পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখন কিভাবে শুরু হয়।

নামাজ কখন কিভাবে শুরু
নামাজ কখন কিভাবে শুরু

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখন কিভাবে শুরু হয়?

ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হল নামাজ। যে নামাজ কখন কিভাবে শুরু হয় তা জানতে পারলে ওয়াক্ত মত এ ফরজ নামাজ আদায় করা আরো সহজ হয়ে যাবে।

যা আল্লাহ তা’আলা এই উম্মতের জন্য মেরাজের রাত্রিতে ফরজ করে দিয়েছেন। এখন জানার বিষয় হল আল্লাহ তা’আলা এই নামাজ গুলো কিসের উপর ভিত্তি করে ফরজ করেন।

অর্থাৎ তা কি পূর্ববর্তী কোন নবী রাসূলদের উপর আবশ্যক ছিল যা পরবর্তীতে এই উম্মতের উপর ফরজ করে দেওয়া হয়েছে। যেমন কোরবানির বিষয়টি।

আজ আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখন কিভাবে শুরু হয় এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ইসলাম (BanglaIslam .net) এর পক্ষ থেকে দলিল ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করে শুরু করছি।

বুখারী, মুসলিম সহ অন্যান্য সহীহ হাদীসের কিতাবে মেরাজের রাত্রিতে নামায ফরয হওয়ার যে বর্ণনা পাওয়া যায় তাহলে দুই দুই  রাকাত করে।

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، – رضى الله عنها – قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ وَزِيدَ فِي صَلاَةِ الْحَضَرِ ‏.‏

আল কানবী (রহঃ) ….. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে ও আবাসে দুই দুই রাকাত নামাজই ফরয করা হয়েছিল।

অতঃপর সফরের সময়ের নামায ঠিক রাখা হয়েছে এবং আবাসের নামায বৃদ্ধি করা হয়েছে (তিন এবং চার রাকাতে)। সুনানে আবু দাউদ : ১১৯৮

পরে পূর্ববর্তী নবীদের অনুকরণে নামাজের রাকাতের পরিবর্তন ঘটে যা বিস্তারিতভাবে ত্বহাবী শরীফে উল্লেখ রয়েছে। যদিও এ হাদিসকে অনেকে জঈফ বলেছেন।

তবে সহী হাদিসে নামাজের ওয়াক্ত সর্ম্পকে আলোচনা এ ভাবে পাওয়া যায়।

সঠিকটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখন কিভাবে শুরু হয় তার দলিল সমূহ।

মুসাদ্দাদ ইবনু মুসারহাদ ….. ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আলাইহিস সালাম)

বায়তুল্লাহ্ শরীফের নিকটে দুইবার আমার নামাযে ইমামতি করেছেন। প্রথমবার তিনি আমাকে নিয়ে যুহয়ের নামায আদায় করেন,

যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে সামান্য ঢলে পড়েছিল এবং সেন্ডেলের এক ফিতা পরিমাণ সামান্য ছায়া বায়তুল্লাহর পূর্ব দিকে দেখা দিয়েছিল।

অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে আসরের নামায আদায় করেন যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তাঁর সম পরিমাণ হয়।

পরে তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের নামায আদায় করেন,

যখন রোযাদার ইফতার করে। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশে এশার নামায আদায় করেন।

পরে তিনি আমাকে নিয়ে ফজরের নামায ঐ সময় আদায় করেন

যখন দিগন্ত উজ্জল হয়ে যায়। অতঃপর তিনি (জিবরীল) আমাকে লক্ষ্য করে বলেনঃ ইয়া মুহাম্মাদ!

আপনার পূর্ববর্তী আম্বীয়াদের জন্য এটাই নামাযের নির্ধারিত সময় এবং এই সময়ের মাঝখানেই নামাযের সময়। সুনানে আবু দাউদ : ৩৯৩

……

مَا حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرَ , قَالَ: سَمِعْتُ بَحْرَ بْنَ الْحَكَمِ الْكَيْسَانِيَّ يَقُولُ

سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ مُحَمَّدٍ ابْنَ عَائِشَةَ يَقُولُ

إِنَّ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ , لَمَا تِيبَ عَلَيْهِ عِنْدَ الْفَجْرِ , صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَصَارَتِ الصُّبْحَ

وَفُدِيَ إِسْحَاقُ عِنْدَ الظُّهْرِ فَصَلَّى إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَرْبَعًا , فَصَارَتِ الظُّهْرَ

وَبُعِثَ عُزَيْرٌ فَقِيلَ لَهُ كَمْ لَبِثْتَ؟ فَقَالَ: يَوْمًا , فَرَأَى الشَّمْسَ فَقَالَ: أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ , فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَصَارَتِ الْعَصْرَ

وَقَدْ قِيلَ غُفِرَ لِعُزَيْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ , وَغُفِرَ لِدَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ , عِنْدَ الْمَغْرِبِ 

فَقَامَ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ , فَجُهِدَ فَجَلَسَ فِي الثَّالِثَةِ , فَصَارَتِ الْمَغْرِبُ ثَلَاثًا

وَأَوَّلُ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ , نَبِيُّنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
——–
ص175 – شرح معاني الآثار – باب الصلاة الوسطى أي الصلوات

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. নামাজে রুকু সেজদা কেন করতে হয়? - বাংলা ইসলাম

Comments are closed.