হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী নাকি মাটির

নূরের তৈরী নাকি মাটির
হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী নাকি মাটির

হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী নাকি মাটির

ইসলাম ধর্ম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। তাই হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী নাকি মাটির সেই বিষয়ে একটি সঠিক দিক-নির্দেশনা থাকবে এটাই সাভাবিক। কেননা ইসলামের কোন বিধান এমন নয় যাতে শিথিলতা বা বাড়াবাড়ি করা যায়।

শরী‘আত অনুযায়ী আমল করা যেমন অপরিহার্য তেমনী ভাবে সঠিক আক্বীদা-বিশ্বাস পোষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর জরূরী কর্তব্য।

আল্লাহ তা‘আলা বহু সংখ্যক মাখলূক সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে তিন শ্রেণীর মাখলূক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মধ্যে প্রথম: মাটির মানুষ,  দ্বিতীয়: নূরের তৈরী ফিরিস্তা, তৃতীয়: আগুনের তৈরী জিন জাতি।

নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিসের তৈরী। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা-বিশ্বাস এই যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম শ্রেণীর মাখলূক, তথা-মাটির তৈরী মানুষ

তিনি নূরের তৈরী বা আগুনের তৈরী ছিলেন না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টিগতভাবে সকল মানুষের মতই মানুষ ছিলেন।

আর লক্ষাধিক নবী-রাসূলসহ সকল মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা মাটির উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছেন।

কুরআন-সুন্নাহর যে সকল জায়গায় ‘নূর’ শব্দ ব্যবহার করে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বোঝানো হয়েছে, সবখানে এই অর্থই উদ্দেশ্য যে, তিনি ছিলেন মানব এবং জিন জাতির জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা।

তাঁর সৃষ্টি নূরের তৈরী নাকি মাটির ও উন্নত চরিত্রর ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ

আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। সুরা কালাম আয়াত : ৪

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেনঃ

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً

যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। সুরা আহযাব ৩৩:২১

এখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সৃষ্টিগত অবস্থা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য নয়। কারণ তাঁকে নূরের তৈরী বিশ্বাস করলে

তাঁকে প্রথম শ্রেণীর মাখলূক থেকে নামিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর মাখলূক সাব্যস্ত করা হয়, যা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে স্পষ্ট বে-আদবী।

কারণ এটা ইবলিস শয়তানের বিশ্বাস। এ কারণেই সে মাটির তৈরী হযরত আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে সিজদা করতে রাজি হয় নি।

যারা বলে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী ছিলেন

তারা কুরআনে কারীমের এই আয়াত দিয়ে প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করে-

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيراً مِّمَّا كُنتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ

وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ قَدْ جَاءكُم مِّنَ اللّهِ نُورٌ

وَكِتَابٌ مُّبِينٌ

হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন! কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে,

তিনি তার মধ্য থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন। তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে

এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ। সুরা মায়েদা আয়াত : ১৫

তাদের দাবী হলো- উল্লেখিত আয়াতে ‘নূর’ শব্দ দ্বারা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বোঝানো হয়েছে।

নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি নূরের তৈরী না হতেন, তাহলে ‘নূর’ শব্দ কেন ব্যক্ত করা হলো?

নবী নূরের তৈরী নাকি মাটির তাদের এই প্রশ্ন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

কারণ এ আয়াতে ‘নূর’ ও ‘কিতাব’ দ্বারা একই বিষয় বোঝানো হয়েছে। তার প্রমাণ হলো পরবর্তী আয়াত-

يَهْدِي بِهِ اللّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلاَمِ

وَيُخْرِجُهُم مِّنِ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ

وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

এর দ্বারা আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করেন

এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আনয়ন করেন

এবং সরল পথে পরিচালনা করেন। সুরা মায়েদা আয়াত : ১৬

এখানে একবচন ব্যবহার করা হয়েছে । যদি ‘নূর’ দ্বারা ‘নবী’ উদ্দেশ্য হতো, তাহলে দ্বিবচন ব্যবহার করা হতো

