নামাজের জন্য জোরাজুরি করা কি জায়েজ।

নামাজের জন্য জোরাজুরি
নামাজের জন্য জোরাজুরি

নামাজের জন্য জোরাজুরি করা কি জায়েজ?

অনেক কে দেখা যায় নামাজের জন্য জোরাজুরি করতে। যেমন কোন এক মুসলমান অপর মুসলমানকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার জন্য বললো।

চলুন ভাই! নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাই। তখন ঐ ব্যক্তি বললো: ভাই আমি মুসলমান, এবং আমি সর্বদা নামাজ পড়ে থাকি। তবে এখন আমার জরুরী কাজ আছে।

পরে আমি কোন এক মসজিদে নামাজ পড়ে নিব। ইনশাআল্লাহ। এমত অবস্থায় ঐ দাওয়াত দেনেওয়ালা ব্যক্তির জন্য ঐ ব্যক্তিকে নামাজের জন্য জোরাজুরি করা জায়েয হবে কি?

কেননা অনেক সময় দেখা যায় এই সমস্ত কাজের জন্য কথা কাটাকাটিও হয়ে থাকে।

আজ আমরা নামাজের জন্য জোরজুরি করা কি জায়েজ এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ইসলাম (BanglaIslam .net) এর পক্ষ থেকে দলিল ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করে শুরু করছি।

আমরু বিল মারুফ, নামাজ ইত্যাদি প্রতি দাওয়াত দেওয়া ভাল কাজ। কিন্তু এ কাজ অত্যন্ত নরম ও ভদ্রতার সাথে করা চাই।

এমন কোন কথা বলা যাবে না যার দ্বারা বিরক্তি বা লড়াই এর মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। কেননা অধিকাংশ সময় দেখা যায় এ সমস্ত আচরণের কারণে সে ফরযিয়্যাতকেই অস্বিকার করে বসে।

আবার কখনও কখনও মামলা মোকাদ্দমা হয়ে যায়। তাই অত্যন্ত ভদ্র ও নরম ভাষায় দাওয়াতের এ কাজ করতে হবে।

যাতে তাঁর দিল নরম হয়ে যায়। এবং অস্বীকার বা বাহানা করার সুযোগ না পায়।

সঠিকটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

নামাজের জন্য জোরজুরি করা কি জায়েজ তার হুকুমের দলিল সমূহ।

ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়।

নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে

এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে। সুরা নাহল : ১২৫

ادْعُ إِلى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ

إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)

يَقُولُ تَعَالَى آمِرًا رَسُولَهُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَدْعُوَ الْخَلْقَ إِلَى اللَّهِ بِالْحِكْمَةِ. قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ 

وَهُوَ مَا أَنْزَلَهُ عَلَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ

أَيْ بِمَا فِيهِ مِنَ الزَّوَاجِرِ وَالْوَقَائِعِ بِالنَّاسِ

ذَكَّرَهُمْ بِهَا لِيَحْذَرُوا بَأْسَ اللَّهِ تَعَالَى، وَقَوْلُهُ: وَجادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ

أَيْ مَنِ احْتَاجَ مِنْهُمْ إِلَى مُنَاظَرَةٍ وَجِدَالٍ فَلْيَكُنْ بِالْوَجْهِ الْحَسَنِ برفق ولين وحسن خطاب

…………

كقوله تعالى

وَلا تُجادِلُوا أَهْلَ الْكِتابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ [العنكبوت: 46] الآية

فأمره تعالى بلين الجانب كما أمر به مُوسَى وَهَارُون عَلَيْهِمَا السَّلَامُ

حِينَ بَعَثَهُمَا إِلَى فرعون في قوله: فَقُولا لَهُ قَوْلًا لَيِّناً لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشى [طه: 44] .

وَقَوْلُهُ: إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ الآية

أَيْ قَدْ عَلِمَ الشَّقِيَّ مِنْهُمْ وَالسَّعِيدَ، وَكَتَبَ ذَلِكَ عِنْدَهُ وَفَرَغَ مِنْهُ

فَادْعُهُمْ إِلَى اللَّهِ وَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَى مَنْ ضَلَّ مِنْهُمْ حَسَرَاتٍ

فَإِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْكَ هُدَاهُمْ إِنَّمَا أَنْتَ نَذِيرٌ عَلَيْكَ الْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا الْحِسَابُ إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ [القصص: 56]

لَيْسَ عَلَيْكَ هُداهُمْ وَلكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشاءُ [البقرة: 272]

——–
ص526 – تفسير ابن كثير ط العلمية – سورة النحل آية

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. নামাজের জন্য তাবলীগ ও কঠোরতা কখন কিভাবে করবে। - বাংলা ইসলাম

Comments are closed.