মুক্তির পথ কি ? ইসলামে কোরআন হল একমাত্র মুক্তির পথ

মুক্তির পথ কি, ইসলামে কোরআন হল একমাত্র মুক্তির পথ,
মুক্তির পথ কি ইসলামে কোরআন হল একমাত্র মুক্তির পথ।

মুক্তির পথ কি ?

জিন ও ইনসানের ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির একমাত্র পথ ও শ্রেষ্টতম নিয়ামত পবিত্র কোরআন। আর ইসলামে কোরআন হল একমাত্র মুক্তির পথ।

বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি

বিশ্বপ্রতিপালক মহান আল্লাহর কাছ থেকে হযরত জিবরাঈল (আ.) মারফত সুদীর্ঘ ২৩ বছরে প্রয়োজন অনুশরে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়।

পবিত্র কোরআন মানব ও জীন জাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও মুক্তির দিশারি বা পথপ্রদর্শক।

মুক্তির সনদ

পবিত্র কোরআনকে সর্বকালের, সর্বলোকের জীবনবিধান ও মুক্তির সনদ হিসেবে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন।

সত্যিকারে মুক্তির পথ কি তা জানানোর জন্য পবিত্র কোরআন নাজিলের ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহ তায়ালা

তার হাবিব হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নের মাধ্যমে এ মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছিলেন।

অতঃপর তার চল্লিশ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে রমজান মাসের এক রাতে

ফেরেশতা হযরত জিব্রাইলের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র বানী মানব ও জীন জাতির নিকট পৌঁছে দেয়ার এ মহান গুরু দায়ীত্ব পেয়েছিলেন।

ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় হাদীস গ্রন্থ বুখারী শরীফে উম্মুল মুমিনুন হয়রত আম্মাজান আয়িশা হতে বর্নণা করেন।

যখন প্রথম কুরআন নাযিল হয় ফেরেশতা জিব্রাঈল আ. নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে সাক্ষাত করেন এবং বলেন পড়।

”মা আনা বিক্বারিউ”

নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মা আনা বিক্বারিউ। যার অর্থ ‘আমি পড়তে পারি না’ বা আমি কী পাঠ/আবৃত্তি করব ? অথবা ‘আমি তো পড়তে বা অধ্যায়ন করতে জানি না।

তিন বার এমন কথপকথন হল এবং প্রতিবার জিব্রাঈল আ.

নবী মুহাম্মদকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমস্ত শক্তি দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, তারপর ছেড়ে দিলেন।

এরপর আবার বললেন;

”পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে!

পাঠ করুন আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু আল্লাহর নামে, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না”

এরপর মুহাম্মদ এর নিকট ধারাবাহিক ভাবে দীর্ঘ ২৩ বছর সময়ে মানব জীবনের প্রয়োজন অনুযায়ী পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। যা ৬৩২ খ্রীস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়।

আল্লাহ প্রদত্ত কুরআনের সকল কথা কোন প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তন ব্যতিত হযরত জিব্রাঈল আ. নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছে দিয়েছেন।

কুরআন অবতীর্ণের অবস্থা:

যখন তাকে কুরআন অবতীর্ণের অবস্থা এবং মুক্তির পথ কি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বর্ণনা করেন,

“কখন কখন এটি ঘণ্টার ধ্বনির মত হয়।

আবার কখন অন্তরে ঢেলে দেয়া হয়, তা আমি বুঝতে পারি।

কিছু কিছু সময় আমার নিকট মানুষের রুপ ধারন করে ফেরেশতা জিব্রাঈল আসেন।

আর আমাকে পাঠ করতে বলেন। আমি তখন তা দৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করি।

আর এভাবেই হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কোনআনের ওহী গ্রহণ করেন ও তার সাহাবিদের পাঠ করে শুনাতেন ও মুখস্ত করাতেন। মাঝে মাঝে তাদের দিয়ে লিখিয়ে রাখতেন।

নবুওয়তের ২৩ বছর

যদিও মক্কা বাণিজ্যিক নগরী ছিল, সে সময় অল্প সংখ্যক লোকই লিখতে জানতেন।

এতদ্বসত্ত্বেও নবুওয়তের ২৩ বছরে ৪৮ জন সাহাবী লেখার দায়ীত্বে ছিলেন মর্মে বর্ণনা পাওয়া যায়।

বর্ণনায় পাওয়া যায় প্রত্যেক রমজান মাসে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈলকে সমগ্র কুরআন পাঠ করে শুনাতেন।

আবার জিব্রাঈল ও নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ণ কোরআন পাঠ করে শুনাতেন।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে কুরআন গাছের ছালে, পাথরে, খেজুর গাছের বাকলে সংরক্ষণ করা হত।

কোরআন মাজিদ লেখার পাশাপাশি সাহাবিগণ মুখস্ত করে তার সংরক্ষণ করতেন।

পুরো কুরআন মাজিদ হিফজ করার প্রচলন এখনও মুসলিমদের মাঝে বিদ্যমান আছে।

কুরআনের হাফেজ:

ইসলামের শুরু থেকেই আজ পযর্ন্ত অগনিত মানুষ কুরআনের হাফেজ হয়ে আসছে।

কুরআন যেহেতু এক সাথে অবতীর্ণ হয়নী তাই এর প্রতিটি পরিচ্ছেদ, অধ্যায় সুসংবদ্ধ ছিল না।

তাই এর সংরক্ষণ করা সময়ের দাবী হয়ে দাড়ায়।

কুরআন সংকলন কখন শেষ হয় এটা নিয়ে মুসলিম অমুসলিম পণ্ডিতগণের মাঝে মতবিরোধ দেখা যায়।

কিছু সংখ্যক বিশ্বাস করে যে নবী মুহাম্মাদ তার মৃত্যুর পূর্বেই কুুরআর সংকলন করেন।

আবার কিছু সংখ্যক বিশ্বাস করে, হযরত আলী অথবা আবু বকর রাযি. কুরআন সংকলন করেন।

 

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যা কারণ ও প্রতিকার মানুষ কেন আত্মহত্যা করে বাংলা ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published.