কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ করা যায় | ১০ সেকেন্ডে ১৪ কোটি নেকি | Bangla Islam

কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ
কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ করা যায় ১০ সেকেন্ডে ১৪ কোটি নেকি Bangla Islam

কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ করা যায়

আমাদের প্রিয়নবী মাঝে সাহাবীদেরকে আমলের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ভিন্ন রকমে ও ভিন্ন আঙ্গিকে আমলের ফজিলত বর্ণনা করতেন। কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ করা যায় ? এমন একটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করব। ইনশা-আল্লাহ।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বললেন:

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ… عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ جَاءَ الْفُقَرَاءُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

فَقَالُوا ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ مِنَ الأَمْوَالِ بِالدَّرَجَاتِ الْعُلاَ وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي،

وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ يَحُجُّونَ بِهَا، وَيَعْتَمِرُونَ، وَيُجَاهِدُونَ، وَيَتَصَدَّقُونَ

قَالَ ‏”‏ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ بِأَمْرٍ إِنْ أَخَذْتُمْ بِهِ أَدْرَكْتُمْ مَنْ سَبَقَكُمْ وَلَمْ يُدْرِكْكُمْ أَحَدٌ بَعْدَكُمْ، وَكُنْتُمْ خَيْرَ مَنْ أَنْتُمْ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِ،

إِلاَّ مَنْ عَمِلَ مِثْلَهُ

تُسَبِّحُونَ وَتَحْمَدُونَ، وَتُكَبِّرُونَ خَلْفَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ

মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দরিদ্রলোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন,

সম্পদশালী ও ধনী ব‍্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তারা আমাদের মত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছেন

আমাদের মত সিয়াম পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হজ্ব, উমরা, জিহাদ ও সাদাকা করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ শুনে তিনি বললেন,

আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে, যারা নেক কাজে তোমাদের চাইতে অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে, তাদের সমপর্যায়ে পৌছাতে পারবে।

তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র।

তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার করে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) তাহ মীদ (আলহামদু লিল্লাহ) এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে।

রাত জেগে কিভাবে লক্ষ নেকী লাভ করা যায়

অনুরুপ ভাবে যে ব্যক্তি রাত জেগে সালাত আদায় করে তার ফজিলত সম্পর্কে

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ… حَدَّثَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏

مَنْ تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ،

لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ‏.‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ،

وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ‏.‏

ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي‏.‏ أَوْ دَعَا اسْتُجِيبَ، فَإِنْ تَوَضَّأَ وَصَلَّى قُبِلَتْ صَلاَتُهُ ‏”

সাদাকা ইবনু ফাযল (রহঃ) … উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যাক্তি রাতে জেগে ওঠে এ দু’আ পড়ে ……لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ এক আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই।

রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনই সব কিছুর উপরে শক্তিমান। যাবতীয় হামদ আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য ইলাহ্ নেই।

আল্লাহ মহান, গুনাহ থেকে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত। তারপর বলে,

ইয়া আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন। বা (অন্য কোন) দু’আ করে, তাঁর দু’আ কবূল করা হয়।

যে কালিমার দ্বারা ২০ লক্ষ ছোয়াব অর্জন করা যায়।

وقال ابن أبي حاتم
سألتُ أَبِي عَنْ حديثٍ رَوَاهُ مَرْوَانُ ، عَنْ فَائِدٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِر، عن جابر، عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

مَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ يَقُول أَحَدَ عَشَرَ مَرَّةً :

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريك لَهُ ، أَحدًا صَمَدًا لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

إِلاَّ كَتَبَ لَهُ أَلْفَيْ أَلْفِ حَسَنَةٍ ، وَمَنْ زَادَ زَادَهُ اللهُ
قَالَ أَبِي: ” هَذَا حديثٌ مُنكَرٌ

ইবনে আবী হাতেম রাহ. বলেন আমি আমার পিতাকে মারওয়ান এর হাদিস সম্পর্কে জিঙ্গাস করেছি। হাদিসটি হল:

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريك لَهُ ، أَحدًا صَمَدًا لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ؛

