আল্লাহর উপর বান্দার হক নিয়ে রাসুলের হাদিস | বাংলা ইসলাম

আল্লাহর উপর বান্দার হক
আল্লাহর উপর বান্দার হক নিয়ে রাসুলের হাদিস বাংলা ইসলাম

আল্লাহর উপর বান্দার হক নিয়ে রাসুলের হাদিস

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়ায রাযি. কে জিঙ্গাস করেছিলেন। তুমি কি জান আল্লাহর উপর বান্দার হক কি? তখন তিনি আদবের সাথে জবাব দিয়েছিলেন আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন।

যেমন হাদিসে বর্ণিত রয়েছে:

فَقَالَ ‏”‏ يَا مُعَاذُ، هَلْ تَدْرِي حَقَّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ وَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ ‏”‏‏.‏ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَحَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لاَ يُعَذِّبَ مَنْ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا ‏”‏‏.‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلاَ أُبَشِّرُ بِهِ النَّاسَ قَالَ ‏”‏ لاَ تُبَشِّرْهُمْ فَيَتَّكِلُوا ‏”‏‏.‏

তিনি আমাকে বললেন, হে মুয়ায, তুমি কি জানো বান্দার ঊপর আল্লাহর হক কি? এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কি? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন।

তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হল, বান্দা তার ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হল,

তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক না করলে আল্লাহ তাঁকে শাস্তি দিবেন না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি লোকদের এ সুসংবাদ দিব না?

তিনি বললেন, তুমি তাদের সুসংবাদটি দিও না, তাহলে লোকেরা (এর উপরই) নির্ভর করে বসবে।

ইমাম বায়যাবী রহ. স্বীয় কিতাব (তোহফাতুল আবরার শরহে মাসাবিহুস্ সুন্নাহ) কিতাবে আল্লাহর উপর বান্দার হক সম্পর্কে লিখেন

হক অর্থ প্রতিষ্ঠিত ইবাদতের মাধ্যমে যা বান্দার উপর নিদ্দারিত হয় যা অবশ্যয় হতে হবে। আর ছোয়াব দেওয়া আল্লাহর উপর এমন যা তার ওয়াদাকে সত্য হওয়ার দাবি রাখে।

ইমাম ত্বীবি রহ. বলেন:

হক্কুল্লাহ এর অর্থ হল অবশ্যয়, পালনিয়।
আর কেহ বলেন: আল্লাহর উপর বান্দার হক হল ঐটা যা তিনি তার বান্দার সাথে করেছেন।

আর তার ওয়াদার গুণাবলী হল অবশ্যয় তা পতিফলিত হবে। কেননা তিনি সত্য তার ওয়াদা ও সত্য।

হযরত ইবনে উসাইমীন বলেন:

حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئاً، وحق العباد على الله ألا يعذب من لا يشرك به شيئاً

এর অর্থ হল আল্লাহ স্বীয় বান্দাকে শাস্তি দিবেন না। যখন সে আল্লাহর সাথে শরিক না করে। কেননা শিরিক না করা এ কথার উপর দালালত করে যে

তার মাঝে এখলাছ ও একত্ববাদের বিশ্বাস রয়েছে। আর এখলাছ ও একত্ববাদ হয় না ইবাদত ব্যতিত।

ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হক্কুল্লাহর ব্যপারে বলেন

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারী কিতাবে (هل تدري ما حق الله على عباده) সম্পর্কে উল্লেখ করেন হক তাহাকে বলে যা সব জায়গায় পাওয়া যায়।

যেমন বলা হয় সে কথায় সত্যবাদী এর অর্থ তার কথার মাঝে কোন সন্দেহ নাই। অনুরুপ ভাবে আরো অনেক আকাবের হক নিয়ে অনেক ব্যখ্যা করেছেন।

মোট কথা নবী করীম সা. হযরত মোয়াজ রাযি. কে হক সম্পর্কে দুইটি ব্যখ্যা দিয়াছেন। যার উভয়টি তাওহিদের সাথে সম্পৃক্ত।

