তাবিজ ব্যবহার করা শরিয়াতের দৃষ্টিতে কেমন ? | Bangla Islam

তাবিজ ব্যবহার
তাবিজ ব্যবহার করা শরিয়াতের দৃষ্টিতে কেমন Bangla Islam

তাবিজ ব্যবহার করা শরিয়াতের দৃষ্টিতে কেমন ?

আমাদের দেশে কতক পীর-ফকির, আলেম-জাহেল, শিক্ষিত-অশিক্ষিত অনেকেই তাবিজ ব্যবহার এর উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। আর তা তৈরী করা হয় ভিবিন্ন ভাবে। যেমন কবচ, তাগা, কড়ি, সামুক, ঝিনুক ও গাছ-গাছালির শিকর-বাকর ইত্যাদি

এ সম্পর্কে বাজারে কিছু বই পুস্তক পাওয়া যায়, সে সব বইয়ের কোন গ্রহনযোগ্যতা নেই, আছে কিছু মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনী, অসংখ্য তদবিরের বর্ণনা ও বানোয়াট ফাজায়েল

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآَنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا

আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সু-চিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত।’ {ইসরা:৮২}

আব্দুল্লাহ বিন আমরের ব্যক্তিগত আমল সম্পর্কে বর্ণিত আছেঃ

তিনি নিজ ছোট বাচ্চা, যারা দোয়া মুখস্থ করতে অক্ষম, তাদেরকে অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য গায়ে দোয়ার তাবিজ ঝুলিয়ে দিতেন।

দোয়াটি এই:

بسم الله أعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وعقابه وشر عباده

ومن همزات الشياطين وأن يحضرون

আল্লাহর নামে তাঁর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্টতা থেকে

এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে। (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ) হাদিসটি হাসান।

তাবিজ ব্যবহার করা শিরক?

মোল্লা আলী কারী রহঃ বলেনঃ

إذا كتب له النشرة وهي كالتعويذ والرقية والمراد بالضمير البارز في قوله

فقال أي النبي هو من عمل الشيطان النوع الذي كان أهل الجاهلية يعالجون به

ويعتقدون فيه وأما ما كان من الآيات القرآنية والأسماء والصفات الربانية

والدعوات المأثورة النبوية فلا بأس بل يستحب سواء كان تعويذا أو رقية

أو نشرة وأما على لغة العبرانية ونحوها فيمتنع لاحتمال الشرك فيها

যদি তাবীজের মত কাগজ লিখা হয়। রাসূল সাঃ এর বানী “এটি শয়তানী কর্ম” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল জাহেলী যুগে যদ্বারা চিকিৎসা করা হতো

ও যার উপর নির্ভর করা হতো। আর যা কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, আল্লাহর সিফাত সম্বলিত, দুআয়ে মাসুরা হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই।

বরং এটি মুস্তাহাব। চাই সেটি তাবীজ হোক, বা ঝারফুক হোক বা কাগজে লিখা হোক। আর যেসব ইবরানী ও অন্যান্য ভাষায় লিখা হয় তা নিষিদ্ধ।

কারণ তাতে শিরকের সম্ভাবনা আছে। {মিরকাতুল মাফাতীহ-৮/৩২১}

কেউ যদি তাবিজ-কবচ, মাদুলি-কড়ি, সামুক-ঝিনুক, গিড়া, হাঁড়, তাগা-তামা-লোহা বা অনুরূপ কোন ধাতব বস্তু গলায় বা শরীরের কোথায়ও ধারণ করে এবং এ ধারণা পোষণ করে যে,

ঐ গুলো বালা-মুসিবত দূর করার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখে, তবে তা বড় শিরক। আর যদি এ ধরনের ধারণা না হয়, তবে তা ছোট শিরক।

তাবিজ ব্যবহার নিয়ে শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বলেছেনঃ

বালা-মুসিবত দূর করার উদ্দেশ্যে গিড়া, তাগা পরিধান করা ছোট শিরক। অর্থাৎ যদি তা মাধ্যম বা উসিলা মনে করে ব্যবহার করা হয়।

শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ বলেছেনঃ

শয়তানের নাম, হাড়, পূঁতি, পেরেক অথবা তিলিস্মা অর্থাৎ অর্থবিহীন বিদঘুটে শব্দ বা অক্ষর প্রভৃতি বস্তু দিয়ে তাবিজ বানানো ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ উল্লেখ করেনঃ

إنما تكره العوذة إذا كانت بغير لسان العرب ، ولا يدرى ما هو ولعله يدخله سحر

أو كفر أو غير ذلك ، وأما ما كان من القرآن أو شيء من الدعوات فلا بأس به

নিশ্চয় নিষিদ্ধ তাবীজ হল যা আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা হয়, বুঝা যায় না তাতে কি আছে? অথবা যাতে জাদু, কুফরী ইত্যাদি কথা থাকে।

