দোয়া ও মোনাজাত কবুল হয় নাকি তকদিরে যা আছে তাই হয় । Bangla Islam

দোয়া ও মোনাজাত কবুল হয় নাকি তকদিরে যা আছে তাই হয় । Bangla Islam
দোয়া ও মোনাজাত কবুল হয় নাকি তকদিরে যা আছে তাই হয় । Bangla Islam

দোয়া ও মোনাজাত কবুল হয় ?

মহান আল্লাহ তায়া’লার নিকট দোয়া ও মোনাজাত বিশেষ পছন্দনীয় একটি আমল। যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সাথে নিবিড় একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে বান্দা হতে পারে মহান আল্লাহ তায়া’লার নিকট অতি আপন। পৌঁছতে পারে মনজিলে মকসুদে। তাই মানব জীবনে দোয়া ও মোনাজাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

এই বিশ্ব চরাচরের একক অধিপতি এবং সমস্ত মাখলুকের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এই পৃথীবির কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়।

তিনি বান্দার প্রয়োজন ও অভাব-অনটন সম্পর্কে সর্বদা সর্বোজ্ঞ। পবিত্র কোরআনের সূরা আনয়ামের ৫৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহপাক বলেন……………..

وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ

وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلاَّ يَعْلَمُهَا وَلاَ حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ

وَلاَ رَطْبٍ وَلاَ يَابِسٍ إِلاَّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন।

কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না;

কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে। সুরা আন’য়াম : ৫৯

দোয়া ও মোনাজাত এর মাধ্যমে আল্লাহর শোকরীয়া আদায় করা।

এর থেকে প্রতীয়মান যে মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি মুখাপেক্ষি নন বরং বান্দাই আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী, তাঁর দয়া ও করুণার প্রতি সর্বদা মুহতাজ।

তাই, বান্দার আবশ্যিক কর্তব্য ও দায়িত্ব হলো, ইবাদত, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর শোকরীয়া আদায় করা।

এই প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৫২ নং আয়াতে মহান আল্লাহপাক বলেন……………..

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُواْ لِي وَلاَ تَكْفُرُونِ

সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না। সুরা বাকারা : ১৫২

সুরা বাকারার ১৮৬ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রিয় নবীজিকে বলেন, যখন আমার বান্দারা আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে,

তখন আপনি বলে দিন, আমি নিকটে আছি………………..

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

فَلْيَسْتَجِيبُواْ لِي وَلْيُؤْمِنُواْ بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে,

তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য।

যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে। সুরা বাকারা : ১৮৬

আল্লাহ দিতে ভালবাসেন।

আল্লাহ বান্দাকে এত ভালোবাসেন যে সর্বদা কিছু না কিছু দিতে চান। কেননা আল্লাহ দিতে ভালবাসেন। বান্দা যত চায় আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমতের ভাণ্ডার থেকে বান্দাকে তারও বেশি দান করেন।

হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বার ভেতর অনেক বেশি লজ্জাশীলতার গুণ রয়েছে……………

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ…..عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ

إِنَّ اللَّهَ حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحِي إِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ إِلَيْهِ يَدَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا خَائِبَتَيْنِ ‏‏

সালমান আল-ফারিসী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা অত্যধিক লজ্জাশীল ও দাতা।

যখন কোন ব্যক্তি তার দরবারে তার দুই হাত তুলে (প্রার্থনা করে) তখন তিনি তার হাত দু’খানা শূন্য ও বঞ্চিত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ………..عَنْ سَلْمَانَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ

إِنَّ رَبَّكُمْ حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ أَنْ يَرْفَعَ إِلَيْهِ يَدَيْهِ فَيَرُدَّهُمَا صِفْرًا – أَوْ قَالَ خَائِبَتَيْنِ ‏”‏ ‏.‏

সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক চিরঞ্জীব, দানশীল।

তাঁর কোন বান্দা নিজের দু’ হাত তুলে তাঁর নিকট দোয়া করলে তিনি তার শূন্যহাত বা তাকে নিরাশ করে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।