এবং বলা হতো يهدي بهما অর্থাৎ এ উভয়ের দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে হিদায়াত দান করেন।

সুতরাং-প্রথমেই বুঝতে হবে মানুষ কিসের তৈরী? কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াত এবং সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে,

মানুষ মাটির তৈরী। নূর বা অগ্নির তৈরী নয়। কয়েকটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করুন:

ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻼﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ

যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেস্তাদের বললেন-আমি মাটির তৈরী মানুষ সৃষ্টি করব। সূরা সোয়াদ আয়াত : ৭১

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে:

ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ

নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি পঁচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা। সূরা হিজর আয়াত: ২৮

অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে:

ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻛَﺎﻟْﻔَﺨَّﺎﺭِ * ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺠَﺎﻥَّ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺭِﺝٍ ﻣِّﻦ ﻧَّﺎﺭٍ

তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে। এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে। সূরা আর রাহমান আয়াত ১৪,১৫

আরো ইরশাদ হয়েছে:

ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ

তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা। সূরা মুমিন আয়াত : ৬

আরো ইরশাদ হয়েছে:

ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻼﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ

আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। সূরা মুমিনুন আয়াত : ১২

এ ছড়া কোরআনে আরো অনেক আয়াত আছে যাতে এ কথা প্রমানিত হয় যে রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরি নূরের তৈরি নয়।

নূর শব্দের ব্যক্ষা

নূর আরবী শব্দ। এই নূর শব্দের অর্থ আলো, জ্যোতি। নূর শব্দটির প্রকৃত অর্থে “দৃশ্যমান” আলো আর রূপক অর্থে “অদৃশ্যমান আলো” তথা হেদায়েত, জ্ঞান ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

কুরআন-হাদিছে উভয় অর্থে নূর শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায় । এ নূরদ্বয়ের মধ্য হতে অদৃশ্য নূরই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উপায়।

তাইতো ফেরেশতাগণ বাহ্যিক নূরের সৃষ্টির পাশাপাশি অদৃশ্য নূরের অধিকারী ছিলেন। আর আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) মাটির সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও

ফেরেশতাদের থেকে অনেক বেশি অদৃশ্য নূরের (জ্ঞানের) অধিকারী ছিলেন বিধায় তার মর্যাদাও ফেরেশতাদের ঊর্ধ্বে।

আর বাশার বা ইনসান শব্দের অর্থ হল মানবজাতি, আদম সন্তান। ইবলিশ সয়তানের কাজ হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করা। সে যেভাবে পারা যায়।

ইবলিশ মানুষকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে

এই বিভ্রান্ত করার কাজে সে কোরআন হাদিস কেও ব্যবহার করার চেষ্টা করে। যে আয়াত গুলো ব্যাখ্যামুলক, সাধারণত সেগুলো দিয়েই ইবলিশ মানুষকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

কোরআনের কিছু আয়াত আছে যেগুলো ভাবার্থে নাজিল হয়েছে। এই আয়াত গুলো বোঝার জন্য ব্যাখ্যা, প্রেক্ষাপট জানতে হয়। আল্লাহ্‌পাক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্দেশ্য করে বলছেনঃ

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ

فَاسْتَقِيمُوا إِلَيْهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ وَوَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِينَ

বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ,

অতএব তাঁর দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ। সুরা হা-মীম আয়াত : ৬

কোরআনে আরো বর্ণিত রয়েছে:

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاء رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে। সুরা কা’হফ আয়াত : ১১০

উপরের আয়াতগুলোর মত অনেক আয়াতে আল্লহপাক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিচ্ছেন প্রকাশ্যে ঘোষণা দেবার জন্য যে, তিনিও একজন মানুষ। অন্যদের সাথে পার্থক্য এই যে উনার ওপর অহী নাজিল হয়েছে।

