মসজিদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে নামাজ।

নির্ধারিত সময়ে নামাজ
নির্ধারিত সময়ে নামাজ

মসজিদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে নামাজ।

পাঞ্জেগানা বা জামে মসজিদে নামাজের জামাতের সময় নির্ধারণ করে রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা; যেমন যোহরের জন্য 1:30 pm

আসরের জন্য 5:00 pm ইত্যাদি জায়েজ আছে কি? কেননা অনেক মসজিদে দেখা যায় এ বিষয়টিকে ওয়াজিবের মতো জরুরী মনে করা হয়।

যার কারণে অনেক মসজিদের ইমামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকে সময়ের প্রতি লক্ষ না রাখার কারণে।

আজ আমরা “মসজিদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে নামাজ” এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ইসলাম (BanglaIslam .net) এর পক্ষ থেকে দলিল ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করে শুরু করছি।

নামাজের পূর্ণ সময়ের যেকোনো সময়ে নামাজ আদায় করলে নামায আদায় হয়ে যাবে। তবে নামাজ জামাতের সাথে আদায় করার সুবিধার্থে

সময় নির্ধারণ করা হারাম বা নাজায়েজ নয়। কেননা যদি সময় নির্ধারণ না থাকে তাহলে কেউ একজন নামাজের প্রথম ওয়াক্তে আসলে

তাকে দীর্ঘ সময় জামাতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আর কেহ বিলম্ব করে আসার কারণে জামাতেই পাবে না। আর এই সমস্যাটি ইসলামের প্রথম যুগেও ছিল। আর তখন ঘড়ি না থাকার কারণে আযানের হুকুম আসে।

যাতে আযান শুনে সকলের মসজিদে চলে আসে এবং কেহ জামাত থেকে বঞ্চিত না হয়। আর হাদিসে এমনটাই বর্ণিত রয়েছে; যে,

আযান ও জামাতের মাঝে এতোটুকু সময় রাখবে, যাতে করে একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে অযু এস্তেঞ্জা থেকে অবসর হতে পারে।

এবং জামাতে সহজে শরিক হতে পারে।

আর ইমামের জন্য মসজিদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। মাঝে মাঝে ইমামের বিলম্ব হলে মুসল্লীদেরও উচিত তার উপর কঠুরতা না করা।

সঠিকটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

মসজিদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় তার দলিল সমূহ।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ…عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِبِلاَلٍ

يَا بِلاَلُ إِذَا أَذَّنْتَ فَتَرَسَّلْ فِي أَذَانِكَ وَإِذَا أَقَمْتَ فَاحْدُرْ

وَاجْعَلْ بَيْنَ أَذَانِكَ وَإِقَامَتِكَ قَدْرَ مَا يَفْرُغُ الآكِلُ مِنْ أَكْلِهِ وَالشَّارِبُ مِنْ شُرْبِهِ

وَالْمُعْتَصِرُ إِذَا دَخَلَ لِقَضَاءِ حَاجَتِهِ وَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي ‏”

জাবির ইবনু আদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ

হে বিলাল! যখন তুমি আযান দিবে, ধীরস্থিরভাবে ও দীর্ঘস্বরে আযান দিবে এবং যখন ইকামাত দিবে তাড়াতাড়ি ও অনুচ্চস্বরে ইকামাত দিবে।

তোমার আযান ও ইকামাতের মাঝখানে এতটুকু সময় ফুরসত দিবে যেন খাবার গ্রহণকারী তার খাবার হতে, পানকারী তার পান হতে

এবং পেশাব-পায়খানারত ব্যক্তি তার পায়খানা-পেশাব হতে অবসর হতে পারে। তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত নামাযে দাড়াবে না।

……

وَيَجْلِسُ بَيْنَهُمَا بِقَدْرِ مَا يَحْضُرُ الْمُلَازِمُونَ مُرَاعِيًا لِوَقْتِ النَّدْبِ إلَّا فِي الْمَغْرِبِ
——–
ص389 – كتاب الدر المختار وحاشية ابن عابدين رد المحتار – باب الأذان

يَنْبَغِي أَنْ يُؤَذِّنَ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ وَيُقِيمَ فِي وَسَطِهِ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُتَوَضِّئُ مِنْ وُضُوئِهِ وَالْمُصَلِّي مِنْ صَلَاتِهِ وَالْمُعْتَصِرُ مِنْ قَضَاءِ حَاجَتِهِ. كَذَا فِي التَّتَارْخَانِيَّة نَاقِلًا عَنْ الْحُجَّةِ.
——–
ص57 – كتاب الفتاوى الهندية – الفصل الثاني في كلمات الأذان والإقامة وكيفيتهما

 

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. রমজানের ফজরের নামাজ তারাতারী আদায়। - বাংলা ইসলাম

Comments are closed.