ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা বলার পরিণতি | Bangla Islam

ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা বলার পরিণতি
ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা বলার পরিণতি

ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা কথা বলা কি।

ব্যক্তিগত কোন বিষয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনও বিষয়ের কথা এলে দেখা যায় মানুষ নির্দিদায় মিথ্যা কথা বলছে বা প্রচার করছে। আর সে কখনো ভাবেই না তা ভুয়া বা মিথ্যা কিনা। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা কথা বলার পরিণতি সম্পর্কে কোরআন হাদিস থেকে কিছু আলোচনা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আজ মানুষ ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে তাই তাদের মিথ্যাও ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। যেমন তাদের হাতে থাকা কিছু ইলেকট্রিকস ডিভাইস যার মাধ্যমে বিশেষ করে মোবাইল কল বা মেসেজে।

ঘরে অবস্থান করে বলে বাইরে আছি। আর বাইরে কোথাও ঘুরতে গিয়ে বলা হয় অফিসে বা কর্মস্থলে ব্যস্ত আছি।

ইন্টারনেট বিপ্লবের ফলে আমাদের সামাজিক যোগাযোগের বড় মাধ্যম ফেসবুক যেমন আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে তেমনি ভুয়া সংবাদের অন্যতম উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এটি।

ফেসবুকে সবাই সাংবাদিক।

এখানে সবাই যেন ‘সাংবাদিক’। লাইক কমেন্ট পেতে অনেকেই ধর্মীয় আবেগপূর্ণ ভুয়া পোস্ট করেন তেমনি ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানো

বা বিশেষ স্বার্থ অর্জন করার জন্যও নিছক ফটোশপের কারসাজির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ছড়ান।

এ ধরনের মিথ্যা বলা, লেখা, প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়াবহ কবিরা গুনাহ।

মিথ্যা এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যে, এটা কিছু লোকের অবিচ্ছেদ্য স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

আর এটা পাপ বা সর্বজনস্বীকৃত ঘৃণ্য কাজ হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতি একটুও খারাপ ভাব সৃষ্টি হয় না।

অথচ মিথ্যার একাল-ওকাল দুটোই ধ্বংস। যেহেতু বেশির ভাগ মানুষ অনলাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই বিভিন্ন কুচক্রি মহল খুব সহজেই মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিতে থাকে।

অনেকে আবার সরল মনে এ ভুয়া বা মিথ্যা তথ্য নিজের অজান্তেই ছড়ানোর কাজে আত্মনিয়োগ করে। ফলে সমাজে ও রাষ্ট্রে বিভিন্ন রকম অস্থিরতা, দাঙ্গার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা কথা থেকে বাঁচার উপায়।

আর এ কারণে তথ্য প্রচার ও বিশ্বাসে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এবং কোনো তথ্য পেলে প্রথমে তা ভালোভাবে যাচাই না করে বিশ্বাস করা ও শেয়ার করা উচিত নয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন: হে মুমিনগণ, কোনো ফাসেক যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ

হে মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে,

যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। সুরা হুজুরাত: ৬

এ আয়াতে ফাসেক ও মিথ্যুকের খবর ভালোভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। কারণ তা যাচাই না করা হলে মিথ্যা খবরের ফাঁদে পড়ে কারো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

ফলে কৃতকর্মের জন্য পরে নিজেকেই অনুতপ্ত হতে হবে। অনলাইনে যারা বিভিন্ন খবর প্রচার করে,

এদের বেশির ভাগ মানুষকেই আমরা চিনি না, ফলে তাদের খবরের ব্যাপারে তো আরো বেশি সতর্ক থাকা উচিত।

মিথ্যা কথা থেকে বাঁচতে রাসূলুল্লাহর ইরশাদ।

বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : সততা সৎকর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে……..

