মাহফিল করার সঠিক তরীকা | পার্ট ০২ | Bangla Islam

মাহফিল করার সঠিক তরীকা
মাহফিল করার সঠিক তরীকা পার্ট ০২ Bangla Islam

মাহফিল করার সঠিক তরীকা

প্রসংশা আল্লাহ জন্য যিনি আমাদেরকে জ্ঞান দিয়ে বলেছেন আমরা যেন দ্বীনের সব বিষয় গুলো সঠিক ভাবে আদায় করি। তাই আমরা মাহফিল করার সঠিক তরীকা নিয়ে আলোচনা শুরু করছি।

ইতিপূর্বে ওয়াজ করার সঠিক তরীকা নিয়ে আমরা দশটি পয়েন্ট আলোচনা করেছি। পড়ার জন্য অনুরুদ রইল।

১১. চুক্তির বিনিময়ে যারা ওয়াজ করে, ফাসেদ আক্বীদাহ ও বে-আমল আলেম এবং টি ভি-এর কোন আলেমকে বক্তা বানাবে না। কারণ এধরণের বক্তার বয়ানের দ্বারা জনগণের মধ্যে দীনের পরিবর্তে বদ দীনী সৃষ্টি হয়।

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ

وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ

তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও,

অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? সুরা বাকারা ২:৪৪

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ

قَالَ أَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ الْفُضَيْلِ الْخَطْمِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ

مَا كَانَ مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ وَقَدْ كَانَ لَهُ حَوَارِيُّونَ يَهْتَدُونَ بِهَدْيِهِ وَيَسْتَنُّونَ بِسُنَّتِهِ ‏

আবূ বাকর ইবনু ইসহাক ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ….. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

যে কোন নবীর জন্য এমন কিছু সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ সহচর জুটেছিল,

যারা তার নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করেছেন এবং তার সুন্নাতকে সমুন্নত রেখেছেন।

ওয়াজ ও নসিহত মাইকে কল্যাণকর না অকল্যাণকর? | Bangla Islam

আম দাওয়াত মাহফিল করার সঠিক তরীকা নষ্ট করা যাবে না।

১২. ওয়াজের শেষে আম দাওয়াত বা তাবরকের নামে কোন কিছু বিতরণের ব্যবস্থা করবে না। এতে লোকদের মনযোগ আলোচনার দিকে না থেকে খানার দিকে থাকে।

حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ

إِنَّ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ لَهُ أَجْرٌ وَإِنَّ الَّذِي يَسْتَمِعُ لَهُ أَجْرَانِ

খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে, তার জন্য একটি বিনিময়;

আর যে ব্যক্তি তা মনযোগসহকারে শ্রবন করে তার জন্য রয়েছে দু’টি বিনিময়।

কোরআনকে মাহফিল জমানোর মাধ্যম বানানো যাবে না।

১৩. ওয়াজ মাহফিল জমানোর জন্য কুরআন তিলাওয়াত করাবে না। এর পরিবর্তে গজল ইত্যাদি পড়তে পারবে বা ছাত্রদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পেশ করতে পারে।

নিয়মিত বয়ান-ওয়াজ শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে খায়ের ও বরকতের জন্য তিলাওয়াতের দ্বারা শুরু করবে।

فَمَن بَدَّلَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

যদি কেউ ওসীয়ত শোনার পর তাতে কোন রকম পরিবর্তন সাধন করে, তবে যারা পরিবর্তন করে তাদের উপর এর পাপ পতিত হবে। সুরা বাকারা ২:১৮১

অপচয় না করা মাহফিল করার সঠিক তরীকা

১৪. মাহফিলের রাস্তার মধ্যে কোন গেইট বা তোরণ বানাবে না। প্রয়োজনীয় লাইটের অতিরিক্ত লাইট লাগাবে না। এগুলি অপচয়।

إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُواْ إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا

নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।  সুরা বনী-ইসরাঈল ১৭:২৭

মাহফিলের বাইরে দূরে দূরে মাইক লাগাবে না। কারণ এর দ্বারা মানুষের কষ্ট হয়। এ কারণে উলামায়ে কেরাম বলে থাকেন মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হয়

