কি আমলে সমস্ত গুনাহ মাফ | কি কারণে উটের গোশত হারাম ? | Bangla Islam

কি আমলে সমস্ত গুনাহ মাফ
কি আমলে সমস্ত গুনাহ মাফ কি কারণে উটের গোশত হারাম Bangla Islam

কি আমলে সমস্ত গুনাহ মাফ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আমাদেরকে কি আমলে সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায় এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার তাওফিক দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আঃ কে তাওরাত দেওয়ার পূর্বে

বনী ইসরাঈলরা নিজের উপর যা হারাম করেছিল তা ছাড়া বনী ইসরাঈলের অন্য যাবতীয় সকল খাদ্যই হালাল ছিল।

যেমন কোরআনে বলা হয়েছে: বলুন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং তা পাঠ কর।

کُلُّ الطَّعَامِ کَانَ حِلًّا لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِلَّا مَا حَرَّمَ اِسۡرَآءِیۡلُ عَلٰی نَفۡسِہٖ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تُنَزَّلَ التَّوۡرٰىۃُ ؕ قُلۡ فَاۡتُوۡا بِالتَّوۡرٰىۃِ فَاتۡلُوۡہَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

সকল খাবার বনী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। তবে ইসরাঈল তার নিজের উপর যা হারাম করেছিল তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে।

বল, ‘তাহলে তোমরা তাওরাত নিয়ে আস, অতঃপর তা তিলাওয়াত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। আল-বায়ান

কি কারণে বনী ইসরাঈলদের উপর উটের গোশত হারাম ছিল ও কি আমলে সমস্ত গুনাহ মাফ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ‘ইরকুন নাসা عِرْقَ النَّسَا’ নামক রোগ ছিল।

এজন্য তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, যদি আল্লাহ তাকে এ রোগ থেকে আরোগ্য আরগ্য দেন।

তাহলে তিনি উটের গোশত ভক্ষণ ত্যাগ করবেন। আয়াতে এ ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ… عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَقْبَلَتْ يَهُودُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

فَقَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ أَخْبِرْنَا عَنِ الرَّعْدِ مَا هُوَ قَالَ ‏”‏ مَلَكٌ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُوَكَّلٌ بِالسَّحَابِ

مَعَهُ مَخَارِيقُ مِنْ نَارٍ يَسُوقُ بِهَا السَّحَابَ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ‏

فَقَالُوا فَمَا هَذَا الصَّوْتُ الَّذِي نَسْمَعُ قَالَ زَجْرُهُ بِالسَّحَابِ إِذَا زَجَرَهُ

حَتَّى يَنْتَهِيَ إِلَى حَيْثُ أُمِرَ  قَالُوا صَدَقْتَ فَأَخْبِرْنَا

عَمَّا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ قَالَ: ‏

اشْتَكَى عِرْقَ النَّسَا فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا يُلاَئِمُهُ إِلاَّ لُحُومَ الإِبِلِ وَأَلْبَانَهَا

فَلِذَلِكَ حَرَّمَهَا ‏ قَالُوا صَدَقْتَ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহুদীরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল,

হে আবূল কাসিম! আমাদেরকে রা’দ (মেঘের গর্জন) প্রসঙ্গে বলুন, এটা কি? তিনি বললেনঃ

মেঘমালাকে হাকিয়ে নেয়ার জন্য ফেরেশতাদের একজন নিয়োজিত আছে।

তার সাথে রয়েছে আগুনের চাবুক। এর সাহায্যে সে মেঘমালাকে সেদিকে পরিচালনা করেন, যেদিকে আল্লাহ তা’আলা চান।

তারা বলল, আমরা যে আওয়াজ শুনতে পাই তার তাৎপর্য কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হচ্ছে ফেরেশতার হাকডাক।

এভাবে হাকডাক দিয়ে সে মেঘমালাকে তার নির্দেশিত স্থানে নিয়ে যায়। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন। তারা আবার বলল, আপনি আমাদের বলুন,

ইসরাঈল ইয়াকুব (আঃ) কোন জিনিস নিজের জন্য হারাম করেছিলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ

তিনি ইরকুন নিসা (স্যায়াটিকা) রোগে আক্রান্ত ছিলেন কিন্তু উটের গোশত ও এর দুধ ছাড়া তার উপযোগী খাদ্য ছিল না।