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ……عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “‏

إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ

حَتَّى يُكْتَبَ صِدِّيقًا وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ

وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ كَذَّابًا ‏”‏ ‏.‏

যুহায়র ইবনু হারব, উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) …… আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সততা সৎকর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে আর সৎকর্ম জান্নাতের পথপ্রদর্শন করে।

নিশ্চয়ই কোন মানুষ সত্য কথা বলায় সত্যবাদী হিসেবে (তার নাম) লিপিবদ্ধ হয়। আর অসত্য পাপের পথপ্রদর্শন করে

এবং পাপ জাহান্নামের দিকে পথপ্রদর্শন করে। নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি মিথ্যায় রত থাকলে পরিশেষে মিথ্যাবাদী হিসেবেই (তার নাম) লিপিবদ্ধ করা হয়। 

জিলহজের প্রথম ১০ দিন যাতে রয়েছে ৫টি বিশেষ আমল

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ…… عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم”‏

عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ

وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ

وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ

وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا ‏”‏ ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, আবু কুরায়ব (রহঃ) ….. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

সত্যকে ধারণ করা তোমাদের একান্ত কর্তব্য। কেননা সততা নেক কর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে, আর নেককর্ম জান্নাতের পথপ্রদর্শন করে।

কোন ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে ও সত্য বলার চেষ্টায় রত থাকলে, অবশেষে আল্লাহর নিকটে সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।

আর তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকো! কেননা মিথ্যা পাপের দিকে পথপ্রদর্শন করে।

আর পাপ নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে।

কোন ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা কথা বললে এবং মিথ্যার উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করলে, অবশেষে সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ হয়।

হাদীসের অর্থ একেবারেই সরল। মর্ম খুবই প্রাঞ্জল। অর্থাৎ সত্যবাদিতা এমন একটি ভালো গুণ, যা মানব-জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি ভালো প্রভাব সৃষ্টি করে, ভালোর দিকে পরিচালিত করে।

ফলে লোকটির ঠিকানা হয় জান্নাত। পক্ষান্তরে মিথ্যা খোদ একটি মন্দ ও ঘৃণিত স্বভাব। যা মানুষকে পাপাচার ও অবাধ্যতার প্রতি আকৃষ্ট করে।

মিথ্যা কথার পরিণতি জাহান্নাম।

পুরো জীবনটাকে অন্যায় ও অনাচারে কলুষিত করে তোলে। ফলে তার পরিণতি হয় জাহান্নাম।

তাই আমরা যখনিই কারো কাছ থেকে কোন খবর শুনি তখনই সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করা চাই।

আর গুরুত্বপূর্ণ খবর বিচক্ষণতার সাথে যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করা। তাহলেই সত্য ও সঠিক খবর সংগৃহীত হবে।

যাচাই-বাছাই ছাড়া খবর গ্রহণ করলে মিথ্যা ও ভুল হওয়ার আশংকা থাকে,

যা বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিস্তার করে, শত্রুতা ও বিবাদের সূত্রপাত ঘটায় এবং দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।

আজ সমাজে যে বহু রকমের অশান্তি ও সহিংসতা লক্ষণীয় তার একটা বড় কারণ হল,

খবর গ্রহণে সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের অভাব। আমরা যেকোনো খবর ‘ওহী’র মত বিশ্বাস করে ফেলি।

হাওয়ায় ভেসে আসা কথাও চোখ বুজে গ্রহণ করে নেই এবং এর ভিত্তিতে পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা সাজিয়ে তা বাস্তবায়ন করি। বিশেষ করে যার সাথে বিরোধ থাকে

তার ব্যপালে হলেতো যাচাইয়ের প্রশ্নই আসে না। বরং নিজ থেকে বাড়িয়ে ফুলানো-ফাঁপানো হয়।

মিথ্যা কথা যাচাই।

খবর যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম কথাই হল, খবরদাতা কে, তার পরিচয় কি, কোন সূত্র থেকে খবর দিয়েছেন তা যাচায় করা,

এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কতটুকু বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য এ বিষয়গুলো দেখা।

সামগ্রিকভাবে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য হলে তার খবর গ্রহণ করতে অসুবিধা নেই। আর গুজব, উড়ো কথা, অজ্ঞাত-অপরিচিত, ফাসেক ও মিথ্যুকের খবর চিন্তাভাবনা ছাড়া বিশ্বাস করা জায়েয নয়।

আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, অধীনস্থ-সহকর্মীর পক্ষ থেকে অনাকাক্সিক্ষত কোনো খবর পৌঁছলেও সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করা উত্তম। যেমন আপনার কোনো বন্ধু সম্পর্কে কেউ খবর দিল যে,

অমুক আপনার সমালোচনা করেছে। শুধু এই খবরের ভিত্তিতে তার সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করা ঠিক হবে না।

বরং বন্ধুত্বের দাবি হল, বিষয়টি সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করা।

মিথ্যা কথা বলা সম্পর্কে হাদিস।

নবীজি (সা.) বলেন, কোনো ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যাই শুনবে…

وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: كَفَى بِالمَرْءِ كَذِباً أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ

আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে,

সে যা কিছু শোনে [বিনা বিচারে] তা-ই বর্ণনা করে।

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি। ১. কথা বললে মিথ্যা বলে….

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ أَبُو الرَّبِيعِ…عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ”

‏ آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ‏”‏‏.‏

সুলায়মান আবূর রাবী’ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ

মুনাফিকের আলামত তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।

কথা বললে মিথ্যা কথা বলে।

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ….عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ”

‏ أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ

حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ ‏”‏‏.‏

কাবীসা ইবনু ‘উকবা (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাঁটি মুনাফিক।

যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়।
১. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে
২. কথা বললে মিথ্যা বলে
৩. চুক্তি করলে ভঙ্গ করে এবং
৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়।

একটি কবিরা গুনাহই একজন মানুষকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। নবীজি (সা.) সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহের কথা ….

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ… عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْكَبَائِرِ قَالَ”‏

الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النَّفْسِ وَقَوْلُ الزُّورِ ‏”‏ ‏.‏

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) … আনাস (রাঃ)-এর সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে

কবিরা গুনাহ সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ

তা হল, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতামাতার নাফরমানী করা; কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কথা বলা।

আল্লাহই একমাত্র ইলাহ তিনি ব্যতিত আর কোন উপাস্য নেই

একজন সাধারণ মানুষ সম্পর্কে খবর আর বিশেষ কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে খবর এক পর্যায়ের নয়। তেমনি মামুলি কোনো বিষয়ের খবর আর স্পর্শকাতর কোনো বিষয়ের খবর এক রকম নয়।

প্রতিটি খবরের অবস্থা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা সমীচীন।

এ ক্ষেত্রে উমর রা.-এর ঘটনাটি এক উত্তম পাথেয়।……..

قَالَ: وَكَانَ لِي جَارٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، وَكُنَّا نَتَنَاوَبُ النُّزُولَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،

فَيَنْزِلُ يَوْمًا، وَأَنْزِلُ يَوْمًا، فَيَأْتِينِي بِخَبَرِ الْوَحْيِ وَغَيْرِهِ، وَآتِيهِ بِمِثْلِ ذَلِكَ، قَالَ:

وَكُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّ غَسَّانَ تُنْعِلُ الْخَيْلَ لِتَغْزُوَنَا، فَنَزَلَ صَاحِبِي يَوْمًا، ثُمَّ أَتَانِي عِشَاءً فَضَرَبَ بَابِي،

ثُمَّ نَادَانِي فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: حَدَثَ أَمْرٌ عَظِيمٌ. فقُلْتُ:وَمَاذَا، أَجَاءَتْ غَسَّانُ؟

قَالَ: لَا، بَلْ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ وَأَطْوَلُ، طَلَّقَ الرَّسُولُ نِسَاءَهُ. فَقُلْتُ: قَدْ خَابَتْ حَفْصَةُ وَخَسِرَتْ،

قَدْ كُنْتُ أَظُنُّ هَذَا كَائِنًا. حَتَّى إِذَا صَلَّيْتُ الصُّبْحَ شَدَدْتُ عَلَيَّ ثِيَابِي، ثُمَّ نَزَلْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ وَهِيَ تَبْكِي،

فَقُلْتُ: أَطَلَّقَكُنَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

উমার (রাঃ) বলেনঃ আমার একজন আনসার প্রতিবেশী ছিল। আমরা দুজনে পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে অতিথি হতাম।

