নবী অবমাননার শাস্তি | আল্লাহ পাকের আইনে মুরতাদদের দুনিয়াবী শাস্তি কী

নবী অবমাননার শাস্তি
নবী অবমাননার শাস্তি আল্লাহ পাকের আইনে মুরতাদদের দুনিয়াবী শাস্তি কী

নবী অবমাননার শাস্তি

নাস্তিক্যতা আর ধর্মকে কটাক্ষ্য করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অশ্লিলভাবে উপস্থাপন করা নবী অবমাননার শাস্তি কে আবশ্যক করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যারা গালি দেয়, অপমানিত করে, অসম্মানজনক কথা বলে বা লিখে, সে মুরতাদ। সে তওবা না করলে তাকে হত্যা করা ইসলামের বিধান।

আল্লাহ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন বা ধর্ম মানুষের কাছ থেকে গ্রহণ করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ

وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীনের অনুসরণ করবে, তার পক্ষ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না।

আর পরকালে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। আলে ইমরান আয়াত : ৮৫

যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছুর অনুসারী, তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করা হবে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ

দ্বীন (গ্রহণ)-এর বিষয়ে কোনো জবরদস্তি নেই। হেদায়েতের পথ গোমরাহী থেকে পৃথকরূপে স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুরা বাকারা আয়াত : ২৫৬

একজন মুসলমান ইসলামের সব শাসন মানতে বাধ্য। তাই দুনিয়াতে কোনো গুনাহ করলে সে তার শাস্তি পাবে। যেমন বন্দিত্ব, বেত্রাঘাত, হস্তকর্তন ও মৃত্যুদন্ড ইত্যাদি।

মুসলমানের সবচে বড় গুনাহ হল মুসলিম থেকে অমুসলিম হয়ে যাওয়া। একেই বলে ‘মুরতাদ’ হওয়া। ‘মুরতাদ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ বিমুখ হয়ে যাওয়া। এর মূল মর্ম হল, ইসলাম ত্যাগ করা।

ইসলামের কোনো মৌলিক আকিদা বা বিধানকে মানতে অস্বীকার করা, কিংবা তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করা অথবা ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের অবমাননা করা। ইত্যাদি।

যে সকল কারণে ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যায়। এবং নবী অবমাননার শাস্তি পায়।

১. আল্লাহ তাআলার শানে বেয়াদবি করা।

২. ইসলামের শিআর অবমাননা করা।

ইসলামের মৌলিক শিআর হল: কুরআন, রাসূলুল্লাহ, সাহাবী, নামায, রোযা, হজ্ব,যাকাত, দোয়া, মসজিদে নববী, কা’বা শরীফ, মসজিদে আকসা, পৃথিবীর সকল মসজিদ ইত্যাদি।

মুরতাদ হওয়া অন্য সকল প্রকার কুফরের চেয়ে জগন্য। সাধারণ কুফর হল সত্যদ্বীন গ্রহণ না করা বা প্রকৃত দ্বীন থেকে বিমুখ থাকা। কিন্তু ইরতিদাদ নিছক বিমুখতা নয়, এ হল বিদ্রোহ।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ

وَجَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

কেমন করে আল্লাহ এমন জাতিকে হেদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর

এবং তাদের নিকট প্রমাণ এসে যাওয়ার পর কাফের হয়েছে। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না। সুরা ইমরান আয়াত : ৮৬

অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন:

وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ

فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآَخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ

هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নিজের ধর্ম থেকে ফিরে যায়। আর সে অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায়,

তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের সকল নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে। এই লোকেরাই হল জাহান্নামের অধিবাসী,

তারা চিরকাল সেখানে থাকবে। সুরা বাকারা আয়াত : ২১৭

মুরতাদের এ শাস্তিগুলির ফয়সালা হবে হাশরের ময়দানে। যেখানে ফয়সালাকারী হবেন খোদ আল্লাহ রাববুল আলামীন। দৃশ্য-অদৃশ্য সকল বিষয় সম্পর্কে যিনি অবগত।

তাই দুনিয়াতে যে নিজের ইরতিদাদ ও কুফর লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে, কেয়ামতের দিন সেও অপরাধী সাব্যস্ত হবে। তাকেও কঠিন আযাব ভোগ করতে হবে।

