তকদিরের উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দেওয়া জায়েজ কি | Bangla Islam

তকদিরের উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দেওয়া জায়েজ কি Bangla Islam

তকদিরের উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দেওয়া জায়েজ কি

ওলামায়ে কেরামের বয়ান শুনেছি: তকদিরের উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নাই। এ কারণে যে আল্লাহ তায়ালার দরবারে দুটি কিতাব আছে তার একটির মধ্যে জান্নাতীদের নাম আর অপরটির মধ্যে জাহান্নামীদের নাম।

উভয় খাতার নাম গুলো যোগ করে টোটাল সংখ্যা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে কোনো কম বেশী হবেনা।

তাহলে প্রশ্ন হলো সব যদি আগেই নির্দিষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আমাদের কষ্ট করে আমল করার প্রয়োজন কী ?

তাছাড়া আমল করেই বা লাভ কি ফয়সালা তো আগেই হয়ে গেছে এ ব্যাপারে একটু খুলে বলার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আপনি যে হাদীসটি শুনেছেন তা সঠিক।

হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত আছে তবে উল্লিখিত হাদীসটি নিয়ে নিজের জ্ঞান বুদ্ধি দ্বারা গবেষণা করা উচিত নয়।

কারণ তকদিরের ব্যাপারে নিজের আপন বুদ্ধি দ্বারা গবেষণা করা বা তর্কে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া অথবা বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করা শরীয়তে নিষেধ।

বান্দা জান্নাতী বা জাহান্নামী হয় তকদিরের উপর নির্ভর করে ?

একথা ঠিক আল্লাহ তাআলা তার পরিপূর্ণ জ্ঞান ও আইনের দ্বারা লিখে রেখেছেন যে, কোন বান্দা জান্নাতের বাসিন্দা হবে আর কোন বান্দা হবে জাহান্নামের বাসিন্দা হবে।

তবে তিনি এরূপ কেন লিখে রেখেছেন তা তিনিই ভাল জানেন। আর এর মধ্যে অনেক হেকমত ও রহিয়াছে। আমাদের শুধু এতটুকু জানতে হবে যে,

এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কি? এর চেয়ে বেশী অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। এ ব্যাপারে বান্দার জিম্মাদারী হলো আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান আনা

এবং বাস্তবিক ভাবে যে দুটি কিতাব তৈরি করা আছে তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা। এতটুকু করলে আমাদের দায়িত্ব আদায় হয়ে গেল তার উপর ভিত্তি করে আমল না করা

বা বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করা আমাদের দায়িত্ব বহির্ভূত বা অনধিকারচর্চা। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও একই প্রশ্ন করেছিলেন

জবাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে কিতাবের উপর ভরসা করে বসে না থেকে আমল করতে বলেছিলেন

কারণ আমল বান্দার ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

আল্লাহ তা’আলা রূহের জগতে প্রথম যখন সকলকে জমা করেছিলেন তখন নিজের ইলেম মোতাবেক একদলকে জান্নাতে আরেকদলকে জাহান্নামে পাঠাতে পারতেন

আমরা অন্যদের থেকে বেশি আমল করতাম

কিন্তু এমত অবস্থায় কাফির-মুশরিকদের আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগের সুযোগ থাকত যে আল্লাহ আমাদের দুনিয়ায় পাঠিয়ে আমল করার সুযোগ দিলে

আমরা অন্যদের থেকে বেশি আমল করতাম কিন্তু আল্লাহ তো আমাদেরকে সেই সুযোগটাই দিলেন না।

কাজেই আল্লাহ তাআলা সকলকে আমলের সুযোগ দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন

এবং উভয় দপ্তরের কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন। এখন দুনিয়াতে যারা দপ্তরের উপর ঈমান রাখবে।

কিন্তু দপ্তরের ভরসায় আমল পরিত্যাগ করবে না।

হাশরের ময়দানে দেখা যাবে শুধু তাদের নামই জান্নাতি দপ্তরে লেখা আছে আর যারা দপ্তর এর উপর নির্ভর করে আমল করেনি

দুনিয়ার ব্যাপারে তারা খুব বুদ্ধিমান হলোও আখেরাতের ব্যাপারে বড়ই অলস।

হাশরের ময়দানে দেখা যাবে যে এ লোক গুলোর নাম জাহান্নামের খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সারকথা তকদিরের উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

বরং আমল করতে হবে তাহলে পরকালে জান্নাতি হওয়া যাবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একথাগুলোর উপর আমল করে জীবন গড়ার তৌফিক দান করুক। আমিন।

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. পীরের কাছে সন্তান চাওয়া যাবে | ইসলাম কি বলে | Bangla Islam

Comments are closed.