফিরে আসে।

তিনি সর্বদা আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে আমরা অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভবান হতে পারি। কেননা আগের জমানার উম্মতদের হায়াত ছিল অধিক তারা অধিক পরিমাণে ইবাদত করতে পারত।

বিনা হিসাবে সত্তর হাজার মানুষের নাজাত

আল্লাহর অনুগ্রহ কম নয় কেননা কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা বিনা হিসাবে সত্তর হাজার মানুষকে নাজাত দিয়ে দিবেন। যেমন হাদিসে বর্ণিত আছে:

حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ عُرِضَتْ عَلَىَّ الأُمَمُ

فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ وَمَعَهُ الرُّهَيْطُ وَالنَّبِيَّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالرَّجُلاَنِ

وَالنَّبِيَّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ إِذْ رُفِعَ لِي سَوَادٌ عَظِيمٌ فَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِي

فَقِيلَ لِي هَذَا مُوسَى صلى الله عليه وسلم وَقَوْمُهُ وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الأُفُقِ ‏.‏ فَنَظَرْتُ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ

فَقِيلَ لِي انْظُرْ إِلَى الأُفُقِ الآخَرِ ‏.‏ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ فَقِيلَ لِي هَذِهِ أُمَّتُكَ

وَمَعَهُمْ سَبْعُونَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلاَ عَذَابٍ ‏”

ইবনু আব্বাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, স্বপ্নে আমার সামনে সকল উম্মাতকে উপস্থিত করা হয়,

তখন কোন কোন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম যে, তাঁর সঙ্গে ছোট্ট একটি দল রয়েছে; আর কাউকে দেখলাম, তাঁর সঙ্গে একজন কিংবা দুজন লোক;

আবার কেউ এমনও ছিলেন যে, তাঁর সাথে কেউ নেই। হঠাৎ আমার সামনে এক বিরাট দল দেখা গেল। মনে হল, এরা আমার উম্মাত।

তখন আমাকে বলা হল, ইনি . মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর উম্মাত; তবে আপনি উপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন। আমি ওদিকে তাকালাম, দেখি বিরাট এক দল।

আবার বলা হল, আপনি উপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন, (আমি ওদিকে তাকালাম) এক বিরাট দল। বলা হলো, এরা আপনার উম্মাত।

এদের মধ্যে সত্তর হাজার এমন লোক আছে যারা শাস্তি ব্যতীত হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ছোট্ট ছোট্ট আমল যাতে অনেক ছোয়াব

কিন্তু এ উম্মতের হায়াত হল অল্প তাই তিনি আমাদেরকে শিখিয়ে গিয়েছেন ছোট্ট ছোট্ট আমল যাতে অনেক ছোয়াব অর্জিত হয়।তার মধ্যে থেকে একটি আমল হল এমন যে আমলটি করার ফজিলত অপরিসীম।

هذا الحديث رواه الطبراني في “المعجم الأوسط” ، وفي “المعجم الكبير”

كلهم من طريق هَانِئ بْن الْمُتَوَكِّلِ قَالَ: نا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ

قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( مَنْ قَالَ: جَزَى اللَّهُ عَنَّا مُحَمَّدًا بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، أَتْعَبَ سَبْعِينَ كَاتِبًا أَلْفَ صَبَاحٍ ) 

ইমাম তবরানী রহ. স্বীয় কিতাব আল মুজামুল আওসাত এবং আল মুজামুল কাবির গ্রন্থে উল্লেখ করেন

হযরত হানী ইবনে মুতাওক্কাল এর সনদে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি বলবে:

جَزَى اللَّهُ عَنَّا مُحَمَّدًا بِمَا هُوَ أَهْلُهُ

জাযাআল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুও

তাহলে তার জন্য সত্তর জন ফেরেস্তা এক হাজার সকাল অর্থাৎ ১,০০০ দিন কষ্ট (সোয়াব লিখতে) করতে থাকবে।

হাদীসটির গ্রহণ যোগ্যতা  সম্পর্কে উলামায়ে কেরামদের মতামত।

এটি ত্ববারানী “আল-কাবীর” গ্রন্থে, তার থেকে আবু নুয়াইম “আল-হিলইয়াহ” গ্রন্থে, ইবনু শাহীন “আত-তারগীব অততারহীব” গ্রন্থে এবং আবু নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে

বিভিন্ন সূত্রে হানীউ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আল-ইস্কান্দারানী হতে, তিনি মুয়াবিয়াহ ইবনু সালেহ্ হতে, তিনি জাফর ইবনু মুহাম্মদ হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ …।

আবু নুয়াইম বলেনঃ ইকরিমাহ, জাফার ও মুয়াবিয়ার হাদীস হতে হাদীসটি গারীব। হানীউ হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

فهذا الحديث ضعيف الإسناد جدا بطريقيه ، لا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم

অতএব এ হাদিসটি সনদের দিকদিয়ে অত্যান্ত দূর্বল যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহী হতে পারে না।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সহী হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

বিঃ দ্রঃ আপনার ব্যাকলিং প্রয়োজন?

আমাদের যে কোন পোস্টের লিংক আপনার পোস্টে সংযোগ করে কমেন্ট সেকশনে তার লিংক দিয়ে কমেন্ট করুন।

আমরা আপনাকে আমাদের সাইটে সংযোগ করে নিব।

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ করা যায় | ১০ সেকেন্ডে ১৪ কোটি নেকি | Bangla Islam

Comments are closed.