ঈমান কি ও কেন | What is faith | পার্ট ২

ঈমান কি
ঈমান কি

ঈমান কি ও কেন what is faith পার্ট-২

দীন ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ হচ্ছে সাওম। রোযা, সাওম বা সিয়াম ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়।

সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকর পানাহার,পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নামই হল রোযা।

ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমযান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।

কুরআনের সূরা বাকারাতে ঘোষণা করা হয়েছে:

“হে ঈমানদারগন তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল।

যাতে করে তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পার”।

রোজা শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিরত থাকা’। আর আরবিতে এর নাম সাওম, বহুবচনে সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা।

পারিভাষিক অর্থে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকা।

এটা সুস্থ সাবালক মুসলিম নর-নারীর ওপর উপবাস মূলক ইবাদত। পুরো মাহে রমজানে সাওম পালন করা বাধ্যতামূলক।

কোরআনের ভাষ্যঅনুযায়ী পূর্ববর্তিদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন হাদিসে বলা হয়েছে,

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় রোযা হযরত দাউদ আ. এর রোযা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন বিনা রোযায় থাকতেন।

আরববাসীরাও ইসলামের পূর্বে ঈমান কি এবং রোযা সম্পর্কে কমবেশী ওয়াকিফহাল ছিল।

মক্কার কুরাইশগণ অন্ধকার যুগে আশুরা অর্থাৎ ১০ মুহররমে রোযা রাখতো।

তারা এই দিনে কাবা শরিফের উপর নতুন গেলাফ চড়াতো। মদীনায় বসবাসকারী ইহুদীরাও পৃথকভাবে আশুরা উৎসব পালন করতো।

অর্থাৎ ইহুদীরা নিজেদের গণনানুসারে সপ্তম মাসের ১০ম দিনে রোযা রাখতো।

আল্লাহ আমাদেরকে রমযানের রোজা গুলো গুরুত্ব সহকারে আদায় করার তাওফিক দান করুক।

৪. দীন ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে যাকাত।

ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন যাকাত এবং তা ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি।

প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়।

ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হল সালাত ও যাকাত।

কুরআন মজীদে বহু স্থানে সালাত-যাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে;

‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। এবং তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে।

নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন।

যাকাতের এ বিধান কেবল স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমানদের উপর ফরয। সম্পদের উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য

প্রথমত: সম্পদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ হওয়া জরুরী।

দ্বিতীয়ত: সম্পদ অবশ্য বর্ধনশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাওয়ার যোগ্যতা থাকাই যথেষ্ট, বৃদ্ধি পাওয়া জরুরী নয়।

তৃতীয়ত: নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা আবশ্যক।

নিসাব হলো-প্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা স্বর্ণরৌপ্যের সমমূল্যের সম্পদের মালিক হওয়া।

অথবা উভয়টি মিলে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ কিংবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্যের সমান বা সব সম্পদ মিলে উভয়টি থেকে যে কোনো একটির নিসাবের সমান হলে যাকাত দিতে হবে।

মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে গরিবের জন্য যা অধিকতর লাভজনক, তার মূল্য ধরতে হবে।

চতুর্থত: নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ একবছর মালিকানায় থাকতে হবে।

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ্জ্ব এবং যাকাত শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষ ইবাদত যা সম্পদশালীদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে “যাকাত” শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার। নামাজের পরে সবচেয়ে বেশি বার এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ আমাদের দেশের সম্পদশালীদেরকে যাকাতের হক আদায় করে যাকাত দেওয়ার তাওফিক দান করুক।

৫. ঈমান কি এর পঞ্চম হচ্ছে হজ্জ।

হজ ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা।

এটি ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। হজ’ আরবী শব্দ। অভিধানে এর অর্থ: ইচ্ছা করা, সংকল্প করা, পরিকল্পনা করা।

এছাড়া যিয়ারাহ বা সাক্ষাত করা, মহান বস্তুর প্রতি ইচ্ছা করার অর্থেও শব্দটির ব্যবহার রয়েছে। নেহায়া গ্রন্থকারের মতে, হজ অর্থ, যে কোন কিছু করার ইচ্ছা।

পারিভাষিক অর্থে হজ হচ্ছে: ইসলামের একটি অন্যতম ইবাদাত তথা মৌলিক বুনিয়াদ সম্পন্ন করার জন্য বায়তুল্লাহ যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করা।

শরহে বেকায়াহ’ গ্রন্থকার হজের সংজ্ঞায় বলেছেন, হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থান অথ্যাৎ বায়তুল্লাহ যিয়ারাত করা।

শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ্জ্ব সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক।

আরবি জিলহজ্জ্ব মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ, হজ্জ্বের জন্য নির্ধরিত সময়।

হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের মক্কা নগরী এবং মিনা, আরাফাত, মুযদালিফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক।

অতএব মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে কোরআন হাদীসের নির্দেশনা অনুযায়ী বায়তুল্লাহ যিয়ারাতের জন্য মক্কা গমনকে হজ বলে।

মুসলিম মিল্লাতের কিবলা মক্কার কাবাগৃহ ও তৎসন্নিহিত স্থান সমূহ প্রত্যেক সুস্থ ও সংগতিসম্পন্ন মুসলিমের পক্ষে জীবনে অন্তত: একবার একটি বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান এবং আনুষ্ঠানিক ইবাদত সম্পাদন করার নাম হজ্জ।

আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:

আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মানুষের কর্তব্য, বাইতুল্লাহর হজ্জ আদায় করা, যার সে পথ অতিক্রম করার সামর্থ আছে। সূরা আল ইমরান

আল কোরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে;

তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে পরিপূর্ণ রূপে হজ্জ ও ওমরা আদায় কর। সূরা বাকারাহ।

বস্তুত: ইসলামের এই পাঁচটি স্তম্ভের প্রত্যেকটির অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে, যার বিবরণ আল কোরআনে ও হাদীসে পরিপূর্ণরূপে বিধৃত আছে।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার শামিয়ানার নিচে আশ্রয় দান করুন। আমীন।

Facebook Comments

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.