একদিন আমি যেতাম, একদিন সে যেত। আমি যেদিন যেতাম সেদিন তার কাছে ওহীর খবরাদি নিয়ে আসতাম,

আর সে যেদিন যেত, সেদিন সে আমার কাছে ওহীর খবরাদি নিয়ে আসতো।

দোয়া কবুলের শর্ত সমূহ।

আমরা বলাবলি করতাম যে, গাসসান গোত্র আমাদের ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য ঘোড়াগুলোকে প্রস্তুত করছে। একদিন আমার এই প্রতিবেশী আমার কাছে এসে অতিথি হলো।

সন্ধ্যার পর সে এসে দরজায় করাঘাত করলো। তারপর আমাকে ডাকলো। আমি বেরিয়ে তার সামনে এলাম। সে বললো, একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে।

আমি বললামঃ সেটি কী? গাসসান এসে গেল নাকি? সে বললো, না, এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ও দীর্ঘস্থায়ী।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন।

আমি বললামঃ হাফসা বিরাট ক্ষতি ও ব্যর্থতার শিকার হলো। আমিও ভাবছিলাম, এটা ঘটতে যাচ্ছে।

অতঃপর ফজরের নামায পড়েই প্রস্তুত হয়ে নিলাম। তারপর গেলাম।

হাফসার কক্ষে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, সে কাঁদছে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন? সে বললো, জানি না।

তিনি এই কাঠের কক্ষটাতে অবরোধবাসী হয়ে রয়েছেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক হাবশী ভৃত্যের কাছে গেলাম।

তাকে বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে উমারের জন্য প্রবেশের অনুমতি এনে দাও। সে প্রবেশ করলো এবং পুনরায় আমার কাছে বেরিয়ে এল।

কবর যিয়ারত করার সঠিক পদ্ধতি

বললো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি নীরবতা অবলম্বন করলেন।

অতঃপর আমি সেখান থেকে চলে গেলাম এবং মিম্বারের নিকট উপস্থিত হলাম। দেখলাম, সেখানে একদল লোক বসে আছে। তাদের কেউ কেউ কাঁদছিল।

আমি কিছুক্ষণ বসলাম। তারপর আমার ওপর অস্থিরতা প্রবল হয়ে উঠলো। আমি আবার সেই ভৃত্যের নিকট গেলাম, বললাম, উমারের জন্য একটু অনুমতি এনে দাও।

সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলো এবং একটু পরেই বেরিয়ে এল। বললো,

আমি তার কাছে আপনার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।

আমি বেরিয়ে এলাম এবং পুনরায় মিম্বারের নিকট গিয়ে বসলাম।

অতঃপর আবারো আমার ওপর অস্থিরতা প্রবল হয়ে উঠলো। আমি পুনরায় সেই ভূত্যের নিকট গেলাম এবং বললাম,

উমারের জন্য একটু অনুমতি এনে দাও। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলো এবং কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এল।

বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আপনার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।

অগত্যা আমি ফিরে চললাম। হঠাৎ দেখলাম, সেই ভৃত্যটি আমাকে ডাকছে। সে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।

প্রবেশ করুন। আমি প্রবেশ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করলাম।

দেখলাম, তিনি বালুকাময় একটা পাটিতে কাত হয়ে শুয়ে আছেন,

যার দরুন তার শরীরের এক পার্শ্বে দাগ হয়ে গেছে। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি কি আপনার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তিনি মাথা তুলে আমার দিকে ফিরলেন এবং বললেনঃ না।

আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার। ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের কী অবস্থা হয়েছে তা যদি দেখতেন। আমরা কুরাইশরা নারীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতাম।

কবর পাকা করা কি গুনাহ?

