ইসলাম শান্তির ধর্ম | মুসলমান কাকে বলে | ২য় পার্ট

ইসলাম শান্তির ধর্ম | মুসলমান কাকে বলে | ২ পার্ট | Bangla Islam
চমৎকার জুমার বয়ান jumar boyan bangla ইসলাম শান্তির ধর্ম মুসলমান কাকে বলে ২ পার্ট Bangla Islam

ইসলাম শান্তির ধর্ম | মুসলমান কাকে বলে | ২য় পার্ট

কোরআন ও হাদিস থেকে ইসলাম শান্তির ধর্ম ঘোষনা করা হয়েছে। সত্যিকারে মুসলমান কাকে বলে।

ইসলাম কি এ নিয়ে চমৎকার একটি ওয়াজ এর ২ পার্ট | Bangla Islam

আলোচক মাও. ইবরাহিম মোস্তফা।

পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে;

হে লোক সকল তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম কথাবার্তা বলো।

পবিত্র কোরআন ছাড়াও অসংখ্য হাদীস এমন আছে, যাতে হযরত রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম;

স্বীয় অধিকারসমূহ পালন করার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

এই সাওয়াব বা পুণ্যের সীমারেখা এতই প্রশস্ত ও ব্যাপক যে, এতে প্রত্যেক জীবনধারী বস্তু অর্থাৎ প্রত্যেক প্রাণী অংশীদার।

তিরমিজী শরীফে হযরত আবুজর (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, হুজুর (সা:) বলেছেন;

‘তোমরা যেখানেই অবস্থান করো না কেন আল্লাহকে স্মরণ রাখবে, মন্দের পরিবর্তে ভাল করবে এবং মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করবে।

হযরত আবু হোরায়রা (রা:) বর্ণনা করেছেন, ‘একদা হুজুর (সা:) পাঁচটি বস্তুর উল্লেখ করলেন।

এর একটি ছিল এই যে, তোমরা সকলে প্রত্যেক লোকের জন্য তাই কামনা কর, যা তোমরা নিজেদের জন্য উত্তম মনে কর। তবেই তোমরা সত্যিকারের মুসলমান হতে পারবে।

তিরমিজী এতেই সত্যিকারে প্রমাণিত হবে ইসলাম শান্তির ধর্ম।

তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর মুখ ফিরাও না, তোমরা সকলেই আল্লাহর বান্দা এবং পরস্পর তোমরা ভ্রাতাস্বরূপ হয়ে যাও।

রাসুল বলেছেন মুসলমানরা পরস্পর ভাইস্বরুপ।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন;

প্রত্যেক তরল বস্তুর সাথে সদাচরণ করাতে সওয়াব রয়েছে।

অর্থাৎ সৃষ্টির প্রত্যেক বস্তু যার মধ্যে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে, এর সাথে উত্তম ব্যবহারে পুণ্য অর্জণ হয়।

এতে প্রমাণিত হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত সমগ্র মানব জাতির কল্যাণ সাধনের প্রেরণা অন্তরে পোষণ না করবে।

ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মানুষ সত্যিকারের মুসলমান হতে পারবে না এবং সে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারেও নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করার অধিকার রাখবে না।

ইমাম কাজী আবু ইউসুফ তাঁর ‘কেতাবুল খেরাজে’ লিখেছেন যে,

একদা হযরত ওমর রা: দেখলেন যে, একজন অন্ধ বৃদ্ধলোক তাঁর দরজায় এসে ভিক্ষা চাইছে।

হযরত ওমর রা: পেছনে এসে তার হাত ধরে ফেললেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে,

তোমার ভিক্ষা চাওয়ার প্রয়োজন হল কেন? অন্ধ বৃদ্ধ লোকটি উত্তর করল,

করের বোঝা হতে মুক্তি সাধন, প্রয়োজন পূরণ করা এবং উপরন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে আমি ভিক্ষাবৃত্তি আরম্ভ করেছি।

উত্তর শ্রবণ করে হযরত ওমর রা: বৃদ্ধ ভিক্ষুককে নিজ গৃহে নিয়ে গেলেন এবং গৃহ হতে কিছু দান করে

আবার তাকে বায়তুল মালের রক্ষকের নিকট প্রেরণ করলেন এবং নির্দেশ পাঠালেন যে,

এই বৃদ্ধ লোক ও তার মত অন্যান্যদের প্রতি যেন দৃষ্টি রাখা হয়।

নির্দেশনামায় হযরত ওমর (রা:) বলেছেন, ‘আল্লাহর শপথ, এটা ইনসাফ হবেনা ‍

যদি আমরা তার যৌবনের উপার্জন ভোগ করি এবং বৃদ্ধ বয়সে তার সাহায্য করা ভুলে যাই।

ইসলাম শান্তির ধর্ম এটাই তার শিক্ষা।

পবিত্র কোরআনে দান খয়রাত করার যে অনুমতি দান করা হয়েছে, তা ফকির-মিসকিনদের জন্য যারা মুসলমান সাথে সাথে দরিদ্র মিসকিন, তাদেরকে ধার কর্জ না করার কথা বলা হয়েছে।

এভাবে ইসলাম মুসলিম ও অমুসলিমের প্রশ্নের চিরতরে মীমাংসা করে দিয়েছে।

‘কিতাবুল আমওয়াল’ -এ উল্লেখিত হয়েছে যে,

হযরত আবু ময়সরা বিন মায়মুন এবং ওমর বিন শোরাহবিল ফেৎরার অর্থ দ্বারা খ্রীষ্টান পাদ্রীদের সাহায্য করতেন।

স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোকদেরকে তাদের মোশরেক মাতা-পিতার সাথে আত্মীয়সুলভ ব্যবহারের অনুমতি দান করেন।

জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা

মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই ইসলামী ব্যবস্থা

পারস্পরিক ভালবাসা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং ঐক্যবদ্ধ জীবনযাপনকে অপরিহার্য করে দিয়েছে।

পক্ষান্তরে যেসব বিষয় মানুষের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, হিংসা- বিদ্বেষ, জিগাংসা, হানাহানি, খুন খারাপী, হতাশা, বঞ্চনা, শোষণ, নিপীড়ন এবং সাধারণ ও স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরায়,

ইসলাম এ সকল বিষয়কে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং হারাম ঘোষণা করেছে।

তাই ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদসহ যে কোন ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের কোনই সম্পর্ক নেই।

মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন;

‘তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত খাঁটি মোমেন হবে না

যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তা অপর মানুষের জন্যও পছন্দ করবে এবং যতক্ষণ না সে মানুষকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসবে’।

সূরা বনী ইসরাঈলে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

‘নিশ্চয়ই এ কুরআন হিদায়াত করে সেই পথের দিকে, যা সুদৃঢ় এবং সৎ কর্মপরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

আর যারা আখেরাতের উপর ঈমান রাখে না, আমরা তাদের জন্য বেদনাদায়ক শাস্তি তৈরি করে রেখেছি।


ইসলামের এই ধর্মীয় ও মানবিক আদর্শ প্রচারের কথা কেবল মুখে উচ্চারণ করলেই কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না।

প্রত্যেকের বাস্তব জীবনেও তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে উক্ত আলোচনা থেকে ভড়পুর উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. কোরআন নাজিলের ইতিহাস | কুরআন কত সালে নাযিল হয় - বাংলা ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published.