নবীরা নিজেও দোয়া ও মোনাজাত করেছেন এবং উম্মতদেরকেও নসীহত করেছেন।

যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.) নিজেরা দোয়া ও মোনাজাত করেছেন এবং তাদের উম্মতদেরকেও এ জন্য নসীহত করেছেন। এতে বুঝা যায়

দোয়া ও মোনাজাত করা আমাদের পূর্বশরী যারা রয়েছেন তাদের বিশেষ আমল যা আমরা মিরাছ সূত্রে পেয়েছি। একারণেই আল্লাহ তায়ালা তার

মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বহু বহু জায়গায় তার নজির স্থাপন করেছেন। যেমন হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হযরত নূহ (আ.), হযরত হুদ (আ.),

হযরত ইব্রাহিম (আ.), হযরত ইউসুফ (আ.), হযরত শুয়াইব (আ.), হযরত মুসা ও ঈসা (আ.)-সহ আরো অনেক নবীদের দোয়া ও মোনাজাত

পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত আছে। আদিপিতা হযরত আদম (আ.) আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে দোয়া ও মোনাজাত করেছেন। বলেছেন,

’হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি……….

فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন।

নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশী ল ও অসীম দয়ালু। সুরা বাকারা : ৩৭

قَالاَ رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

তারা উভয়ে বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন

এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। সুরা আরাফ : ২৩

হযরত নূহ (আ.) দোয়া ও মোনাজাত।

হযরত নূহ (আ.) দোয়া করেছেন, হে আমার প্রতিপালক আপনি আমাকে ক্ষমা করুন………….

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا

وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا

হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে , যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে-তাদেরকে

এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। সুরা নূহ : ২৮

হযরত ইবরাহীম (আ.) এর আল্লাহর সমীপে পেশ করা অনেকগুলো দোয়া কোরআনে উল্লেখ আছে। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্মরূপ.

তিনি মক্বা নগরীর নিরাপত্তা এবং তার মুমিন অধিবাসীদের জন্য জীবিকার ফরিয়াদ জানিয়ে দোয়া করেন: ’হে আমার রব! আপনি মক্কাকে নিরাপদ শহর করুন…………………..

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ

قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

যখন ইব্রাহীম বললেন, পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিধান কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা অল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে,

তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর। বললেনঃ যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরও কিছুদিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেব,

অতঃপর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্থান। সুরা বাকারা : ১২৬

জালিম বাদশা নমরুদ যখন হযরত ইবরাহিম (আ.) কে পুড়িয়ে মারার জন্য অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল। তাঁর ঈমান ও আত্মবিশ্বাসের শক্তি দেখে

মহান আল্লাহ সেই অগ্নিকুণ্ডকে ফুলের বাগানের মতো শান্তিপূর্ণ ও আরামদায়ক করে দিয়েছিলেন…….

قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ

তারা বললঃ একে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।

قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ

আমি বললামঃ হে অগ্নি, তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও। সুরা আম্বিয়া : ৬৮-৬৯

হযরত ইউনূস (আ.) দোয়া মোনাজাত।

এছাড়াও, যখন সুবিশাল মাছ হযরত ইউনূস (আ.)-কে গ্রাস করল। তিনি মাছের পেটে বসে পাঠ করলেন, ‘লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি ………………..

وَذَا النُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধৃত করতে পারব না।

অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার। সুরা আম্বিয়া : ৮৭

আল্লাহ তাঁর কাতর মিনতি শুনলেন এবং তাঁকে উদ্ধার করলেন। আল্লাহর ভাষায়…….

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ

অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম।

আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি। সুরা আম্বিয়া :৮৮

আর যখন হযরত যাকারিয়া আ. নিঃসন্তান হয়ার কারনে নিরাশ হয়ে গেলেন তখন তিনি আল্লাহর কাছে সন্তান চেয়ে দোয়া ও মোনাজাত করলেন যা কোরআনে এ ভাবে বর্ণিত…….

وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

এবং যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহবান করেছিল; হে আমার পালনকর্তা আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ

অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম।

তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত। সুরা আম্বিয়া : ৮৯-৯০

আল্লাহর নিকট দোয়া মোনাজাত।

মোট কথা, আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর নিকট দোয়া ও মোনাজাত করার আহ্বান করেছেন এবং নিজে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।  তাই হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে

সকল নবী রাসূলগণ নিজেরা দোয়া মোনাজাত করেছেন এবং তাদের উম্মতদেরকেও দোয়া করার উপদেশ দিয়েছেন। যেমন হাদিসে এসেছে আল্লাহ তায়ালা শেষ রাত্রিতে বান্দাদেরকে ডাকতে থাকেন…..

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ…….عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ

يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ

يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ ‏”‏‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের

শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন,

যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব।

কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।

 

সূরা আল মু’মিনের ৬০ নং আয়াতে এসেছে, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো……………..

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে

তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে। সুরা মু’মিন : ৬০

দোয়া ও মোনাজাত দ্বারা কোন কাজ হবে না

দোয়া ও মোনাজাত সকল যুগের সব নেক লোকেরা করে এসেছেন এবং এখন যারা রয়েছেন তারাও করতে থাকবেন। তবে এক শ্রেণির পথভ্রষ্ট লোক আগেও বলেছে,

এখনও বলে  ‘তকদিরে যা আছে তা তো হবেই, কোনো চেষ্টা-তদবির, দোয়া ও মোনাজাত দ্বারা কোন কাজ হবে না।’ নাউযুবিল্লাহ।

হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নেককাজ ব্যতীত অন্য কিছুতেই আয়ু বৃদ্ধি পায় না এবং দোয়া ব্যতীত তাকদীর তথা ভাগ্য পরিবর্তন হয় না……………….

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ…..عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ

‏ لاَ يَزِيدُ فِي الْعُمْرِ إِلاَّ الْبِرُّ وَلاَ يَرُدُّ الْقَدَرَ إِلاَّ الدُّعَاءُ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ ‏”‏ ‏.‏

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৎকর্ম ব্যতীত অন্য কিছু আয়ুস্কাল বাড়াতে পারে না

এবং দোয়া ব্যতীত অন্য কিছুতে তাকদীর রদ হয় না। মানুষ তার পাপকাজের দরুন তার প্রাপ্য রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়।

দোয়া কবুলের শর্ত : দোয়া ও মোনাজাত করলেই হবে না, দোয়া ও মোনাজাত কবুল হওয়ার জন্য রয়েছে কিছু শর্ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

দোয়া কবুলের শর্ত সমূহ | আমল কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় |

যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি দোয়া করে, যে দোয়াতে কোনো রূপ গুনাহ কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় না থাকে তখন আল্লাহ তিন পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে তার দোয়া কবুল করেন।

(১) যেই দোয়া করেছে তা তাৎক্ষণিক কবুল করে নেন,

(২) অথবা তার দোয়া আর প্রতিদান আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করেন,

(৩) কিংবা দোয়ার মাধ্যমে তার কোনো কষ্ট বা বিপদ দূর করে দেন। সাহাবীগণ বললেন।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ……… سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ لَمْ يُمَجِّدِ اللَّهَ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ عَجِلْتَ أَيُّهَا الْمُصَلِّي

‏ ثُمَّ عَلَّمَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

رَجُلاً يُصَلِّي فَمَجَّدَ اللَّهَ وَحَمِدَهُ وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ ادْعُ تُجَبْ وَسَلْ تُعْطَ ‏”‏ ‏.‏

কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ করা যায় | ১০ সেকেন্ডে ১৪ কোটি নেকি |

মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) … ফাজালা ইবনু উবায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

এক ব্যক্তিকে সালাতে দোয়া করতে শুনলেন সে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসাও করল না এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরুদও পড়ল না।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি দোয়া খুব তাড়াতাড়ি করে ফেলেছ।

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসল্লীদের দোয়া শিক্ষা দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে সালাত আদায় করল এবং আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য বর্ণনা করল, তার প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করল।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাকে) বললেন, তুমি দোয়া কর, তা কবুল করা হবে এবং আল্লাহর কাছে চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস সমূহের আলোকে জীবন গড়ে মুস্তাজাবুদ্ দাওয়াহ হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।

Facebook Comments