আর যেসব তাবীজে কুরআন বা দুআ সম্বলিত হয় তা ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই। {ফাতওয়ায়ে শামী-৬/৩৬৩}

ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلا في يده حلقة من صفر فقال ما هذه

قال من الواهنة قال انزعها فإنها لا تزيدك إلا وهنا فإنك لو مت

وهي عليك ما أفلحت أبدا (أحمد ابن ماجة و حاكم)

একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখে বললেন, এটা কি? সে বলল: এটা অহেনার অংশ।

{অহেনার অর্থ এক প্রকার হাড়, যা থেকে কেটে ছোট ছোট তাবিজ আকারে দেয়া হয়।}

তিনি বললেন: এটা খুলে ফেল, কারণ এটা তোমার দূর্বলতা বাড়ানো ভিন্ন কিছুই করবে না।

যদি এটা বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তবে কখনও তুমি সফল হবে না।’

উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছিঃ

من تعلق تميمة فلا أتم الله له ومن تعلق ودعة فلا ودع الله له

যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।

উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেনঃ

أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل إليه رهط فبايع تسعة وأمسك عن واحد

فقالوا يا رسول الله بايعت تسعة وتركت هذا قال: إن عليه تميمة

فادخل يده فقطعها فبايعه وقال من علق تميمة فقد أشرك

একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না।

তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে।

অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।

একদা হুজায়ফা রাদিআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির হাতে জ্বরের একটি তাগা দেখতে পেয়ে তা কেটে ফেলেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ

وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ

তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়। ইউসুফ : ১০৬

শায়খ হাফেজ হেকমি বলেনঃ

কুরআন ও হাদিস ব্যতীত, ইহুদিদের তিলিসমাতি, মূর্তি পূজারী, নক্ষত্র পূজারী, ফেরেশতা পূজারী এবং জিনের খিদমত গ্রহণকারী বাতিল পন্থীদের তাবিজ ব্যবহার।

অনুরূপভাবে পূঁতি, ধনুকের ছিলা, তাগা এবং লোহার ধাতব চুড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। কারণ, এগুলো সমস্যা সমাধানের বৈধ উপায় কিংবা বিজ্ঞান সম্মত ঔষধ নয়।

অধিকাংশ সাহাবি ও তাদের অনুসারীদের মতে কুরআন ও হাদিসের তাবিজ ব্যবহার করাও নাজায়েজ। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

*আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, *ইবনে আব্বাস, *হুযাইফা, *উকবা বিন আমের, *ইবনে উকাইম, *ইব্রাহিম নখয়ি, *ইবনুল আরাবি, *শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান, *শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব, *শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদি, *হাফেজ আল-হেকমি *মুহাম্মদ হামিদ আলফাকি।

আর সমসাময়ীক মনীষীদের মধ্যে আছেন *শায়খ আলবানি, *শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ।

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে লিখেনঃ

وَالتَّمَائِمُ جَمْعُ تَمِيمَةٍ وَهِيَ خَرَزٌ أَوْ قِلَادَةٌ تُعَلَّقُ فِي الرَّأْسِ كَانُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَقِدُونَ

أَنَّ ذَلِكَ يَدْفَعُ الْآفَاتِ وَالتِّوَلَةُ بِكَسْرِ الْمُثَنَّاةِ وَفَتْحِ الْوَاوِ

وَاللَّامِ مُخَفَّفًا شَيْءٌ كَانَتِ الْمَرْأَةُ تَجْلِبُ بِهِ مَحَبَّةَ زَوْجِهَا وَهُوَ ضَرْبٌ مِنَ السِّحْرِ

وَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ مِنَ الشِّرْكِ لِأَنَّهُمُ أَرَادُوا دَفْعَ الْمَضَارِّ وَجَلْبَ الْمَنَافِعِ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ

وَلَا يَدْخُلُ فِي ذَلِكَ مَا كَانَ بِأَسْمَاءِ اللَّهِ وَكَلَامِهِ فَقَدْ ثَبَتَ فِي الْأَحَادِيثِ اسْتِعْمَالُ ذَلِكَ قَبْلَ وُقُوعِهِ

তামায়েম শব্দটি তামীমা শব্দের বহুবচন। যা পুঁতি বা মালা সাদৃশ্য। মাথায় লটকানো হয়। জাহেলী যুগে বিশ্বাস করা হতো যে, এর দ্বারা বিপদমুক্ত হওয়া যায়,

মহিলারা এসব ব্যবহার করতো স্বামীর মোহাব্বত অর্জন করতে। এটি জাদুরই একটি প্রকার। এটি শিরকের অন্তুর্ভূক্ত। কেননা এর দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের থেকে বিপদমুক্ত হওয়া ও উপকার অর্জন করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।

