নামাজের ইতিহাস : নামাজ কত রাকাত ও কি কি? পার্ট: ১

নামাজের ইতিহাস নামাজ কত রাকাত ও কি কি পার্ট ১
নামাজের ইতিহাস নামাজ কত রাকাত ও কি কি পার্ট ১

নামাজের ইতিহাস : নামায ইসলামের স্তম্ভ সমূহের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ।

তুলনামুলক ঈমান পর একমাত্র নামাযই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। যা নামাজের ইতিহাস থেকে জানা যায়। যার আরবী প্রতিশব্দ “সালাত” এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত বা ক্ষমা ইত্যাদি।

পারিভাষিক অর্থ: ‘শরী‘আত নির্দেশিত বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে বান্দার ক্ষমা ভিক্ষা ও প্রার্থনার আবেদনকে নামায বা ‘সালাত’ বলে।

যা তাকবিরে তাহরিমা দ্বারা শুরু হয়ে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে শেষ হয়।

কুরআনে কতবার নামাযের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বহুবার নামাযের আদেশ পেয়েছেন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

তাইত প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নামাজকে ঈমানের পর পরই স্থান দিয়েছেন। আর নামাজের ইতিহাস এ কথার সাক্ষি দিয়ে থাকে।

নামাজের গুরুত্ব ও উপকারীতা সম্পর্কে সাহাবীদের সামনে অসংখ্য অগণীত হাদিন বর্ণনা করেছেন।

তন্মধ্যে বুখারি ও মুসলিম শরীফে স্বরণ রাখার মত একটি হাদিস উল্লেখ রয়েছে;

হজরত উম্মে ফারওয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন,

روت أم فروة رضي الله عنها قالت : سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الأعمال أفضل ؟ قال : الصلاة في أول وقتها

আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “নামায”।

অনুরুপ ভাবে হজরত আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন; যে,

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সময় শীতকালে বাইরে (কোথা্র) তাশরিফ আনলেন। তখন গাছের পাথা ঝরার মওসুম ছিল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছের একটি ডাল হাত দিয়ে ধরলেন।

নামাজ পড়লে কি লাভ? নামাজের ইতিহাস কি বলে?

সাথে সাথে তার পাতা আরও বেশি পরিমাণে ঝরতে লাগল। অতঃপর তিনি বললেন, হে আবু যর! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি উপস্থিত।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন;

“মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করে, তখন তার থেকে পাপসমূহ এমনী ভাবে ঝরে পড়ে; যেমন ভাবে এ গাছের পাতা ঝরে পড়ছে।”

মেরাজের পূর্বে মুসলিমরা কত ওয়াক্ত নামায পড়েছে?

ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন।

এবং দীর্ঘ সময় পরে সূরা মু’মিন এর ৫৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকাল ও সন্ধ্যায় দৈনিক দুই ওয়াক্ত নামাজ মুসলিমদের জন্য ফরজ (আবশ্যিক) হওয়ার নির্দেশনা লাভ করেন।

فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ

অর্থঃ অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য।

আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

নামাজের ইতিহাস থেকে আরো জানা যায়। তিনি ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে সকাল, সন্ধ্যা ও দুপুরে দৈনিক তিন ওয়াক্ত নামাজের আদেশ লাভ করেন। “এর কোন সঠিক তথ্য জানা নাই।”

৬১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে রজব তারিখে মিরাজের সময় পাঁচওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

মিরাজের সময় মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য উপঢৌকনস্বরূপ

৫০ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে দুনয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন।

পথিমধ্যে মুসা আ. এর পরামর্শক্রমে কয়েকবার আল্লাহর কাছে গিয়ে নামাজের সংখ্যা কমানোর আবেদন জানান। অবশেষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের

(যাতে ৫০ ওয়াক্তের সাওয়াব পাওয়া যাবে) বিধান নিয়ে উম্মতের কাছে ফিরে আসেন।

(বুখারি, হাদিস নং: ৩৪৯, ৩৩৪২, ৩৮৮৭; মুসলিম, হাদিস নং: ২৬৩ ও ২৬৪; ফাতহুল বারি: ৭/২৫০-২৫৯, মা’আরেফুল কোরআন : ৭৬৪-৭৬৫, সিরাতে মুস্তফা : ১/২৮৫-২৮৬)

নামাজের ইতিহাস থেকে জানুন যুহর, আসর ও ইশা কত রাকাত?

উল্লেখ্য যে, এ সময় যুহর, আসর ও ইশা ২ রাকায়াত পড়ার বিধান ছিল।

যেমন আম্মাজান আয়েশা রাযি. বলেন;

فُرِضَتِ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَأُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ، وَزِيدَ فِي صَلَاةِ الْحَضَرِ

মুকিম ও মুসাফির অবস্থায় নামায দু’দু রাক’আত ফরজ করা হয়েছিল।

পরে সফরের নামায ঠিক রাখা হল কিন্তু মুকিমের নামাযে বৃদ্ধি করা হল। (বুখারী ১০৪০ মুসলিম ৬৮৫)

৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহর তরফ থেকে ২ রাকায়াত বিশিষ্ট যুহর, আসর ও ইশাকে ৪ রাকায়াতে উন্নীত করার আদেশ দেয়া হয়।

অপর হাদিসে এসেছে,

عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِى طَرِيقٍ – قَالَ – فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ. قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا أَتْمَمْتُ صَلاَتِى يَا ابْنَ أَخِى

إِنِّى صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ – ﷺ – فِى السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى

وَصَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

ইবনে উমর রাযি. বলেন, নিশ্চয় আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সফর করেছি, তিনি মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি।

রাবী বলেন আমি আবু বকর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও আমরণ সফরে ২ রাকাতই পড়েছেন। আমি উমর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি

তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি।

রেওয়াত কারী আরো বলেন আমি উসমান রাযি. এর সাথেও সফর করেছি,

তিনিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আর আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

আমি তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাঝে রেখেছি উত্তম আদর্শ। (মুসলিম ১৬১১)

 

আমারা নামাজের ইতিহাস থেকে যা জানলাম। সে অনুযায়ী আল্লাহ আমাদের সকলকে সহিহ তরিকায় সঠিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত সময়ে গুরুত্ব সহকারে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Facebook Comments

2 Trackbacks / Pingbacks

  1. হাদিস থেকে নামাজের দলিল | পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দলিল | বাংলা ইসলাম
  2. কোন সময় প্রতি কদমে ১ বছর নফল নামাজ ও রোজার নেকী হয় | Bangla Islam

Comments are closed.