মহররম মাসের ফজিলত | মহররমের রোজা | মহররম মাসের আমল | Ashura 2021

মহররম মাসের ফজিলত
মহররম মাসের ফজিলত মহররমের রোজা মহররম মাসের আমল Ashura 2021

মহররম মাসের ফজিলত।

মহররম মাস সম্মানিত একটি মাস এ মাসের সাথে ইসলামের অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। এছাড়াও মহররম মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কাছে অনেক বেশি।

যেমন কোরআনে এ মাস সহ আরও তিনটি মাসকে অর্থাৎ রজব, জিলকদ ও জিলহজকে সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

যে মাসগুলোতে কোন ধরনের অন্যায় অত্যাচার খুন-খারাবি মোটকথা সব ধরনের অপরাধ কষ্টদায়ক কাজকে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আর আল্লাহ কোরআনের সূরা তাওবার ৩৬ নং আয়াতে ঘোষণা করেন এ মাসগুলোতে তোমরা একে অপরের উপর জুলুম অত্যাচার করো না।

সুতরাং এই আয়াত ও মাস মুসলিম সহ সমগ্র জাতিকে শান্তির একটি ম্যাসেজ দিয়েছে যে, এবছর প্রত্যেকটি মানুষ যেন শান্তি ও সমৃদ্ধির সাথে কাটাতে পারে।

মহররম মাসের ফজিলত পেতে শিয়ারা কেন বারাবাড়ী করে?

বিশেষ করে এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে যাকে পাওয়ার জন্য অর্থাৎ মহররম মাসের ফজিলত পাওয়ার জন্য সবাই বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায় অধিক আগ্রহে চাতক পাখির ন্যয় অপেক্ষা করতে থাকে।

কেননা তারা মনে করে ওই দিনে এমন কিছু কর্মকান্ড রয়েছে যার মাধ্যমে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নৈকট্য অর্জন করতে পারবে।

আর ঐ দিনটি হল দশে মহরম বা আয়্যামে আশুরা অর্থাৎ মহররমের ১০ তারিখ।

বিষয়টি ইসলামে এমন নয় যেমনটা তারা ধারণা করে। এজন্য যে দুনিয়া সৃষ্টির শুরু থেকে আল্লাহর কাছে এই মাস মহাসম্মানিত।

এইজন্য বলা হয়ে থাকে দশে মহরম আল্লাহ দুনিয়া সৃষ্টি করে শেষ করেছেন। জান্নাত জাহান্নাম এই দিনে তৈরি করেছেন।

হযরত আদম আ. কে এই দিনে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে পুনরায় এই দিনে আরাফার ময়দানে মিলিত করা হয়েছে।

হযরত নূহ আ. এর নৌকা এদিনে তীরে এসে ভিড়েছে। হযরত ঈসা আ. কে এই দিনে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এবং হযরত মুসা আ. ফেরাউনের জুলুম অত্যাচার থেকে ১০ ই মহররম এ নাজাত দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে ফেরাউন ও তার জাতিকে নীলনদের পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছে।

আশুরার দিনে রসুল সা. কি আমল করেছে?

যার প্রমাণ পাওয়া যায় রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এক হাদিস থেকে যে বর্ণিত রয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় গেলেন।

তখন সেখানে বনী ইসরাঈল তথা ইয়াহুদীদের দেখলেন তারা মহররম মাসের ফজিলত পেতে দশে মহরম রোজা রাখে।

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন। ইহুদিরা কেন এই দিনে রোজা রাখে? তখন সাহাবীরা উত্তর দিলো এই জন্য যে,

এই দিন আল্লাহ বনী-ইসরাঈলকে এবং হযরত মূসা আ. কে ফেরাউনের জুলুম অত্যাচার থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তাই শুকরিয়া সুরুপ তারা এ দিনে রোজা রাখে।

তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন;

أنا أحق بموسى منكم فصامه وأمر بصيامه

অর্থাৎ শুকরিয়া আদায় করার ক্ষেত্রে বনী-ইসরাঈলের তুলনায় আমরা বেশি মূসা আলাইহিস সালাতু সালাম এর হকদার।