এমন জোরে কোরআন তেলাওয়াতও জায়েজ নাই। যেমন হাদিসে বর্ণিত রয়েছে:

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ

ـ رضى الله عنهما ـ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى ‏(‏وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا‏)

‏ قَالَ نَزَلَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُخْتَفٍ بِمَكَّةَ

كَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ

فَإِذَا سَمِعَهُ الْمُشْرِكُونَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ،

وَمَنْ جَاءَ بِهِ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم

‏(‏وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ‏)‏

أَىْ بِقِرَاءَتِكَ، فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ، فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ، ‏(‏وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا‏)‏

عَنْ أَصْحَابِكَ فَلاَ تُسْمِعُهُمْ ‏(‏وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً‏)‏‏.‏

মিলাদ কিয়াম কি বিদআত ? দলিল প্রমাণ সহ তার ইতিহাস।

হাদিসের অর্থঃ

ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে স্বর উঁচু করবেনা এবং অতিশয় ক্ষীণও করবেনা।

এ আয়াত টি এমন সময় অবতীর্ণ হয় যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

মক্কায় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন।

তিনি যখন তার সাহাবাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন

তখন তিনি উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন।

মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিত। আর গালি দিত যিনি তা অবতীর্ণ করেছেন ও যিনি তা নিয়ে এসেছেন।

এজন্য আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছিলেন,

তুমি তোমার সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়বে না,

যাতে মুশরিকরা শুনে কুরআনকে গালি দেয়, এবং তা এত নিম্ন স্বরে ও পড়বে না, যাতে তোমার সাহাবীরা শুনতে না পায়, বরং এ দুয়ের মধ্যপথ অবলম্বন কর”।

কেউ অপরের ক্ষতি করবে না

মাহফিল করার সঠিক তরীকা গুলোর একটি মানুষকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।

১৫. প্রচারপত্রে দিন তারিখ ও স্থান উল্লেখ করবে যাতে মানুষ কষ্ট ব্যতিত গন্তব্যস্থলে সহজে পৌছতে পারে। বক্তাদের নাম ঘোষনার না করাই উত্তম।

কারণ জীবিত মানুষ (দীনের ব্যাপারে) ফিতনাহ্ হতে মুক্ত নয়।

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ مَنْ كَانَ مُسْتَنًّا فَلْيَسْتَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ

فَإِنَّ الْحَيَّ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ

أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ كَانُوْا أَفْضَلَ هذِهِ الْأُمَّةِ أَبَرَّهَا قُلُوْبًا

وَّأَعْمَقَهَا عِلْمًا وَأَقَلَّهَا تَكَلُّفًا اِخْتَارَهُمُ الله لِصُحْبَةِ نَبِيِّه

وَلْإِقَامَةِ دِيْنِه فَاَعْرِفُوْا لَهُمْ فَضْلَهُمْ وَاتَّبِعُوْهُمْ عَلى آثَرِهِمْ

وَتَمَسَّكُوْا بِمَا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ أَخْلَاقِهِمْ

وَسِيَرِهِمْ فَإِنَّهُمْ كَانُوْا عَلَى الْهُدَى الْمُسْتَقِيْمِ. رَوَاهُ رَزِيْن

ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কারো কোন ত্বরীক্বাহ্ (তরিকা) অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের পথ অনুসরণ করে যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে।

কারণ জীবিত মানুষ (দীনের ব্যাপারে) ফিতনাহ্ হতে মুক্ত নয়। মৃত ব্যক্তিরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ,

যারা এ উম্মাতের সর্বোত্তম মানুষ। পরিচ্ছন্ন অন্তঃকরণ হিসেবে ও পরিপূর্ণ জ্ঞানের দিক দিয়ে এবং দূরে ছিলেন কৃত্রিমতার দিক থেকে।

আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তাঁর প্রিয় রসূলের সাথী ও দীন ক্বায়িমের জন্য মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং তোমরা তাদের ফাযীলাত ও মর্যাদা বুঝে নাও।

তাদের পদাংক অনুসরণ করো এবং যথাসাধ্য তাদের আখলাক্ব ও জীবন পদ্ধতি মজবুত করে আঁকড়ে ধরো।

কারণ তাঁরাই (আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশিত) সহজ-সরল পথের পথিক ছিলেন।

মৃত্যুর পর চল্লিশা, মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা কি জায়েজ ?