তার প্রথমটি হল: আল্লাহর হক বান্দার উপর। তা হল বান্দা আল্লাহ সুবহানাহু এর ইবাদত করবে।

এবং তার সাথে কাওকে শরিক করবে না। আর এটা এমন এক বিশ্বাস যা বান্দার উপর অবশ্যয় পালনিয়।

কেননা আল্লাহ যত হুকুম দিয়াছেন তার মধ্যে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুকুুম হল এটা। এ জন্য যে আমাদের নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

এর পূর্বে যত নবী পাঠাইছেন সকলকে একই হুকুম দিয়াছেন।

আর তা হল এক আল্লাহর ইবদত কর এবং তার সাথে কাওকে শরিক করিয় না। কেননা তাওহিদকে জান্নাতে প্রবেশের শর্ত বনানো হয়েছে। এবং জাহান্নামে প্রবেশের জন্য বাদা দানকারী বানিয়েছেন।

যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন

إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللّهُ عَلَيهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ

নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম।

অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই। সুরা মায়েদা আয়াত:৭২

সুতারাং হাদিস থেকে বুঝে আসল প্রথম হক হল: حق الله على عباده আর তা আদায় হবে তার ইবাদত করা ও কাওকে তার সাথে শরিক না করার মাধ্যমে।

তার দ্বিতীয়টি হল: বান্দার হক আল্লাহর উপর। আর তা হল ঐ সমস্ত বান্দাদেরকে শাস্তি দিবেন না যারা তার সাথে শরিক করে না।

আর ইহা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় অনুগ্রহ হবে।

কেননা আল্লাহর উপর কোন জিনিষ আবশ্যক নয়। আর তিনি কোন কাজ করতে বাধ্য নন।

যেমন ইবনে তায়মিয়াহ বলেন: অনুগত হওয়া এটা দাবি রাখে যে সে প্রতিধান পাবে আর সেটা মালিকের অনুগ্রহ ও করুনা।

যার উপর দালালত করে কোরআন ও সুন্নাহ।

আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন

وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ

মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। সুরা রূম আয়াত:৪৭

উল্লেখিত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে মুক্তি ও জান্নাত অর্জিত হয় একমাত্র আল্লাহর অনু্গ্রহ ও রহমত থেকে। যেমন হাদিসে এসেছে:

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ…أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ لَنْ يُدْخِلَ أَحَدًا عَمَلُهُ الْجَنَّةَ ‏”‏‏.‏ قَالُوا وَلاَ أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ لاَ، وَلاَ أَنَا إِلاَّ أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ بِفَضْلٍ وَرَحْمَةٍ

আবুল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি

তোমাদের কাউকে তার নেক আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে সক্ষম হবে না।

লোকজন প্রশ্ন করলঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকেও নয়? তিনি বললেনঃ আমাকেও নয়, ততক্ষন পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে তার করুণা ও মেহেরবানীর দ্বারা ঢেকে না দেন।

হাদিসে যে নিষেধ রয়েছে তার জবাব

ইবনে হাজার রহ. বলেন: এর জবাব হল হাদিসে যে নিষেধ রয়েছে তা বান্দার ঐ আমল যা কবুল হয়নী। কেননা কোরআনে বর্ণিত রয়েছে:

ادْخُلُواْ الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর। সুরা নাহল আয়াত:৩২

এ হাদিস ও আয়াত থেকে বুঝে আসল জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে এমাত্র ঐ আমল দ্বারা যা আল্লাহর কাছে গ্রহন যোগ্য। আর তা অর্জিত হবে তার অনুগ্রহ ও করম এর মাধ্যমে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে জান্নাতে প্রবেশ করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

বিঃ দ্রঃ আপনার ব্যাকলিং প্রয়োজন?

আমাদের যে কোন পোস্টের লিংক আপনার পোস্টে সংযোগ করে কমেন্ট সেকশনে তার লিংক দিয়ে কমেন্ট করুন।

আমরা আপনাকে আমাদের সাইটে সংযোগ করে নিব।

Facebook Comments