আজান ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন । Bangla Islam

আজান ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন । Bangla Islam
আজান ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন । Bangla Islam

আজান ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন।

আজান ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন। দৈনিক পাঁচবার নামাজের জন্য আহ্বান করার যে শব্দগুলো রয়েছে তা ওহী নির্দেশিত কতিপয় শব্দ। ইনশা-আল্লাহ এ বিষয় নিয়ে আমরা দলিল বিত্তিক কিছু আলোচনা করব।

আজানের আহকাম ও বরকত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত রয়েছে। আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, “তোমরা যখন আজান শুনবে………….

وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم،

يَقُوْلُ: إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ،

ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ ؛ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلاَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْراً

، ثُمَّ سَلُوا اللهَ لِيَ الوَسِيلَةَ ؛ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي

إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ، وَأرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ،

فَمَنْ سَأَلَ لِيَ الوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ

আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে,

“তোমরা যখন আজান শুনবে, তখন (আযানের উত্তরে) মুয়াজ্জিন যা কিছু বলবে, তোমরাও ঠিক তাই বলবে। তারপর আযান শেষে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে।

কেননা, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে তার প্রতি আল্লাহ দশটি রহমত নাযিল করবেন।

অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ‘অসীলা’ প্রার্থনা করবে। কারণ, ‘অসীলা’ হচ্ছে জান্নাতের এমন একটি স্থান,

যা সমস্ত বান্দার মধ্যে কেবল আল্লাহর একটি বান্দা (তার উপযুক্ত) হবে। আর আশা করি, আমিই সেই বান্দা হব।

সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য অসীলা প্রার্থনা করবে, সে (আমার) সুপারিশ প্রাপ্ত হবে।

নামাযের জন্য যখন আযান দেবে, তখন উচ্চ স্বরে আযান দিবে।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে স্বা‘স্বা‘আহ হতে বর্ণিত, একদা আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, ‘আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি ছাগল……………

وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَبدِ الرَّحْمَانِ بنِ أَبي صَعْصَعَة: أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الخُدرِيَّ رضي الله عنه،

قَالَ لَهُ :إنِّي أَرَاكَ تُحبُّ الغَنَمَ وَالبَادِيَةَ فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِك – أَوْ بَادِيتِكَ –

فَأذَّنْتَ لِلصَّلاَةِ، فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ، فَإِنَّهُ لاَ يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ المُؤَذِّنِ جِنٌّ،

وَلاَ إِنْسٌ، وَلاَ شَيْءٌ، إِلاَّ شَهِدَ لَهُ يَومَ القِيَامَةِ

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে স্বা‘স্বা‘আহ হতে বর্ণিত, একদা আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন,

আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি ছাগল ও মরুভূমি ভালোবাসো। সুতরাং তুমি যখন তোমার ছাগলে বা মরুভূমিতে থাকবে

আর নামাযের জন্য আযান দেবে, তখন উচ্চ স্বরে আযান দিয়ো। কারণ মুয়াজ্জিনের আযান ধ্বনি যতদূর পর্যন্ত মানব-দানব ও অন্যান্য বস্তু শুনতে পাবে,

কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।

হজরত মোয়াবিয়া রা. বর্ণনা করেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কেয়ামতের দিন………..

وَعَنْ مُعَاوِيَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم

يَقُوْلُ: «المُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعْناقاً يَوْمَ القِيَامَةِ

মুআবিয়াহ ইবনে আবূ সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি,

কিয়ামতের দিনে সমস্ত লোকের চাইতে মুয়াজ্জিনদের গর্দান লম্বা হবে।

তুমি কি ‘হাইয়্যা আলাস স্বালাহ ও হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ (আজান) শুনতে পাও?

وَعَنْ عَبدِ الله- وَقِيلَ: عَمْرِو بنِ قَيسٍ – المَعرُوفِ بِابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الْمُؤَذِّنِ رضي الله عنه أَنَّه قَالَ:

يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ المَدينَةَ كَثِيرةُ الهَوَامِّ وَالسِّبَاعِ .

فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم

تَسْمَعُ حَيَّ عَلَى الصَّلاةِ حَيَّ عَلَى الفَلاحِ، فَحَيَّهلاً

আব্দুল্লাহ (মতান্তরে) আমর ইবনে ক্বায়স ওরফে ইবনে উম্মে মাকতূম মুয়াজ্জিন রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা তিনি বললেন,

হে আল্লাহর রাসূল! মদিনায় সরীসৃপ (সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি বিষাক্ত জন্তু) ও হিংস্র পশু অনেক আছে। (তাই আমাকে নিজ বাড়িতেই নামায পড়ার অনুমতি দিন)।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি ‘হাইয়্যা আলাস স্বালাহ ও হাইয়্যা আলাল ফালাহ’

(আযান) শুনতে পাও? (যদি শুনতে পাও), তাহলে মসজিদে এসো।

 

আজানের বরকত সম্পর্কে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, হুজুর (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি সাওয়াব লাভের জন্য সাত বছর পর্যন্ত আজান দিয়েছে………………….

