মাদার তেরেসা (Mother Teresa) জান্নাতে যাবে কি ? | Bangla Islam

মাদার তেরেসা
মাদার তেরেসা (Mother Teresa) জান্নাতে যাবে কি

মাদার তেরেসা জান্নাতে যাবে কি

দুনয়াতে যত ভাল মানুষ আছে তাদের মধ্যে একজন হলেন মেরি টেরিজা বোজাঝিউ যিনি মাদার টেরিজা বা মাদার তেরেসা নামে অধিক পরিচিত

মাদার তেরেসা এর জন্ম: ২৬ আগস্ট ১৯১০ মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ তিনি একজন আলবেনীয় বংশোদ্ভুত ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী এবং ধর্মপ্রচারক।

১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি দ্য মিশনারিজ অফ চ্যারিটি (দাতব্য ধর্মপ্রচারক সংঘ) নামে একটি খ্রিস্ট ধর্মপ্রচারণাসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি ১৯৭৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন লাভ করেন।

টেরিজার বা মাদার তেরেসা এর মৃত্যুর সময় বিশ্বের ১২৩টি রাষ্ট্রে মৃত্যুপথ যাত্রী এইডস, কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগীদের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্র, ভোজনশালা, শিশু ও পরিবার পরামর্শ কেন্দ্র,

অনাথ আশ্রম ও বিদ্যালয়সহ দ্য মিশনারিজ অফ চ্যারিটির ৬১০টি কেন্দ্র বিদ্যমান ছিল।

অমুসলিমরা পরকালে নাজাত পাবে যেমন মাদার তেরেসা এ জাতিয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ।

১. মাদার তেরেসা এর মতো আরো ভালো মানুষেরা কি জান্নাতে যাবেন না জাহান্নামে যাবেন ?

২. অমুসলিমদের মধ্যে যারা জীবনের সকল কর্ম মানুষের কল্যাণার্থে করেছে। সে মানুষগুলো পরকালে কি কোনো প্রতিদান পাবেন না?

৩. অমুসলিম এটা কি তাদের দোষ যে তারা অমুসলিম ?

৪. আল্লাহ শাস্তি দিলে খারাপ মানুষদের দিতে পারেন কিন্তু ভালো মানুষ কেনো শাস্তি পাবে ?

৫. মুসলিমরা জান্নাতে যাবে আর অমুসলিমরা জাহান্নামে, এটা হলে আল্লাহ সবার জন্য সুবিচার করেছেন বলা যাবে ?

৬. যারা আল্লাহ ও ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানে না। পরকালে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কি সিদ্ধান্ত নেবেন ?

৭.  আল্লাহ কি সব অমুসলিমকে চির জাহান্নামী করবেন ?

৮. যে ‘ত্রিত্ববাদ’ এ বিশ্বাস করে না কিন্তু হযরত ঈসা (আ.) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার ক্ষেত্রে কি সিদ্ধান্ত হবে ?

৯. ইহুদীর ক্ষেত্রেই বা কি ফয়সালা হবে যদি সে কর্মে সৎ হয় ?

অন্যের মঙ্গলে অর্থ ব্যয় করা যার বাস্তব উদাহারণ মাদার তেরেসা।

উপরিউক্ত প্রশ্নসমূহ অনেকেরই মনে গুরপাক খায় কিন্তু এর সঠিক খুজে পাওয়া খুবেই দুস্কর কেননা এ গুলো আকিদা সর্ম্পিক্ত যার ব্যপারে কথা বলতে হলে

খুব হিসাব করে বলতে হবে অন্যথায় ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। নেক কাজ মুসলিম অমুসলিম সকলেই করে থাকে

যেমন সত্য কথা বলা, অসহায়কে সাহায্য করা, অন্যের মঙ্গলে অর্থ ব্যয় করা যার বাস্তব উদাহারণ মাদার তেরেসা, আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখা, পিতা-মাতার হক আদায় করা, মেহমান এবং প্রতিবেশীদের হক আদায় করা

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ بَشِيرٍ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُجَاهِدٍ،

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ ذَبَحَ شَاةً فَقَالَ أَهْدَيْتُمْ لِجَارِي الْيَهُودِيِّ

فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏

مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ঈসা (রহঃ) ….. আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি একটা ছাগল যবাহ করে বলেনঃ

তোমরা কি আমার ইয়াহূদী প্রতিবেশীদের কাছে এর কিছু পাঠিয়েছ? কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ

জিবরীল (আঃ) আমাকে সব সময় প্রতিবেশীর হক আদায় করার জন্য নির্দেশ দিতেন।

এতে আমার মনে হতে থাকে যে, হয়তো তিনি তাকে মীরাছ দেয়ার নির্দেশ দেবেন।

 

কবর পাকা করা কি গুনাহ?

অভাবীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা, ত্যাগ স্বীকার করা ইত্যাদি কাজগুলো ইসলামসহ সকল ধর্মের লোকদের মধ্যে দেখা যায়।

এ কাজগুলো যে সোয়াবের তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বস্রষ্টা চাই সে আল্লাহ হোক বা অন্য কোন স্রষ্টা তিনি প্রতিটি মানুষকে বিবেক বা ‘কমন সেন্স’ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন

وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ

তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না। [ সুরা মুলক ৬৭:১০

বিবেক মানুষকে বুঝতে সাহায্য করে যে, সকল সৃষ্টির একজন স্রষ্টা অবশ্যই আছেন এবং স্রষ্টাই সকল সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের দায়িত্ব হলো, স্রষ্টাপ্রদত্ত বিবেককে কাজে লাগিয়ে ‘সত্য ধর্ম’ অনুসন্ধান করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।

এখন আমরা আমাদের মূল প্রশ্নে আসি। উপরে যে প্রশ্ন গুলো করা হয়েছে তার অধিকাংশই হলো অমুসলিমদের নিয়ে তাদের মধ্যে এক জন মাদার তেরেসা।

তার আগে আমাদের বুঝতে হবে মানুষকে তার জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই দিয়েছেন সেই স্রষ্টা

যিনি বিশ্ব জগতকে সৃষ্টি করেছেন তিনি মুসলিমদের ভাষায় আল্লাহ অন্যদের ভাষায় গড বা ঈস্বর। তিনিই মানুষের জন্যে পাঠিয়েছেন সত্য সুন্দর ও মঙ্গলকর জীবনবিধান।

মানুষকে সদা সৎপথে পরিচালিত করার জন্যে এবং তাদের নৈতিক শিক্ষার জন্যে পাঠিয়েছেন যুগে যুগে নবী ও রাসূল।

মৃত ব্যক্তির জন্য বর্জনীয় ও প্রচলিত বিদআত

এ নবী ও রাসূলগন সাধারণ মনীষীদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। আর এ শ্রেষ্ঠদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর আল্লাহই ইহজগতের এবং পরজগতের স্রষ্টা, মালিক ও প্রভু।

 

الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’ আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। সুরা ফাতিহা ১:২

الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ

যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। সুরা ফাতিহা ১:৩

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

যিনি বিচার দিনের মালিক। সুরা ফাতিহা ১:৪

বিচার দিনের একচ্ছত্র মালিক এবং বিচারকও তিনি। আর সে আল্লাহর প্রভুত্ব, কর্তৃত্ব ও আনুগত্য অস্বীকার করে তাঁর প্রেরিত নবী-রাসূল ও আখিরাতের বিচার দিবসকে অস্বীকার করে

তাঁরই কোনো সৃষ্টির অথবা কোনো কল্পিত বস্তুর উদ্দেশ্যে সৎ কাজ করলে তা গৃহীত হবে কি?

তার সুক্ষ ও ন্যায়বিচার করার জন্য আল্লাহ পরকালের ব্যবস্থা করেছেন। আর যে জিনিসের বিচার হবে তার বিস্তারিত বিবরণ তাঁর পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে সুবিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে দিয়াছেন।

মৃত ব্যক্তির জন্য করণীয়

আল্লাহ কুরআনে বলেন: “যারা আল্লাহর দ্বীন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ যে, তাদের সৎকাজগুলো হবে ভস্মস্তূপের মতো।

مَّثَلُ الَّذِينَ كَفَرُواْ بِرَبِّهِمْ أَعْمَالُهُمْ كَرَمَادٍ اشْتَدَّتْ بِهِ الرِّيحُ فِي يَوْمٍ عَاصِفٍ