এই বিতর্ক ইবলিশ আজকের থেকে চালু করেনি। সেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় থেকেই চেষ্টা করেছে মানুষের ঈমান নষ্ট করতে। আরবের কাফেররা বলাবলি করতো,

আরে সে যদি রাসুল হয় তাহলে মানুষ হয় কিভাবে।

আমাদের কাছে তো ফেরেশতা আসেনা, সে মানুষ হলে তাঁর কাছে আসে কিভাবে? এটাতো খুবই আশ্চর্য বিষয়।

এই কথার জবাব দিতেই আল্লাহ্‌ ঘোষণা করেনঃ

أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِّنْهُمْ أَنْ أَنذِرِ النَّاسَ

وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُواْ أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِندَ رَبِّهِمْ

قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَـذَا لَسَاحِرٌ مُّبِينٌ

মানুষের কাছে কি আশ্চর্য লাগছে যে, আমি ওহী পাঠিয়েছি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের কাছে যেন তিনি মানুষকে সতর্ক করেন

এবং সুসংবাদ শুনিয়ে দেন ঈমনাদারগণকে যে, তাঁদের জন্য সত্য মর্যাদা রয়েছে তাঁদের পালনকর্তার কাছে।

কাফেররা বলতে লাগল, নিঃসন্দেহে এ লোক প্রকাশ্য যাদুকর। সুরা ইউনুস আয়াত : ২

উপরের আয়াতগুলি পড়ে আপনি কি কিছু বুঝতে পারছেন? এখানে আল্লাহ কি বলছেন? যদি কোরানের কথা আমরা মেনে নিই তাহলে তো কোন বিতর্ক থাকার কথাই নয়।

এবার দেখি হাদিসে কি আছে:

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ…عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَذْهَبَ عَنْكُمْ عُبِّيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَفَخْرَهَا بِالآبَاءِ

مُؤْمِنٌ تَقِيٌّ وَفَاجِرٌ شَقِيٌّ أَنْتُمْ بَنُو آدَمَ وَآدَمُ مِنْ تُرَابٍ

لَيَدَعَنَّ رِجَالٌ فَخْرَهُمْ بِأَقْوَامٍ إِنَّمَا هُمْ فَحْمٌ مِنْ فَحْمِ جَهَنَّمَ

أَوْ لَيَكُونُنَّ أَهْوَنَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الْجِعْلاَنِ الَّتِي تَدْفَعُ بِأَنْفِهَا النَّتْنَ ‏”‏ ‏.‏

মূসা ইবন মারওয়ান (রহঃ) …. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

মহান আল্লাহ্‌ তোমাদের থেকে জাহিলী যুগের মিথ্যা অহংকার এবং বাপ-দাদাদের নিয়ে গর্ব করাকে দূর করেছেন।

মু’মিন হলো- নেক-বখত এবং ফাসিক হলো- বদ-বখত। তোমরা সবাই আদমের সন্তান এবং আদম (আঃ)-কে মাটি থেকে তৈরী করা হয়।

কাজেই লোকদের উচিত, তারা যেন নিজের কাওমের উপর গর্ব করা পরিহার করে। এখন তো তারা জাহান্নামের কয়লায় পরিণত হয়েছে।

কাজেই তোমরা যদি গর্ব পরিহার না কর, তবে তোমরা ঐ গোবরে পোকার চাইতেও আল্লাহ্‌ নিকট অসম্মানিত হবে, যে তার নাক দিয়ে পায়খানা ও গোবর ঠেলে নিয়ে যায়।

 

আমি তো একজন মানুষ, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই…

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ… قَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ـ

قَالَ إِبْرَاهِيمُ لاَ أَدْرِي زَادَ أَوْ نَقَصَ ـ فَلَمَّا سَلَّمَ قِيلَ لَهُ

يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَحَدَثَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ قَالَ ‏”‏ وَمَا ذَاكَ ‏”‏‏.‏ قَالُوا صَلَّيْتَ كَذَا وَكَذَا‏