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:

من أذن سبع سِنِين محتسبا كتبت لَهُ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি (পারিশ্রমিক ও বিনিময়ের লোভ বাদ দিয়ে) শুধু সাওয়াব লাভের আশায় সাত বছর পর্যন্ত আযান দেয় তার জন্য জাহান্নামের মুক্তি লিখে দেয়া হয়।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘ইমাম হচ্ছে জামিন (জিম্মাদার) এবং মোয়াজ্জিন আমিন। হে খোদা! তুমি ইমামদের…………………..

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ…… عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ‏”

‏ الإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اللهُمَّ أَرْشِدِ الأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম হচ্ছেন যিম্মাদার

এবং মুয়াজ্জিন (ওয়াক্তের) আমানাতদার। ‘হে আল্লাহ! ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দিন।

এটা অবশ্যই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য।

কোরআন ও হাদিসে অসংখ্য স্থানে শয়তানের প্ররোচনা-প্রতারণার বিবরণ রয়েছে। যেমন কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:

وَ اِمَّا یَنۡزَغَنَّکَ مِنَ الشَّیۡطٰنِ نَزۡغٌ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰهِ ؕ اِنَّهٗ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ

আর যদি শয়তানের পক্ষ হতে কোন প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

وَّ لِیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ اَنَّهُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ فَیُؤۡمِنُوۡا بِهٖ فَتُخۡبِتَ لَهٗ قُلُوۡبُهُمۡ ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ لَهَادِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ

এটা এজন্যও যে, যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটা অবশ্যই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য।

অতঃপর তারা যেন এর প্রতি ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর যেন এর প্রতি অনুগত হয়। আর যারা ঈমান এনেছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শনকারী।

অর্থাৎ, শয়তানের প্রক্ষেপণ যা আসলে তার প্ররোচনা; যা মুনাফিক, মুশরিক ও কাফেরদের জন্য যেমন ফিতনা ও পরীক্ষার কারণ হয়, তেমনি অন্য দিকে যারা জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ মু’মিন মানুষ;

তাঁদের ঈমান ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। তাঁরা বুঝতে পারেন যে, আল্লাহর অবতীর্ণ কুরআন সত্য। আর তার ফলে তাঁদের অন্তর আল্লাহর প্রতি অনুগত হয়।

যখন সালাতের জন্য আজান দেয়া হয়।

আর আজানের ক্ষেত্রে শয়তানের পরাজিত ভূমিকার বিষয়টাও স্থান লাভ করেছে। আজানের শব্দ শুনে শয়তান দিশেহারা হয়ে কিভাবে পলায়ন করে, সে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন :

حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ……….عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

‏ إِذَا نُودِيَ بِالصَّلاَةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ الأَذَانَ،

فَإِذَا قُضِيَ الأَذَانُ أَقْبَلَ، فَإِذَا ثُوِّبَ بِهَا أَدْبَرَ فَإِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ

يَقُولُ اذْكُرْ كَذَا وَكَذَا مَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَمْ صَلَّى،

فَإِذَا لَمْ يَدْرِ أَحَدُكُمْ كَمْ صَلَّى ثَلاَثًا أَوْ أَرْبَعًا فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهْوَ جَالِسٌ ‏”‏‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়,

আজব দুনিয়া । জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় ।

তখন শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে আযান শুনতে না পায় আর তার পশ্চাদ-বায়ু সশব্দে নির্গত হতে থাকে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে এগিয়ে আসে।

আবার সালাতের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেওয়া হলে সে পিঠ ফিরিয়ে পালায়। ইক্বামাত(ইকামত/একামত) শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে।

এমনকি সে সালাত আদায়রত ব্যক্তির মনে ওয়াস্ওয়াসা সৃষ্টি করে এবং বলতে থাকে, অমুক অমুক বিষয় স্মরণ কর, যা তার স্মরণে ছিল না।

এভাবে সে ব্যক্তি কত রাক‘আত সালাত আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারে না। তাই, তোমাদের কেউ তিন রাক‘আত

বা চার রাক‘আত সালাত আদায় করেছে, তা মনে রাখতে না পারলে বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা করবে।

আজানের শব্দ শুনে শয়তানের পলায়ন করার কারণ এই যে, আজানের শব্দ শুনে সে এ কারণে পালাতে চায় যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তাকে যেন সাক্ষী দিতে না হয়।

কেননা হুজুর (সা.) বলেছেন : কেয়ামতের দিন জিন, মানব এবং জমিনের প্রতিটি বস্তু, যারাই আজানের শব্দ শুনবে, সবাই সাক্ষী হবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস সমূহের আলোকে নিজেদের জীবন গড়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।

মাও. ইবরাহিম মোস্তফা
মাও. ইবরাহিম মোস্তফা
Facebook Comments