কিন্তু এ শিরকের অন্তুর্ভূক্ত হবে না যেসব তাবীজ কবচে আল্লাহর নাম বা কালাম থাকে। {ফাতহুল বারী-১০/২৯০-২৯১, ঝারফুক অধ্যায়}

শর্তসাপেক্ষে তাবিজ ব্যবহার জায়েজ

সুতরাং বুঝা গেল যে, ডাক্তারী বড়িকে আরোগ্যের মূল কারণ সাব্যস্ত না করে আল্লাহর উপর ভরসা করে ওসীলা হিসেবে যেমন তা ব্যবহার করা বৈধ,

তেমনি প্রথমে উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে তাবীজ কবচও জায়েজ। না জায়েজের কোন কারণ নেই।

হাদীসগ্রন্থ অধ্যায়ন করলে এ কথা প্রতিয়মান হয় যে, জাহেলী যুগে বিভিন্ন অসুস্থতা বালা মুসিবাত ইত্যাদির জন্য ঝাড় ফুঁক করা তাবিজ ইত্যাদি ব্যবহার করার প্রচলন ছিল।

তাদের অনেকে শিরকী কালাম ইত্যাদি দ্বারা ঝাড় ফুঁক করত। তাবিজ ইত্যাদি গলায় ঝুলিয়ে রেখে তার উপর ভরসা করত। আল্লাহর প্রতি আরোগ্যের বিশ্বাস না রেখে শুধুমাত্র তাবিজের উপর বিশ্বাস রাখত।

তারা মনে করত এই তাবিজই তাকে আরোগ্য দান করবে। এ জন্য রাসুল সা. এ ধরণের ঝাড় ফুঁক তাবিজ ইত্যাদি করতে নিষেধ করেছিলেন।

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَلا أَتَمَّ اللَّهُ عَلَيْهِ

হযরত উকবা ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সা. বলেন যে ব্যক্তি রক্ষাকবচ ঝুলিয়ে রাখল, আল্লাহ তায়ালা তাকে সম্পন্ন করবেন না ৷

অর্থাৎ তাকে সুস্থ করবেন না৷ (মুসনাদে আবী ইয়ালা ৩/২৯৫ হা. ১৭৫৯ মুসনাদে উকবা ইবনে আমের জুহানী।)

পরবর্তীতে ঝাড় ফুঁক ও তাবিজ ব্যবহার এর অনুমোদন।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لأَهْلِ بَيْتٍ مِنَ الأَنْصَارِ فِى الرُّقْيَةِ مِنَ الْحُمَةِ

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সা. এক আনসার পরিবারের লোকদের বিষক্রিয়ার ঝাড় ফুঁকের অনুমতি দিয়েছেন। (মুসলিম শরীফ ৭/২৬৪ হা. ৫৫৫৫ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, বদ নজর, ফুসকুড়ি, ব্রণ, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদির দংশনে ঝাড় ফুঁক করানো উত্তম।

قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ وَسَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَدَغَتْ رَجُلاً مِنَّا عَقْرَبٌ

وَنَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْقِي قَالَ ‏ “‏ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ

আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে আরও বলতে শুনেছি যে, একটি বিচ্ছু আমাদের এক ব্যক্তিকে দংশন করল। আমরা তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বসা ছিলাম।

তখন এব ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি (তাকে) ঝেড়ে দই?

তিনি বললেন, তোমাদের যে কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইয়ের (কোনও) উপকার করতে পারে, সে যেন (তা) করে।

শিরক না হওয়ার শর্তে ঝাড় ফুঁক তাবিজ ইত্যাদি করার অনুমোদন।

عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِىِّ قَالَ كُنَّا نَرْقِى فِى الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِى ذَلِكَ

فَقَالَ اعْرِضُوا عَلَىَّ رُقَاكُمْ لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ

হযরত আউফ ইবনে মালেক আশজায়ী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলিয়াতের যুগে আমরা ঝাড় ফুঁক করতাম। আমরা আরজ করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ!

এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেন তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার সামনে পেশ কর। ঝাড় ফুঁকে যদি শিরকের শব্দ না থাকে তাহলে এতে কোন সমস্যা নেই।

সুতরাং শরীয়তের আলোকে ঝাড় ফুঁক তাবিজ ইত্যাদিতে উপরের শর্ত বিদ্যমান থাকলে আর্থাৎ শিরক জাতীয় কিছু না থাকলে এবং উহার উপর ভরসা না থাকলে ঝাড় ফুঁক ও তাবিজ ব্যবহার করা জায়েয হবে।

এতে কোন প্রকার সমস্যা নেই। এমনকি শিরক বা হারামও নয়। যারা এমন (শিরক বা হারাম) বলে থাকে তাদের কথা সঠিক নয়।
আল্লাহ সকলকে বুঝার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Facebook Comments