لاَّ يَقْدِرُونَ مِمَّا كَسَبُواْ عَلَى شَيْءٍ ذَلِكَ هُوَ الضَّلاَلُ الْبَعِيدُ

যারা স্বীয় পালনকর্তার সত্তার অবিশ্বাসী তাদের অবস্থা এই যে, তাদের কর্মসমূহ ছাইভস্মের মত যার উপর দিয়ে প্রবল বাতাস বয়ে যায় ধূলিঝড়ের দিন।

তাদের উপার্জনের কোন অংশই তাদের করতলগত হবে না। এটাই দুরবর্তী পথভ্রষ্টতা। সুরা ইবরাহীম ১৪:১৮

অর্থাৎ যারা আপন প্রভু আল্লাহর সাথে নিমকহারামী, বিশ্বাসঘাতকতা, স্বেচ্ছাচারিতা অবাধ্যতা ও পাপাচারের আচরণ করেছে এবং দাসত্ব-আনুগত্য

ও ইবাদাত-বন্দেগীর সেসব পন্থা অবলম্বন করতে অস্বীকার করেছে- যার আহ্বান নিয়ে এসেছিলেন আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম (নবীগণ), তাদের জীবনের পরিপূর্ণ কার্যকলাপ

এবং সারা জীবনের কাজ ও চরিত্রের মূলধন অবশেষে এমন ব্যর্থ ও অর্থহীন হয়ে পড়বে, যেনো একটা বিরাট ভস্মস্তূপ ধীরে ধীরে জমে উঠে পাহাড় পর্বতের আকার ধারন করেছে;

কিন্তু একটি দিনের প্রচণ্ড বায়ুতে তার প্রতিটি ভস্মকণা শূন্যে বিলীন হয়ে যাবে। তাদের প্রতারণামূলক সুন্দর সভ্যতা ও কৃষ্টি-কালচার

তাদের বিস্ময়কর শিল্পকলা ও স্থাপত্য শিল্প, বিরাট বিরাট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ললিতকলা, প্রভৃতি অনন্ত সম্ভার এমন কি তাদের উপাসনা-আরাধনা,

প্রকাশ্য সৎকাজগুলো, দান-খয়ারত ও জনহিতকর কার্যাবলী একটা বিরাট ভস্মস্তূপ বলেই প্রমাণিত হবে। তাদের এসব গর্ব অহংকারের ক্রিয়াকলাপ

আখেরাতের বিচার দিনে বিচারের দাঁড়িপাল্লায় কোনো ওজন বা গুরুত্বের অধিকারী হবে না। আল্লাহ আরও বলেন: “তোমাদের মধ্যে যারা দ্বীন ইসলাম থেকে ফিরে যাবে

কবরস্থ করার সুন্নত পদ্ধতি

এবং কুফরী (বা অবাধ্যতার) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সকল সৎকাজগুলো বিনষ্ট হয়ে যাবে। তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ اللّهِ

وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ اللّهِ

وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ وَلاَ يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىَ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُواْ

وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُوْلَـئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا

وَالآخِرَةِ وَأُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ।

আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারা মের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা,

আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ।

বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়।

তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে।

আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে। সুরা বাকারা ২:২১৭

যুক্তিসঙ্গত কারণেই ইসলাম সৎ কাজ গৃহীত হওয়ার জন্য ঈমান (বা বিশ্বাসকে) কে শর্ত বলে নির্ধারণ করেছে।

মাহফিল করার সঠিক তরীকা

আল্লাহ বলেন,
(ক)

وَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتَ مِن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى

وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُوْلَـئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلاَ يُظْلَمُونَ نَقِيرًا

যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়,

তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণ ও নষ্ট হবে না। সুরা নিসা ৪:১২৪

(খ)

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً

وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ

যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমাণদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব

এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরষ্কার দেব যা তারা করত। সুরা নাহল ১৬:৯৭

(গ)

مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ

أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُوْلَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ

যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তথায় তাদেরকে বে-হিসাব রিযিক দেয়া হবে। সুরা মু’মিন ৪০:৪০

উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে সৎ কাজের জন্যে পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক বারেই এ শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, সৎ কাজ সম্পাদনকারীকে অবশ্যই মুমিন হতে হবে।