তাই তিনি তা হারাম করে নিয়েছিলেন। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন।

উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস সমূহের বিতর্কের মিমাংসা।

আলোচ্য আয়াত ও হাদিস সমূহে একটি বিতর্কের বিষয় বর্ণনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে এসেছে- ইয়াহুদীরা আপত্তি করল যে, আপনারা উটের গোশত খান, দুধ পান করেন।

অথচ এগুলো ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি হারাম ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ ভুল কথা, এগুলো তার প্রতি হালাল ছিল। ইয়াহুদীরা বললঃ

আমরা যেসব বস্তু হারাম মনে করি, সবই নূহ ও ইবরাহীমের আমল থেকেই হারাম হিসাবে চলে এসেছে এবং আমাদের নিকট পর্যন্ত পৌছেছে।

এ কথোপকথনের পর আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়।

এতে ইয়াহুদীদের মিথ্যাবদিতা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বলা হচ্ছেঃ তাওরাত নাযিলের পূর্বে উটের গোশত ব্যতীত সব খাদ্যদ্রব্য স্বয়ং বনী-ইসরাঈলের জন্যও হালাল ছিল।

তবে উটের গোশত বিশেষ কারণঃবশত ইয়াকূব আলাইহিস সালাম নিজেই নিজের জন্য নিষিদ্ধ করে নিয়েছিলেন।

ইয়াহুদীদের অভিযোগ খন্ডন

আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত এবং পরের দু’টি আয়াত নাযিল করে ইয়াহুদীদের অভিযোগ খন্ডন করেন। তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল যে,

তুমি নিজেকে ইবরাহীম (আঃ) এর দ্বীনের অনুসারী বলে দাবী কর অথচ তুমি ও তোমার অনুশারীরা উটের গোশত খাও। যা তোমাদের দাবীকে সত্যায়িত করে না।

কেননা হযরত ইবরাহীম আঃ এর দ্বীনে উটের গোশত এবং তার দুধ হারাম ছিল। মহান আল্লাহ বললেন, ইয়াহুদীদের এ অভিযোগ ভুল ও ভিত্তিহীন।

কারণ, ইবরাহীম (আঃ)-এর দ্বীনে এ জিনিসগুলো হারাম ছিল না।

তবে হ্যাঁ কিছু জিনিস বনী ইসরাঈল (ইয়াকুব আঃ) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। আর তা ছিল এই উটের গোশত এবং তার দুধ। তার কারণ ছিল মানত অথবা রোগ।

আর ইয়াকুব আঃ এর এ কাজও ছিল তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বেকার। কারণ, তাওরাত ইবরাহীম ও ইয়াকুব আলাইহিমাস্ সালাম এর অনেক পরে নাযিল হয়।

কি কারণে হালালকে হারাম করা হয়েছে।

অতএব কিভাবে তোমরা উক্ত অভিযোগ উত্থাপন কর? তাছাড়া তাওরাতে কিছু জিনিস তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে

কেবল তোমাদের যুলুম ও অবাধ্যতার কারণে। যেমন সূরা নিসাতে বণির্ত রয়েছে:

فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَن سَبِيلِ اللّهِ كَثِيراً

বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল-তাদের পাপের কারণে

এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন। সুরা নিসা আয়াত:১৬০

 

যদি তোমাদের বিশ্বাস না হয়, তাহলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পড়ে শুনাও, দেখবে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, ইবরাহীম (আঃ)-এর যামানায় এ জিনিসগুলো হারাম ছিল না।

এবং তোমাদের উপর যা কিছু জিনিস হারাম করা হয়েছে তা কেবল তোমাদের যুলুম ও সীমালঙ্ঘনের কারণে। অর্থাৎ, শাস্তি স্বরূপ তা হারাম করা হয়েছিল।

উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস থেকে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে যুলুম ও সীমালঙ্ঘনের কারণে বান্দার গোনাহ হয়ে থাকে।

আর গোনাহ যেন মুমিনের মাথার উপর বিশাল পাহাড়ের ন্যয়।

কীভাবে গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায়।

যে কোনো মুহূর্তে তা ধ্বংস করে দিতে পারে তাকে। ফলে কোনো গোনাহ হয়ে গেলে মুমিন পেরেশান হয়ে যায়– কীভাবে তা থেকে মাফ পাওয়া যায়।

তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বান্দার গোনাহ যেন সহজে মাপ হয়ে যায় এমন কিছু দোয়া শিখিয়ে দিয়াছেন।

যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমান

যে ব্যক্তি খানার শেষে এ দোয়া পড়বে আল্লাহ তা আলা তার আগের পিছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন।

حَدَّثَنَا نُصَيْرُ بْنُ الْفَرَجِ…عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

مَنْ أَكَلَ طَعَامًا ثُمَّ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا الطَّعَامَ وَرَزَقَنِيهِ

مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ

وَمَنْ لَبِسَ ثَوْبًا فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا الثَّوْبَ

وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ‏.‏

নাসীর ইবন ফারাজ (রহঃ) …. মু’আয ইবন আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি খাওয়ার পর এ দু’আ পাঠ করবেঃ (অর্থ) ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে খাওয়াইছেন এবং আমাকে এ রিযিক দিয়েছেন,

আমার চেষ্টা ও শক্তি ব্যতিরেকে।’ তার জীবনের আগের পরের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

আর যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পরিধান করে এ দু’আ পড়বেঃ (অর্থ) সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে পড়িয়েছেন

এবং এর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আমার শক্তি ও চেষ্টা ছাড়া” তার আগের ও পরের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

পাপ মোচনের পথ কি ?

গোনাহ তো হয়েই যায়। শয়তানের ধোঁকায়, নফসের প্ররোচনায়, ইচ্ছায়, অনিচ্ছায়- গোনাহ হয়েই যায়। কিন্তু আশার কথা হল, আল্লাহ বান্দার জন্য রেখেছেন পাপ মোচনের অগণিত পথ।

যা বান্দার পাপ মোচন করে দেয় এবং শয়তানকে ব্যর্থ করে দেয়। সাথে সাথে বিভিন্ন উপলক্ষে, বিভিন্ন নেক আমলের দ্বারাও আল্লাহ বান্দার পাপ মোচন করেন। মুমিন বুদ্ধিমান।

সে এসকল আমল-উপলক্ষকে কাজে লাগায় এবং পাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সচেষ্ট থাকে।

ব্যাখ্যাঃ এ হাদীসে প্রথমাংশের শেষে (وَمَا تَأَخَّرَ) ‘ওয়ামা- তাআখখারা’ অর্থাৎ ‘‘যা পরবর্তীতে হবে’’ বাক্যাংশটি আছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ইমাম আবূ দাঊদ তাঁর সুনানে এই অংশসহ হাদীসটি উল্লেখ করছেন বলে কিছু সংস্করণে পাওয়া যায় আবার কিছু সংস্করণে পাওয়া যায় না।

তবে মিশকাত প্রণেতা সে অংশটুকু ছাড়াই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

ত্বীবী বলেছেনঃ তিরমিযী ও আবূ দাঊদে ‘ওয়ামা- তাআখখারা’ বাক্যাংশটি নেই। যদিও মিশকাতের কিছু সংস্করণে ‘ওয়ামা- তাআখখারা’ বাক্যাংশ যোগ করা হয়েছে এ ধারণায় যে,

হাদীসের পরের অংশের শেষে ‘ওয়ামা- তাআখখারা’ বাক্যাংশটি আছে। অতএব এখানেও আছে মনে হয়। উল্লেখ্য যে, হাদীসের পরবর্তী অংশ তথা

(غُفِرَ لَهٗ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه….. وَمَنْ لَبِسَ ثَوْبًا) অংশের শেষে ‘ওয়ামা- তাআখখারা’ বাক্যাংশটি সকল সংস্করণে রয়েছে। এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সহী হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুক।

বিঃ দ্রঃ আপনার ব্যাকলিং প্রয়োজন?

আমাদের যে কোন পোস্টের লিংক আপনার পোস্টে সংযোগ করে কমেন্ট সেকশনে তার লিংক দিয়ে কমেন্ট করুন।

আমরা আপনাকে আমাদের সাইটে সংযোগ করে নিব।

 

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. শুধু অযুতে অনেক সওয়াব | কি কারণে অঙ্গ সমূহ ঝলমল করবে | বাংলা ইসলাম

Comments are closed.