পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সময়সূচী।

নামাজের সময়সূচী
নামাজের সময়সূচী

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সময়সূচী।

আমরা দৈনিক যে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ পড়ে থাকি। সে ফরজ নামাজের সময়সূচী বিস্তারিত বর্ণনা করুন। যাতে নামাজের শুরু, শেষ ও মাকরুহ ওয়াক্ত স্পষ্ট হয়ে যায়।

এবং হারাম ওয়াক্তে নামায পড়া থেকে যেন সহজে বেঁচে থাকা যায়।

আজ আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচী এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ইসলাম (BanglaIslam .net) এর পক্ষ থেকে দলিল ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করে শুরু করছি।

আমরা দৈনিক যে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ পড়ে থাকি। তার সময়সূচী ফজর থেকে শুরু করছি।

* ফজর শুরু হয় সুবহে সাদিক থেকে, যা শেষ হয় সূর্য উদিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে। আর এ পুরো সময়টাই ফজরের জন্য কামেল ওয়াক্ত।

* যোহরের সময় শুরু হয় ঠিক দ্বিপ্রহরের পর; সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে, যা শেষ হয় প্রত্যেকটি জিনিসের ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।  আর এ পুরো সময়টাই যোহরের কামেল ওয়াক্ত।

* আসার সময় শুরু হয় যোহরের শেষ সময় থেকে, যা শেষ হয় সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখানে সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পূর্ব পর্যন্ত সময় টি আসরের জন্য মুস্তাহাব ওয়াক্ত। এরপর বাকি সময় অর্থাৎ সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত সময়টি মাকরুহ ওয়াক্ত।

* মাগরিবের সময় শুরু হয় সূর্য ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিয়ে, যা শেষ হয়ে যায় পশ্চিম আকাশে শুভ্র রেখা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সূর্য ডুবে যাওয়ার পর আকাশে তারকারাজি খুব প্রকাশ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়টি মাগরিবের মুবাহ ওয়াক্ত। আর তারকারাজি খুব প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত মাকরুহ ওয়াক্ত।

* ইশার সময় শুরু হয় মাগরিবের সময় থেকে, যা শেষ হয় সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইশার সময় শুরু হওয়া থেকে নিয়ে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সময়টি মুস্তাহাব। আর অর্ধ রাত পর্যন্ত সময়টি মুবাহ। তারপর থেকে সোবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত সময়টি মাকরুহ।

নামাযের হারাম ওয়াক্ত।

# নামাজের হারাম ওয়াক্ত হলো; (১)ঠিক সূর্য উদিত হওয়ার শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত। (২) ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়। (৩) সূর্য অস্তমিত হওয়ার শুরু থেকে নিয়ে পূর্ণ অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কেহ যদি ঐ দিনের আসরের নামাজ না পড়ে থাকে। তাহলে ওলামায়ে কেরাম বলে থাকেন যে, সে ঐদিনের আসরের নামাজ ঐ সময়ে পড়ে নিবে।

সঠিকটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সময়সূচী তার দলিল সমূহ।

 

وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّـيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ

আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক। [সুরা হুদ – ১১:১১৪

….

وَقَالَ تَعَالَى وَأَقِمِ الصَّلاةَ طَرَفَيِ النَّهارِ وَزُلَفاً مِنَ اللَّيْلِ روى عمر وعن الحسن في قوله تعالى طَرَفَيِ النَّهارِ

قَالَ صَلَاةُ الْفَجْرِ وَالْأُخْرَى الظُّهْرُ وَالْعَصْرُ وَزُلَفاً مِنَ اللَّيْلِ

قَالَ الْمَغْرِبُ وَالْعِشَاءُ فَعَلَى هَذَا الْقَوْلِ قَدْ انْتَظَمَتْ الْآيَةُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ

وَرَوَى يُونُسُ عَنْ الحسن أقم الصلاة طرفي النهار قَالَ الْفَجْرُ

وَالْعَصْرُ وَرَوَى لَيْثٌ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ أَبِي عِيَاضٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ جَمَعَتْ هَذِهِ الْآيَةُ مَوَاقِيتَ الصَّلَاةِ

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حين تمسون المغرب والعشاء وحين تصبحون الفجر وعشيا العصر

وحين تظهرون الظُّهْرَ وَعَنْ الْحَسَنِ مِثْلُهُ

….

وَرَوَى أَبُو رَزِينٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الغروب

قَالَ الصَّلَاةُ الْمَكْتُوبَةُ وَقَالَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِها وَمِنْ آناءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرافَ النَّهارِ لَعَلَّكَ تَرْضى

وَهَذِهِ الْآيَةُ مُنْتَظِمَةٌ لِأَوْقَاتِ الصَّلَوَاتِ أَيْضًا فَهَذِهِ الْآيَاتُ كُلُّهَا فِيهَا ذِكْرُ أَوْقَاتِ الصَّلَوَاتِ مِنْ غَيْرِ تَحْدِيدٍ لَهَا

إلَّا فِيمَا ذُكِرَ مِنْ الدُّلُوكِ فَإِنَّهُ جَعَلَهُ أَوَّلَ وَقْتٍ لِتِلْكَ الصَّلَاةِ وَوَقْتُ الزَّوَالِ وَالْغُرُوبِ مَعْلُومَانِ

وقَوْله تَعَالَى إِلى غَسَقِ اللَّيْلِ لَيْسَ فِيهِ بَيَانُ نِهَايَةِ الْوَقْتِ بِلَفْظٍ غَيْرِ محتمل للمعاني

وقوله حِينَ تُمْسُونَ إنْ أَرَادَ بِهِ الْمَغْرِبَ كَانَ مَعْلُومًا

وَكَذَلِكَ تصبحون لِأَنَّ وَقْتَ الصُّبْحِ مَعْلُومٌ

وَقَوْلُهُ طَرَفَيِ النَّهارِ لَا دَلَالَةَ فِيهِ عَلَى تَحْدِيدِ الْوَقْتِ لَاحْتِمَالِهِ أَنْ يُرِيدَ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَذَلِكَ لِأَنَّ وَسَطَ
——–
ص249 – كتاب أحكام القرآن للجصاص ت قمحاوي – باب مواقيت الصلاة

….

وَبِمَا تَقَرَّرَ عُلِمَ أَنَّ الْمُرَادَ أَنَّهُ لَا خِلَافَ فِي أَوَّلِهِ وَهُوَ أَصْلُ طُلُوعِ الْفَجْرِ الثَّانِي

وَإِنَّمَا الْخِلَافُ فِي الْمُرَادِ مِنْ الطُّلُوعِ. وَأَمَّا عَدَمُ الْخِلَافِ فِي آخِرِهِ

فَلَمَّا صَرَّحَ بِهِ الطَّحَاوِيُّ وَابْنُ الْمُنْذِرِ مِنْ أَنَّ عَلَيْهِ اتِّفَاقَ الْمُسْلِمِينَ
——–
ص357 – كتاب الدر المختار وحاشية ابن عابدين رد المحتار – كتاب الصلاة

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. মসজিদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে নামাজ। - বাংলা ইসলাম

Comments are closed.