কেহ যদি এ কালিমাটি এগার বার পড়ে তাহলে আল্লাহ তাকে ২০ লক্ষ ছোয়াব দান করবেন।

তখন আমার পিতা এ হাদিস সম্পর্কে মন্তব্য করেছে যে হাদিসটি মুনকার।

৪০ লক্ষ সোয়াব অর্জনের আরো একটি হাদিস।

– روى الإمام أحمد ، والترمذي ، والطبراني في الكبير من طريق الْخَلِيل بْن مُرَّةَ ، عَنِ الْأَزْهَرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :

مَنْ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، إِلَهًا وَاحِدًا أَحَدًا صَمَدًا، لَمْ يَتَّخِذْ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ،

عَشْرَ مَرَّاتٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَرْبَعِينَ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ
وهذا إسناد ضعيف جدا ، الخليل بن مرة متروك

قال الترمذي عقب روايته لهذا الحديث : ” هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ، لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الوَجْهِ

وَالخَلِيلُ بْنُ مُرَّةَ لَيْسَ بِالقَوِيِّ عِنْدَ أَصْحَابِ الحَدِيثِ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ: هُوَ مُنْكَرُ الحَدِيثِ

ইমাম আহমদ, তিরমীযি, তবরানী সহ সকলে খলিল ইবনে মুররাহ তিনি আজহার ইবনে আব্দুল্লাহ তিনি হযরত তামীমে দারী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান: যে ব্যক্তি,

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، إِلَهًا وَاحِدًا أَحَدًا صَمَدًا، لَمْ يَتَّخِذْ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

এ কালিমা দশ বার পড়বে আল্লাহ তাকে ৪০ লক্ষ নেকী দান করবেন।

এ সনদটি অনেক দূর্বল কেননা খলিল ইবনে মুররাহ মাতরুকুল হাদিস।

ইমাম তিরমীযি রহ. এ হাদিস বর্ণনা করার পর বলেন: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ، لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الوَجْهِ

এবং খলিল ইবনে মুররাহ হাদিস বিশারদ এর নিকট শক্তিশালী রাবী নন।

মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বলেন: هُوَ مُنْكَرُ الحَدِيثِ

হাদিসের মান:

ومن قال: أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له أحدا صمدا لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد، كتب الله له بها أربعين ألف حسنة “.

وبقية رجال الإسناد ثقات غير أن إسماعيل بن عياش ضعيف في روايته عن غير الشاميين وهذه منها

وجملة القول: أن سند هذه الطريق مظلم فلا يدفع بمثله حكم ابن الجوزي عليه بالوضع،

لاسيما وفيها تلك الزيادة التي تؤكد هذا الحكم لما فيها من المبالغة في الأجر لمجرد النطق بتلك الجملة المباركة،

وهذه المبالغة من أمارات وضع الحديث كما هو مقرر في محله

ইবনুল জাওযী হাদীছটি “আল-মাওযু’আত” (২/১৭১) গ্রন্থে উকায়লীর সূত্রে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি বানোয়াট। যিয়াদ জাল করার দোষে দোষী।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” (পৃঃ ৩৫২) গ্রন্থে আরো দুটি সূত্র এবং একটি শাহেদ আছে বলে ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করেছেন।

কিন্তু প্রথম সূত্রটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। একাধিক বর্ণনাকারীর মধ্যে সমস্যা থাকার কারণে। তাতে আবু মুহাম্মাদ ইবনু যাকুওয়ান রয়েছেন, তিনি সমালোচিত

আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান রয়েছেন, তিনি মাজহুল। ইসমাঈল ইবনু আইয়াশ রয়েছেন, তিনি দুর্বল

এ ছাড়া এটির বর্ধিত অংশে সাওয়াব প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অতিশয় বাড়াবাড়ি করা হয়েছে যা প্রমাণ করছে হাদীছটি বানোয়াট হওয়ার।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সহী হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

বিঃ দ্রঃ আপনার ব্যাকলিং প্রয়োজন?

আমাদের যে কোন পোস্টের লিংক আপনার পোস্টে সংযোগ করে কমেন্ট সেকশনে তার লিংক দিয়ে কমেন্ট করুন।

আমরা আপনাকে আমাদের সাইটে সংযোগ করে নিব।

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি | যে আমলে নেকী অর্জন করা যায় | Bangla Islam

Comments are closed.