পরে মদীনায় এসে এমন এক জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শে এলাম, যাদের ওপর তাদের নারীরা আধিপত্য বিস্তার করে।

ফলে আমাদের স্ত্রীরা তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে এই আচরণ শিখতে লাগলো।

একদিন আমি আমার স্ত্রীর ওপর রাগ করলাম। সেও আমার ওপর রাগ করলো। তার পাল্টা রাগ করাতে আমি অসন্তুষ্ট হলাম।

সে বললো, আমি পাল্টা রাগ করাতে তুমি অসন্তুষ্ট হয়েছ কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তো তার ওপর পাল্টা রাগ করে থাকে।

এমনকি তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তার সাথে কথোপকথন ও সাহচর্য দান থেকে বিরত থাকে।

আমি বললাম, তোমাদের মধ্য থেকে এ ধরনের আচরণ যে করে, সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত।

এ ধরনের মহিলা কি নিশ্চিত যে, আল্লাহ তা’আলা তার রাসূলের ক্রোধের কারণে তার ওপর ক্রুদ্ধ হবে না? আল্লাহ ক্রুদ্ধ হলে তো তার সর্বনাশ অনিবার্য।

এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি এরপর হাফসার কাছে গিয়েছি।

তাকে বলেছি, তোমার সতিন যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার চেয়েও সুন্দরী ও প্রিয় হয়, তবে তার ওপর তুমি ঈর্ষাকাতর হয়ো না।

এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় মুচকি হাসলেন।

এবার আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি এখন নিশ্চিন্ত হতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আমি ঘরের ভেতরে মাথা উঁচু করে তাকালাম।

মৃত ব্যক্তির জন্য করণীয়

কিন্তু সেখানে চোখে পড়ার মত কিছু দেখলাম না। সেখানে তিন দিনের উপকরণ ছাড়া কিছুই ছিল না। এ

ই দরিদ্রাবস্থার কারণেই স্ত্রীদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনোমালিন্য হয়েছিল।

তাই এ দুরবস্থা অবসানের লক্ষ্যে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন আপনার উম্মাতকে সচ্ছলতা দান করেন।

কেননা তিনি তো রোম ও পারস্যবাসীকে অনেক সচ্ছলতা দান করেছেন। অথচ তারা এক আল্লাহর ইবাদাত করে না।

এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসলেন। অতঃপর বললেনঃ হে খাত্তাবের ছেলে, তুমি কি কোন সংশয়ে লিপ্ত আছ?

তারা এমন জনগোষ্ঠী, যাদের যাবতীয় সৎকর্মের ফল প্রদান দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করা হয়েছে। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার জন্য ক্ষমা চান।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের ওপর এত বেশি রেগে গিয়েছিলেন যে, এক মাসের মধ্যে তাদের কারো কাছে যাবেন না বলে শপথ করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা তাকে এজন্য ভৎসনা করেছিলেন।

মিথ্যা কথা ও মিথ্যাবাদীর ভয়ানক পরিণতি।

তাই মিথ্যাবাদীকে আল্লাহ প্রচণ্ড ঘৃণা করেন। আল কোরআন ও হাদিসে মিথ্যুক এবং মিথ্যাবাদীর ভয়ানক পরিণতির কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কর না..

وَلاَ تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولـئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً

যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। সুরা বনী-ইসরাঈল : ৩৬

فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ إِلَى يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُواْ اللّهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُواْ يَكْذِبُونَ

তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তার তাঁর সাথে গিয়ে মিলবে।

তা এজন্য যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লংঘন করেছিল এবং এজন্যে যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো। সুরা তাওবা : ৭৭

মিথ্যাবাদীর শাস্তির

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মিথ্যাবাদীর শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ

فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللّهُ مَرَضاً وَلَهُم عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ

তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন। সুরা বাকারা : ১০

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لاَ تُفْسِدُواْ فِي الأَرْضِ قَالُواْ إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ

আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্ গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি। সুরা বাকারা : ১১

أَلا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَـكِن لاَّ يَشْعُرُونَ

মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না। সুরা বাকারা : ১২

আল্লাহ আমাদের সকলকে উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস সমূহের আলোকে নিজেদের জীবন থেকে পরিপূর্ণরুপে মিথ্যাকে পরিহার করে তার সব গুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত | ইসলামে সালামের বিধান | Bangla Islam

Comments are closed.