অতঃপর তিনি রোযা রাখেন এবং রোযার আদেশ দেন।

কেননা হযরত মুসা আ. এবং তখনকার বনী-ইসরাঈল হকের উপর ছিল। এবং ইসলামের উপর ছিল।

১০ মহররম এর শিক্ষা।

আর ইসলাম তো এটাই শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহ যখন যে নিয়ামত দান করেন তখনই সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা।

সুতরাং আমরাও এই দিনে রোজা রাখব বরংচ আরো একটি বেশি রাখবো যেমন হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।

কেননা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন যে,

আল্লাহ যদি আমাকে আগামী বছর পর্যন্ত হায়াত দেন তাহলে দশে মহরম এর সাথে আগে বা পরে মিলিয়ে আরো একটি রোজা রাখব।

এজন্য সুন্নত হল ০৯, ১০ বা ১০, ১১ তারিখে রোজা রাখা। যাতে সুন্নতের উপর পূর্ণ আমল হয়ে যায়। কেননা হাদীসে এসেছে;

“خَالِفُوا الْيَهُودَ فإِنّهُمْ لا يُصَلّونَ في نِعَالِهِمْ وَلاَ خِفَافِهِمْ”

অর্থাৎ ইয়াহুদী ও নাসারাদের খেলাপ করো।

আমরা যদি ১০ মহররম অর্থাৎ আশুরাকে সত্যিকারে অন্তর দিয়ে মূল্যায়ন করতে চাই।

তাহলে কোরআন-হাদিস আমাদেরকে যে কাজ যেভাবে শিক্ষা দিয়েছে ওই কাজ ঐ ভাবে করতে হবে।

এ দিনকে কি ভাবে মূল্যায়ন হবে?

তাহলে এদিনের সত্যিকারে মূল্যায়ন হবে। আর ইহাই আমাদের জন্য করণীয়। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা হলো।

যে কাজ যেভাবে রসুল ও সাহাবীদের থেকে বর্ণিত তা সেই ভাবে করা।

তাতে কমবেশি না করা। যেমনটা করে থাকে শিয়া সম্প্রদায়। তারা হযরত আলী রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু এর প্রতি অতিভক্তি দেখিয়ে মাতম করে থাকে। বুক চাপড়াতে থাকে।

শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। যা শরীয়ত কখনো সমর্থন করেনা।

তারা মনে করে এমনটা করার কারণে রসুলের কলিজার টুকরা হযরত হুসাইন রা. কে কারবালার ময়দানে যে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে তার কিছু কষ্ট লাঘব হবে।

এবং এতে রসূল খুশি হয়ে যাবে।

হাই বিষয়টি এমন নয়। যেমনটা তারা ভেবেছে। কেননা আল্লাহর নিয়ম এমন যে, যেই গুনাহ করবে সে সেই গুনার বোঝা বহন করবে।

ওইখানে অর্থাৎ কারবালার ময়দানে যারা হযরত হুসাইন কে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের গুনাহ তাদেরকে বহন করতে হবে।

এখানে আমরা হাজারো মাতাম করিনা কেন এতে কোনো ফায়দা হবে না। বরং আরও গুনা হবে।

এজন্য যে মাতম, তাজিয়া, শোক মিছিল ইত্যাদির নামে এমন কর্মকারক কান্ড করা হয় যা সরাসরি শরীয়তবিরোধী।

আমরা এই দিনে কি করব?

তাহলে এখন প্রশ্ন দাঁড়াবে আমরা এই দিনে কি করব? উত্তর একটাই যা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করে আসছি।

অর্থাৎ কোরআন ও হাদিসে যা আছে তাই করবো তাতে কমবেশি করা ব্যতীত।

অর্থাৎ দুইটা রোজা রাখব শুকরিয়া শুরুপ সাথে-সাথে আরো একটি আমল করব যা হাদীসে বর্ণিত রয়েছে নিজের পরিবার পরিজনদের জন্য উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করা।

কেননা হাদীসে আসছে;

 

من وسع على أهله يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته

যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবার-পরিজনের রিযিক প্রশস্ত করবে আল্লাহ তা’আলা সারাবছর তার রিযিক প্রশস্ত করে দিবেন।

আল্লাহ আমাদেরকে উক্ত আলোচনা বুঝেশুনে আমল করার তৌফিক দান করুক। আমিন।

Facebook Comments