যে উজর ব্যতীত নামায ছেড়ে দেয় তার হুকুম কি।

উজর ব্যতীত নামায ছেড়ে
উজর ব্যতীত নামায ছেড়ে

যে উজর ব্যতীত নামায ছেড়ে দেয় তার হুকুম কি ?

যে ব্যক্তি উজর ব্যতীত নামায ছেড়ে দেয় ইসলামী শরীয়তে তার হুকুম কি? এবং তার সাথে মেলামেশা, খাওয়া-দাওয়া করা কেমন?

সাথে সাথে তার বিবাহিত স্ত্রী ও তার জানাযার হুকুম কি?

আজ আমরা যে ব্যক্তি উজর ব্যতীত নামাজ ছেড়ে দেয় তার হুকুম কি এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ইসলাম (BanglaIslam .net) এর পক্ষ থেকে দলিল ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করে শুরু করছি।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরয আইন। যা তাকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।

এখন কথা হল, যে ব্যক্তি তার ফরযিয়্যাত হওয়ার বিশ্বাস রাখে কিন্তু অলসতার ইত্যাদি করে তা ছেড়ে দেয়। সাথে সাথে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার শাস্তির ভয় রাখে।

তাহলে শরীয়তের ভাষ্যনুযায়ী সে কাফের নয়। এমত অবস্থায় তাকে বুঝাতে হবে এবং বারবার নামাজের তাগিদ দিতে হবে। যদি মেনে যায় তাহলে ভালো।

অন্যথায় তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে। যাতে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার উপর তওবা করে এবং ভবিষ্যতে পূর্বের কৃত কর্মের অনুশোচনা নিয়ে নামাজ শুরু করে দেয়।

আর যদি সে নামাজের ফরযিয়্যাত এর উপর বিশ্বাস করে না। বরং তার ফরযিয়্যাতকে অস্বিকার করে এবং স্বাভাবিকভাবেই নামাজ ছেড়ে দেয়।

এবং ভবিষ্যতে তার কাজা করার নিয়ত না রাখে এবং তার শাস্তির ভয়ও করে না। তাহলে সে ব্যক্তি শরীয়তের ভাষ্যনুযায়ী কাফের।

এমন ব্যক্তির বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে। এবং তার স্ত্রীর জন্য তার থেকে পৃথক থাকা জরুরী।

যতক্ষণ পর্যন্ত সে নতুন করে ঈমান না আনবে এবং বিবাহ না করবে। ততক্ষণ পর্যন্ত সোহবত ইখতিয়ার করা হারাম। এবং তার জানাযার নামাজও নাজায়েজ।

সঠিকটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

যে ব্যক্তি উজর ব্যতীত নামায ছেড়ে দেয় তার হুকুমের দলিল সমূহ।

هِيَ فَرْضُ عَيْنٍ عَلَى كُلِّ مُكَلَّفٍ أَيْ الصَّلَاةُ الْكَامِلَةُ، وَهِيَ الْخَمْسُ الْمَكْتُوبَةُ

وَيَكْفُرُ جَاحِدُهَا لِثُبُوتِهَا بِدَلِيلٍ قَطْعِيٍّ  وَتَارِكُهَا عَمْدًا مَجَانَةً أَيْ تَكَاسُلًا فَاسِقٌ

يُحْبَسُ حَتَّى يُصَلِّيَ لِأَنَّهُ يُحْبَسُ لِحَقِّ الْعَبْدِ فَحَقُّ الْحَقِّ أَحَقُّ، وَقِيلَ يُضْرَبُ حَتَّى يَسِيلَ مِنْهُ الدَّمُ.
——–
ص352 – كتاب الدر المختار وحاشية ابن عابدين رد المحتار – كتاب الصلاة

….

وَفِي شَرْحِ الْوَهْبَانِيَّةِ لِلشُّرُنْبُلَالِيِّ: مَا يَكُونُ كُفْرًا اتِّفَاقًا يُبْطِلُ الْعَمَلَ وَالنِّكَاحَ وَأَوْلَادُهُ أَوْلَادُ زِنًا

وَمَا فِيهِ خِلَافٌ يُؤْمَرُ بِالِاسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ وَتَجْدِيدِ النِّكَاحِ
كَذَا فِي فُصُولِ الْعِمَادِيِّ، لَكِنْ ذَكَرَ فِي نُورِ الْعَيْنِ

وَيُجَدِّدُ بَيْنَهُمَا النِّكَاحَ إنْ رَضِيَتْ زَوْجَتُهُ بِالْعَوْدِ إلَيْهِ وَإِلَّا فَلَا تُجْبَرُ،
——–
ص247 – كتاب الدر المختار وحاشية ابن عابدين رد المحتار – مطلب توبة اليأس مقبولة دون إيمان اليأس

وَيُصَلَّى عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ مَاتَ بَعْدَ الْوِلَادَةِ صَغِيرًا كَانَ أَوْ كَبِيرًا ذَكَرًا كَانَ أَوْ أُنْثَى

حُرًّا كَانَ أَوْ عَبْدًا إلَّا الْبُغَاةَ وَقُطَّاعَ الطَّرِيقِ وَمَنْ بِمِثْلِ حَالِهِمْ

وَإِنْ مَاتَ حَالَ وِلَادَتِهِ فَإِنْ كَانَ خَرَجَ أَكْثَرُهُ صُلِّيَ عَلَيْهِ وَإِنْ كَانَ أَقَلُّهُ لَمْ يُصَلَّ عَلَيْهِ

وَإِنْ خَرَجَ نِصْفُهُ لَمْ يُذْكَرْ فِي الْكِتَابِ وَيَجِبُ أَنْ يَكُونَ هَذَا عَلَى قِيَاسِ

مَا ذَكَرْنَا مِنْ الصَّلَاةِ عَلَى نِصْفِ الْمَيِّتِ، كَذَا فِي الْبَدَائِعِ.
——–
ص163 – كتاب الفتاوى الهندية – الفصل الخامس في الصلاة على الميت – المكتبة الشاملة الحديثة

 

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. নামাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে ইসলাম কি বলে ? - বাংলা ইসলাম

Comments are closed.