মাগরিবের আজানের পর নামাজের জন্য কি পরিমান বিলম্ব করা উচিত।

মাগরিবের আজানের পর
মাগরিবের আজানের পর

মাগরিবের আজানের পর নামাজের জন্য কি পরিমান বিলম্ব করা উচিত।

দেশের অনেক যায়গায় দেখা যায় মাগরিবের আজানের পর দীর্ঘ সময় বিলম্ব করে নামাজ পড়া হয়। যেমন রমজানে ১০ থেকে ২০ মিনিট।

আর রমজান ছাড়া ৫ থেকে ১০ মিনিট বিলম্ব করা হয়। আর কোথাও দেখা যায় পাঁচ মিনিটের কম। এখন প্রশ্ন হল আসলে মাগরিবের আজানের পর জামাত কি পরিমান বিলম্ব করে পড়া উচিত?

আজ আমরা “মাগরিবের আজানের পর নামাজের জন্য কি পরিমান বিলম্ব করা উচিত।” এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ইসলাম (BanglaIslam .net)

এর পক্ষ থেকে দলিল ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করে শুরু করছি…

মাগরিবের আজানের পর এ পরিমাণ বিলম্ব করা উচিত যে, মোয়াজ্জিন স্বাভাবিক ভাবে আযানের স্থান থেকে আজান দিয়ে তার ইকামতের স্থানে পৌঁছাতে পারে।

এবং আযানের পরে দোয়া দরুদ থেকে পারেগ হতে পারে। তবে অনেক স্থানে অজু-ইস্তিন্জার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেকেরেই তাকবীরে উলা ছুটে যায়।

তাই সেসব স্থানে মুসল্লিদের সুবিধার্থে কিছু সময় বিলম্ব করা যেতে পারে। যাতে তারাও অজু-ইস্তিন্জা থেকে দ্রুত পারেগ হয়ে তাকবীরে উলার সাথে জামাত পেয়ে যায়।

সঠিকটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

মাগরিবের আজানের পর নামাজের জন্য কি পরিমান বিলম্ব করা উচিত তার দলিল সমূহ।

وَيَجْلِسُ بَيْنَهُمَا بِقَدْرِ مَا يَحْضُرُ الْمُلَازِمُونَ مُرَاعِيًا لِوَقْتِ النَّدْبِ إلَّا فِي الْمَغْرِبِ

قَوْلُهُ: إلَّا فِي الْمَغْرِبِ قَالَ فِي الدُّرَرِ: هَذَا اسْتِثْنَاءٌ مِنْ يُثَوِّبُ وَيَجْلِسُ

لِأَنَّ التَّثْوِيبَ لِإِعْلَامِ الْجَمَاعَةِ وَهُمْ فِي الْمَغْرِبِ حَاضِرُونَ لِضِيقِ الْوَقْتِ. اهـ

وَاعْتَرَضَهُ فِي النَّهْرِ بِأَنَّهُ مُنَافٍ لِقَوْلِ الْكُلِّ فِي الْكُلِّ. قَالَ الشَّيْخُ إسْمَاعِيلُ

وَلَيْسَ كَذَلِكَ، لِمَا مَرَّ عَنْ الْعِنَايَةِ مِنْ اسْتِثْنَاءِ الْمَغْرِبِ فِي التَّثْوِيبِ

وَبِهِ جَزَمَ فِي غُرَرِ الْأَذْكَارِ وَالنِّهَايَةِ وَالْبُرْجُنْدِيِّ وَابْنِ مَلَكٍ وَغَيْرِهِمَا. اهـ.
——–
ص389 – كتاب الدر المختار وحاشية ابن عابدين رد المحتار – باب الأذان

وَالْوَصْلُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ مَكْرُوهٌ بِالِاتِّفَاقِ. كَذَا فِي مِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ

وَالْأَوْلَى لِلْمُؤَذِّنِ فِي الصَّلَاةِ الَّتِي قَبْلَهَا تَطَوُّعٌ مَسْنُونٌ أَوْ مُسْتَحَبٌّ أَنْ يَتَطَوَّعَ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ

هَكَذَا فِي مُحِيطِ السَّرَخْسِيِّ فَإِنْ لَمْ يَصِلْ يَجْلِسْ بَيْنَهُمَا وَأَمَّا إذَا كَانَ فِي الْمَغْرِبِ

فَالْمُسْتَحَبُّ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِسَكْتَةٍ يَسْكُتُ قَائِمًا مِقْدَارَ مَا يَتَمَكَّنُ مِنْ قِرَاءَةِ ثَلَاثِ آيَاتٍ قِصَارٍ

هَكَذَا فِي النِّهَايَةِ فَقَدْ اتَّفَقُوا عَلَى أَنَّ الْفَصْلَ لَا بُدَّ مِنْهُ فِيهِ أَيْضًا. كَذَا فِي الْعَتَّابِيَّةِ.

وَاخْتَلَفُوا فِي مِقْدَارِ الْفَصْلِ فَعِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ – رَحِمَهُ اللَّهُ 

الْمُسْتَحَبُّ أَنْ يَفْصِلَ بَيْنَهُمَا بِسَكْتَةٍ يَسْكُتُ قَائِمًا سَاعَةً ثُمَّ يُقِيمُ

وَمِقْدَارُ السَّكْتَةِ عِنْدَهُ قَدْرُ مَا يُمْكِنُ فِيهِ مِنْ قِرَاءَةِ ثَلَاثِ آيَاتٍ قِصَارٍ أَوْ آيَةٍ طَوِيلَةٍ

وَعِنْدَهُمَا يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِجَلْسَةٍ خَفِيفَةٍ مِقْدَارَ الْجِلْسَةِ بَيْنَ الْخُطْبَتَيْنِ

وَذَكَرَ الْإِمَامُ الْحَلْوَانِيُّ الْخِلَافَ فِي الْأَفْضَلِيَّةِ حَتَّى إنَّ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ – رَحِمَهُ اللَّهُ 

إنْ جَلَسَ جَازَ وَالْأَفْضَلُ أَنْ لَا يَجْلِسَ وَعِنْدَهُمَا عَلَى الْعَكْسِ. كَذَا فِي النِّهَايَةِ.

وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَدْعُوَ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ. كَذَا فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ.

وَيَنْتَظِرُ الْمُؤَذِّنُ النَّاسَ وَيُقِيمُ لِلضَّعِيفِ الْمُسْتَعْجِلِ وَلَا يَنْتَظِرُ رَئِيسَ الْمَحَلَّةِ وَكَبِيرَهَا. كَذَا فِي مِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ.

يَنْبَغِي أَنْ يُؤَذِّنَ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ وَيُقِيمَ فِي وَسَطِهِ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُتَوَضِّئُ مِنْ وُضُوئِهِ

وَالْمُصَلِّي مِنْ صَلَاتِهِ وَالْمُعْتَصِرُ مِنْ قَضَاءِ حَاجَتِهِ. كَذَا فِي التَّتَارْخَانِيَّة نَاقِلًا عَنْ الْحُجَّةِ.
——–
ص57 – كتاب الفتاوى الهندية – الفصل الثاني في كلمات الأذان والإقامة وكيفيتهما

 

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. মাগরিবের নামাযের সময়ের বিস্তারিত বর্ণনা। - বাংলা ইসলাম

Comments are closed.