কুরআনের প্রতি মানুষের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করা যাবে না।

১৬. অনেক বক্তা চা পানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে লোকদেরকে মীলাদ-দুরূদে লাগিয়ে দেন। এটা দৃষ্টিকটু কাজ।

يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّكَنِ حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ أَبُو حَبِيبٍ حَدَّثَنَا هَارُونُ الْمُقْرِئُ

حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ الْخِرِّيتِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ

حَدِّثْ النَّاسَ كُلَّ جُمُعَةٍ مَرَّةً فَإِنْ أَبَيْتَ فَمَرَّتَيْنِ فَإِنْ أَكْثَرْتَ فَثَلَاثَ مِرَارٍ

وَلَا تُمِلَّ النَّاسَ هَذَا الْقُرْآنَ وَلَا أُلْفِيَنَّكَ تَأْتِي الْقَوْمَ

وَهُمْ فِي حَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِهِمْ فَتَقُصُّ عَلَيْهِمْ فَتَقْطَعُ عَلَيْهِمْ حَدِيثَهُمْ فَتُمِلُّهُمْ

وَلَكِنْ أَنْصِتْ فَإِذَا أَمَرُوكَ فَحَدِّثْهُمْ وَهُمْ يَشْتَهُونَهُ

فَانْظُرْ السَّجْعَ مِنْ الدُّعَاءِ فَاجْتَنِبْهُ فَإِنِّي عَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

وَأَصْحَابَهُ لَا يَفْعَلُونَ إِلَّا ذَلِكَ يَعْنِي لَا يَفْعَلُونَ إِلَّا ذَلِكَ الِاجْتِنَابَ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তুমি প্রতি জুমু‘আহয় লোকেদের হাদীস শোনাবে। যদি এতে তুমি ক্লান্ত না হও তবে সপ্তাহে দু’ বার।

আরও অধিক করতে চাও তবে তিনবার। আরও অধিক নাসীহাত করে এ কুরআনের প্রতি মানুষের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করো না।

লোকেরা তাদের কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকা অবস্থায় তুমি তাদের কাছে এসে তাদের নির্দেশ দেবে- আমি যেন এমন হালাতে তোমাকে না পাই।

কারণ এতে তাদের কথায় বিঘ্ন সৃষ্টি হবে এবং তারা বিরক্ত হবে। বরং তুমি এ সময় নীরব থাকবে। যদি তারা আগ্রহ নিয়ে তোমাকে নাসীহাত দিতে বলে তাহলে তুমি তাদের নাসীহাত দেবে।

আর তুমি দু‘আর মধ্যে ছন্দযুক্ত কবিতা বর্জন করবে। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণকে তা বর্জন করতে দেখেছি।

মাহফিল করার সঠিক তরীকা পালন না হলে আল্লাহর আরশ কম্পিত হয়।

১৮. প্রকাশ্য ফাসেক বে-আমল কোন লোককে মাহফিলের সভাপতি বা পরিচালক কিংবা বিশেষ অতিথি ইত্যাদি বানাবে না।

এতে খোদাদ্রোহীদের সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এতে আল্লাহর আরশ কম্পিত হয়।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، ح وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ

قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ

عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسٍ يُحَدِّثُ الْقَوْمَ

جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ مَتَى السَّاعَةُ فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ

فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ سَمِعَ مَا قَالَ، فَكَرِهَ مَا قَالَ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ بَلْ لَمْ يَسْمَعْ

حَتَّى إِذَا قَضَى حَدِيثَهُ قَالَ ‏”‏ أَيْنَ ـ أُرَاهُ ـ السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ 

قَالَ هَا أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ

‏ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا قَالَ ‏”‏ إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ‏”‏‏.‏

হাদিসের অর্থঃ

আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে জনসম্মুখে কিছু আলোচনা করছিলেন।

ইতোমধ্যে তাঁর নিকট জনৈক বেদুঈন এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনায় রত থাকলেন।

এতে কেউ কেউ বললেন, লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেননি। আর কেউ কেউ বললেন

বরং তিনি শুনতেই পাননি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা শেষে বললেনঃ ‘ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়?