فَثَنَى رِجْلَيْهِ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ

فَلَمَّا أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ قَالَ ‏”‏ إِنَّهُ لَوْ حَدَثَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ لَنَبَّأْتُكُمْ بِهِ

وَلَكِنْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ، أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ

فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي، وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَتَحَرَّى الصَّوَابَ

فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ يُسَلِّمْ، ثُمَّ يَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ ‏”‏‏

উসমান (রহঃ) …. আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

রাবী ইবরাহীম (রহঃ) বলেনঃ আমার জানা নেই, তিনি বেশী করেছেন বা কম করেছেন। সালাম ফিরানোর পর তাঁকে বলা হল,

ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাতের মধ্যে নতুন কিছু হয়েছে কি? তিনি বললেনঃ তা কী? তাঁরা বললেনঃ আপনি তো এরূপ এরূপ সালাত আদায় করলেন।

তিনি তখন তাঁর দু’পা ঘুরিয়ে কিবলামুখী হলেন। আর দু’টি সিজদা আদায় করলেন। এরপর সালাম ফিরালেন।

পরে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ যদি সালাত সম্পর্কে নতুন কিছু হতো, তবে অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম।

কিন্তু আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই।

আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হওয়ার চেষ্টা করে

এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। তারপর সে সালাম ফিরিয়ে দু’টি সিজদা আদায় করে।

হযরত ‘মা আয়েশাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়িতে থাকাকালীন কী কাজ করতেন? তদুত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ

তিনি তো অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন। তিনি তার কাপড় সেলাই করতেন, নিজ বকরীর দুধ দোহন করতেন, নিজের সেবা নিজেই করতেন।

প্রিয় পাঠক এর পরও কি আপনাদের সন্দেহ আছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী নাকি মাটির ? এবং তিনি মানুষ ছিলেন না?

তা হলে আমি আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করছি দেখেন উত্তর দিতে পারেন কিনা।

১ |প্রশ্ন: মাটির তৈরী মানুষের সন্তান নুরের হয় কিভাবে ?
২ |প্রশ্ন: নুরের তৈরী মানুষের সাথে মাটির তৈরী মানুষের বিবাহ হয় কিভাবে ?
৩ |প্রশ্ন: নুরের তৈরী মানুষের সন্তান মাটির তৈরী হয় কি ভাবে ?
৪ |প্রশ্ন: নুরের তৈরী মানুষের রক্ত মাটির তৈরী মানুষের মতো হয় কি ভাবে ?
৫ |প্রশ্ন: নুরের তৈরী মানুষের পস্রাব পায়খানা ক্ষুদা কষ্ট আহত অবিকল মাটির তৈরী মানুষের মতো হয় কিভাবে ?                          ৬ |প্রশ্ন: এ আবার কেমন নবী যে সে আমাদের মতোই খায় দায় ঘুমায় সংসার করে ?

এরপরেও যদি কোন মুফাসসির ‘নূর’ দ্বারা ‘নবী’কে উদ্দেশ্য করেন, সে ক্ষেত্রে আয়াতে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ‘নূর’ বলার কারণ এই নয় যে, তিনি নূরের তৈরী ছিলেন।

বরং তাঁকে এই অর্থে ‘নূর’ বলা হয়েছে যে, তিনি হিদায়াত ও মা‘রিফাতের নূরে নূরান্বিত। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দ্বারা মানব ও জিন জাতিকে হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন এবং তাদেরকে শিরক-কুফুরীর অন্ধকার থেকে বের করে ঈমানের নূর দান করেছেন

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে সঠিক আক্বীদা পোষণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. নবী অবমাননার শাস্তি | আল্লাহ পাকের আইনে মুরতাদদের দুনিয়াবী শাস্তি কী

Comments are closed.