ইসলামী বুনিয়াদী আকীদাগুলোর প্রতি ঈমান আনার পরই সৎ কাজের পুরষ্কার পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, ঈমান হলো সৎ কাজ গৃহীত হবার পূর্বশর্ত।

আল্লাহ, তাঁর কিতাব, রাসূল (বার্তাবাহক) এবং আখিরাত প্রভৃতির উপর প্রথমে ঈমান আনতে হবে। তারপর সৎকাজ কি কি তাও বলে দেওয়া হয়েছে।

মাদার তেরেসা এর জন্য জরুরী ছিল আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।

এ সৎকাজগুলো নবী-রাসূলগণ বাস্তব জীবনে স্বয়ং দেখিয়েছেন। তাদের বলে দেওয়া (বা প্রদর্শিত) পন্থা-পদ্ধতি অনুযায়ী সে কাজগুলো করতে হবে।

এ কাজের লক্ষ্য হবে, যাকে স্রষ্টা, রিযিকদাতা, মালিক, প্রভু, বাদশাহ ও শাসক হিসেবে মেনে নেওয়া হলো (যার অর্থ ঈমান আনা হলো),

তাঁর সন্তুষ্টিলাভের জন্যেই সেসব সৎ কাজ করা হবে। পুরষ্কার দেওয়ার একমাত্র অধিকার যার- তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও তাঁর সন্তুষ্টিলাভের ইচ্ছা যদি না থাকে

তাহলে পুরষ্কার আসবে কোথা থেকে? সে জন্যে পরকালীন মুক্তি ও পুরষ্কার নির্ভর করছে সৎ আমালের উপর এবং সৎ আমাল ফলদায়ক হবে ঈমানের সাথে।

আল্লাহ কুরআনে কোথাও বলেননি যে, কাফিরদের প্রাচুর্য দেওয়া হবে না। বরং আল্লাহ পরিষ্কার বলেছেন, “যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই।

مَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ

وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ

যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে,

আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না। সুরা শূরা ৪২:২০

অর্থাৎ, এ অস্বীকারকারীরা যতোই চেষ্টা করুক না কেনো, দুনিয়ার যতোটা অর্জন করতে চায় তা তারা পুরোপুরি পাবে না, বরং তার একটা অংশমাত্র

অর্থাৎ আল্লাহ তার জন্য যতোটা নিদিষ্ট করে রেখেছেন ততোটাই পাবে।

মাদার তেরেসা এর মত যারা আছে তারা দুনিয়ায় ভালো কাজ করুক বা না করুক, তাদের স্থান হবে জাহান্নামে।

আল্লাহ বলছেন:

قُل لاَّ يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ

فَاتَّقُواْ اللّهَ يَا أُوْلِي الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

বলে দিনঃ অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে বিস্মিত করে। অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ,

আল্লাহকে ভয় কর-যাতে তোমরা মুক্তি পাও। সুরা মায়েদা ৫:১০০

মোটকথা, কুরআন হাকীমের প্রায় পাতায় পাতায় একথা দ্ব্যথহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, যারাই আল্লাহর প্রেরিত দ্বীনে হক (বা সত্য জীবনবিধান) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে,

তারা এ দুনিয়ায় কোনো ভালো কাজ করুক বা না করুক, তাদের স্থান হবে জাহান্নামে। আল্লাহর কাছে প্রতিদান চাইলে আল্লাহর জানানো বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে।

কেননা সে দিন আল্লাহ ছাড়া সেদিন কোনো শক্তিমান সত্তা থাকবে কি যে কাউকে কোনো পুরষ্কার অথবা শাস্তি দিতে পারে? বেহেশতের দাবি দাওয়া নিয়ে কোনো শ্লোগান,  কোনো বিক্ষোভ মিছিল করার ক্ষমতা, সাহস ও স্পর্ধা হবে কি?

আল্লাহ আমাদের সকলকে উক্ত আলোচনা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।

মাও. ইবরাহিম মোস্তফা
মাও. ইবরাহিম মোস্তফা

 

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. দোয়া কবুলের শর্ত সমূহ | আমল কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় | Bangla Islam

Comments are closed.