সে বলল, ‘এই যে আমি, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেনঃ যখন আমানত নষ্ট করা হয় তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।

সে বলল, কিভাবে আমানত নষ্ট করা হয়? তিনি বললেনঃ ‘যখন কোন অনুপযুক্ত ব্যক্তির উপর কোন কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়

তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করবে।

তাবিজ ব্যবহার করা শরিয়াতের দৃষ্টিতে কেমন ?

ছবি অংকনকারী ও ভিডিওকারীদের উপর আল্লাহর লা’নত

১৯. মাহফিলের কোন ছবি, ভিডিও করে রাখবে না। এগুলো সব হারাম।

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ رَأَيْتُ أَبِي اشْتَرَى عَبْدًا حَجَّامًا

فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ………… وَلَعَنَ الْمُصَوِّرَ‏.‏

আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … আওন ইবনু আবূ জুহাইফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত……….. ছবি অংকনকারীর উপর লা’নত করেছেন।

কোন অবস্থায় অন্য উলামাদের খাট করা যাবে না।

২০. কোন বক্তার আগমনে না‘রায়ে তাকবীর বা অন্য কোন শ্লোগান দিবে না । এটা সুন্নাতের খেলাফ। বিশেষ করে ওয়াজের মধ্যে কোন বক্তার আগমনে বক্তার বয়ান বন্ধ করে কোন কথার শ্লোগান দিবে না।

কুরআন-সুন্নাহ এর আলোচনা অনেক উচু কাজ। কারো আগমনে তা বন্ধ করার অবকাশ নাই। কোন বক্তার ব্যাপারে “প্রধান আকর্ষন” “জলসার মধ্য মনি” ইত্যদি বলে

অন্যান্য উলামাদের খাট করবে না। কারণ সকলেই হক্বানী আলেম।

وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ

أَوْ شَابٌّ فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَسَأَلَ عَنْهَا أَوْ عَنْهُ فَقَالُوا: مَاتَ. قَالَ

أَفَلَا كُنْتُمْ اذَنْتُمُونِىْ؟ قَالَ: فَكَأَنَّهُمْ صَغَّرُوْا أَمْرَهَا أَوْ أَمْرَه. فَقَالَ

دَلُّوْنِىْ عَلى قَبْرِه فَدَلَّوْهُ فَصَلّى عَلَيْهَا. قَالَ

إِنَّ هذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُوءَةٌ ظُلْمَةً عَلَى اهْلِهَا

وَإِنَّ اللّهَ يُنَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِىْ عَلَيْهِمْ . وَلَفْظُه لمُسْلِمٌ

হাদিসের অর্থঃ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন কালো মহিলা অথবা একটি যুবক (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মসজিদে নাবাবী ঝাড়ু দিত।

একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে পেলেন না। তিনি সে মহিলা অথবা যুবকটির খোঁজ নিলেন।

লোকেরা বলল, সে ইন্তিকাল করেছে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে জানালে না কেন? (তাহলে আমিও জানাযায় শরীক থাকতাম।)

বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ মহিলা বা যুবকের বিষয়টিকে ছোট বা তুচ্ছ ভেবেছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ

তাকে কোথায় কবর দেয়া হয়েছে আমাকে দেখাও। তারা তাঁকে তার কবর দেখিয়ে দিল। তখন তিনি তার (কাছে গেলেন ও)

কবরে জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন, তারপর বললেন, এ কবরগুলো এর অধিবাসীদের জন্য ঘন অন্ধকারে ভরা ছিল।

আর আমার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের ফলে আল্লাহ তা‘আলা এগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছেন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে উক্ত বিষয় গুলো গুরুত্ব সহ কারে নিজেদের জিন্দেগীতে আমলে পরিণত করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

বি: দ্র: মুল বিষয়টি মাও. মানসুরুল হক দা. বা. এর লেখা থেকে সংগৃহীত। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

মাও. ইবরাহিম মোস্তফা
মাও. ইবরাহিম মোস্তফা

 

Facebook Comments