কিন্তু এই দুনিয়ার আদালতে মনের অবস্থার উপর বিচার করা যায় না। তাই দুনিয়াবী কোনো শাস্তিও তার উপর আপতিত হবে না।

দুনিয়াবী শাস্তি প্রয়োগ হবে কেবল ঐ ব্যক্তির উপর-যার ইরতিদাদ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে এবং বিচারকের কাছে তা প্রমাণিত হয়েছে।

আল্লাহ পাকের আইনে মুরতাদদের দুনিয়াবী ও নবী অবমাননার শাস্তি কী

বিচারকের জন্য নিয়ম হল, মুরতাদকে প্রথমে তওবা করার সুযোগ দিবে। তওবা করলে তো ভালো। অন্যথায় নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করবে।

কোন মুরতাদ তওবা করলে বিচারক তার কবুল করবেন। আর এটাই হল শরীয়তে মুহাম্মদীর বিধান। মুসা আ. এর শরীয়তে তওবা করলেও এ শাস্তি মাফ হত না। বর্ণিত রয়েছে:

বনী ইসরাইলের একটি দল যখন গোবৎসের পুজা করে শিরকে লিপ্ত হল তখন আল্লাহ তাদের ব্যাপারে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিলেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে:

إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُواْ الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا

وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ

অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে।

এমনি আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। সুরা আরাফ আয়াত : ১৫২

আর সে সকল মুরতাদের উপর অর্পিত সেই গজব ও লাঞ্ছনা কী ছিল

এ ব্যপারে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ

فَتُوبُواْ إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ

فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গোবৎস নির্মাণ করে।

কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট।

তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান। সুরা বাকারা আয়াত : ৫৪

 

আল্লাহ কোরআনে যে মৃত্যুদন্ডের আদেশের কথা বর্ণনা করেছে তা কি মুরতাদদের জন্য খাছ। নাকি অন্য সকলের জন্য একই বিধান। এ ব্যপারে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:

مَن كَفَرَ بِاللّهِ مِن بَعْدِ إيمَانِهِ إِلاَّ مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالإِيمَانِ

وَلَـكِن مَّن شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِّنَ اللّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ

যার উপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয়

এবং কুফরীর জন্য মন উম্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে শাস্তি। সুরা নাহল আয়াত : ১০৬

উল্লেখিত আয়াত সমূহে মুরতাদদের অপতৎপরতার কথা উল্লেখ রহিয়াছে এবং তা থেকে বিরত না হলে শাস্তি স্বরুপ মৃত্যুদন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্রোহের শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদন্ড

এখানে স্মরণ রাখতে হবে মুরতাদ হল ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহ, রাসুল, ইসলাম ও মুসলমানকে অপমানকারী বিশ্বাসঘাতক। আল্লাহর জমিনে শান্তি বিনষ্টকারী প্রতারক এবং তাদের জন্য নবী অবমাননার শাস্তি প্রজয্য।

আর এদের শাস্তি প্রসঙ্গে কোরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে:

إِنَّمَا جَزَاء الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا

أَن يُقَتَّلُواْ أَوْ يُصَلَّبُواْ أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلافٍ أَوْ يُنفَوْاْ مِنَ الأَرْضِ

ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে,

তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। সুরা মায়েদা আয়াত : ৩৩

হাদিসের আলোকে নবী অবমাননার শাস্তি প্রসঙ্গ

হাদীস ও সুন্নাহ ইসলামী শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং সাথে সাথে কুরআনের তাফসীর। তাই সহীহ হাদীসের আলোকে মুরতাদের শাস্তির বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনার কথা বলব।

যাতে মুরতাদদের শাস্তির বিষয় শরীয়তের দ্বিতীয় দলিলের মাধ্যমেও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, উল্লিখিত আয়াতসমূহের বক্তব্য তা-ই যা উপরে বলা হয়েছে।

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ… أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ فَقَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه

كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ

وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ‏.‏

فَمَنْ قَالَهَا فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ،

وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ ‏”‏‏.‏ فَقَالَ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ،

فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا

كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا‏.‏

قَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ قَدْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ‏.‏

হাদিসের অর্থ:

আবূল ইয়ামান হাকাম ইবনু নাফি‘ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর

আবূ বকর (রাঃ) এর খিলাফতকালে আরবের কিছু সংখ্যক লোক মুরতাদ হয়ে যায়। তখন ‘উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেন,

আপনি সে সব লোকদের বিরূদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন যারা সম্পূর্ণ ধর্ম ত্যাগ করেনি বরং যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে মাত্র?

অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ‏ বলার পূর্ব পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ আমাকে দেয়া হয়েছে,

যে কেউ তা বলল, সে তার সম্পদ ও জীবন আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের বিধান লংঘন করলে শাস্তি দেওয়া যাবে

আর অন্তরের গভীরে হৃদয়াভ্যন্তরে কুফরী বা পাপ লুকানো থাকলে এর হিসাব-নিকাশ আল্লাহর যিম্মায়।

আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয় আমি যুদ্ধ করবো যারা সালাত নামায/নামাজও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে,

কেননা যাকাত হল সম্পদের উপর আরোপিত হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা একটি মেষ শাবক যাকাত দিতেও অস্বীকার করে

যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তারা দিত, তাহলে যাকাত না দেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করবো।

উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আবূ বকর (রাঃ) এর হৃদয় বিশেষ জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করেছেন বিধায় তাঁর এই দৃঢ়তা এতে আমি বুঝতে পারলাম তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।

 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দেন।

জাহিলিয়্যাতের যুগে ইবনু খাতালের নাম ছিল আবদুল উযযা। সে কুফর ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে আবার মুরতাদ হয়ে যায়

এবং অন্যায়ভাবে একজন মুসলমানকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তার দু’টি গায়িকা বাদী ছিল, এদের মাধ্যমে সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

এবং মুসলমানদের কুৎসাজনিত গান শুনিয়ে মানুষের মধ্যে বিদ্ধেষ ছড়াত।

এ জন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা জয় করেন তখন তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন।

ফলে যমযম ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে তাকে হত্যা করা হয়।

আর গায়িকা বাদীদ্বয়ের মধ্যে একজনকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদেশে হত্যা করা হয়েছিল।

অপরজন ইসলাম গ্রহণের কারণে মুক্তি পেয়েছিল।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ…عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه

أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ الْمِغْفَرُ

فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ ابْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ‏.‏

فَقَالَ ‏ “‏ اقْتُلْهُ ‏

قَالَ مَالِكٌ وَلَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا نُرَى

وَاللَّهُ أَعْلَمُ يَوْمَئِذٍ مُحْرِمًا‏.‏

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু কাযাআ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত

যে, মক্কা বিজয়ের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় লোহার টুপি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছেন।

তিনি সবেমাত্র টুপিখুলেছেন এ সময় এক ব্যাক্তি এসে বলল, ইবনু খাতাল কাবার গিলাফ ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হত্যা কর।

ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন, আমাদের ধারণামতে সেদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহ্‌রাম অবস্থায় ছিলেন না।

তবে আল্লাহ্ আমাদের চেয়ে ভাল জানেন।

তোমরা আল্লাহর শাস্তি দ্বারা শাস্তি দিও না।

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ…عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ

أُتِيَ عَلِيٌّ ـ رضى الله عنه ـ بِزَنَادِقَةٍ

فَأَحْرَقَهُمْ فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ

لَوْ كُنْتُ أَنَا لَمْ أُحْرِقْهُمْ

لِنَهْىِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَقَتَلْتُهُمْ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:‏

مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ.‏

আবূ নু’মান মুহাম্মদ ইবনু ফাযল (রহঃ) … ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

আলী (রাঃ) এর নিকট একদল যিন্দীককে (নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহী) আনা হল।

তিনি তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এ ঘটনা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন,

আমি হলে কিন্তু তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলতাম না।

কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শাস্তি দ্বারা শাস্তি দিও না।

বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ রয়েছে,

যে কেউ তার দ্বীন বদলে ফেলে তাকে তোমরা হত্যা কর।

আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের জন্য কবুল করুন। এবং যারা আমাদের কলিজার টুকরা হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যঙ্গচিত্র অংকনে দুঃসাহস দেখায় তাদেরকে ধ্বংশ করে দিক। আমিন।

Facebook Comments