অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি | যে আমলে নেকী অর্জন করা যায় | Bangla Islam

অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি
অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি যে আমলে নেকী অর্জন করা যায় Bangla Islam

কি আমল করলে অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি অর্জন করা যায়

সকল প্রসংশা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আমাদেরকে কি আমল করলে অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি অর্জন করা যায় এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার তাওফিক দান করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতেন। যাতে উম্মত সহজে পার পেয়ে যায়। তাইত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিজেও তাওবা ইস্তেগফার করতেন।

যেমন হাদিসে এসেছে তিনি দৈনিক একশত বার এস্তেগফার পড়তেন:

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ…عَنْ أَبِي، بُرْدَةَ قَالَ سَمِعْتُ الأَغَرَّ، وَكَانَ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

يُحَدِّثُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ.‏ ‏‏

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আবূ বুরদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আগার্‌র (রাঃ) থেকে শুনেছি যে,

ইবনু উমর (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর। কেননা আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক একশ’ বার তাওবা করে থাকি।

বিষয় বস্তু ঠিক রেখে শব্দ ও সনদের পরিবর্তনে আরো একটি হাদিস:

وعن الأغر بن يسار المزنى رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ 

ياأيها الناس توبوا إلى الله واستغفروه فإنى أتوب في اليوم مائه مرة‏‏‏.‏

আগার্র ইবনু ইয়াসার মুযানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

‘‘হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তওবা কর ও তাঁর নিকট ক্ষমা চাও! কেননা, আমি প্রতিদিন ১০০ বার করে তওবাহ করে থাকি।

যে আমলে অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি সহজে অর্জন করা যায়

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব সকালে তার এক সাহাবীর কাছ থেকে বের হলেন। এমতবস্থায় ঐ সাহাবী ইবাদতে লিপ্ত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কাজ শেষ করে যখন ফিরলেন।

তখন দেখতে পেলেন ঐ সাহাবী এখনো আপন স্থানে বসে ইবাদতে মত্ত রয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সহজে অর্ধ দিন তাসবিহ পড়ার নেকি লাভ করা যায় এমন একটি আমল শিখিয়ে দিলেন।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، … عَنْ جُوَيْرِيَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً

حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَنْ أَضْحَى وَهِيَ جَالِسَةٌ

فَقَالَ مَا زِلْتِ عَلَى الْحَالِ الَّتِي فَارَقْتُكِ عَلَيْهَا ‏ قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم 

لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ

لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ ‏.‏

কুতায়বা ইবনু সাঈদ, আমর নাকিদ, ইবনু আবূ উমর (রহঃ) … জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যূষে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন।

যখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তিনি সালাতের জায়গায় ছিলেন। এরপর তিনি দুহা’র পরে ফিরে এলেন। তখনও তিনি বসেছিলেন।

তিনি বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি সেই অবস্থায়ই আছ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ

আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি।

আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করলে এই কালেমা চারটির ওযনই বেশী হবে।

কালেমাগুলো এই-

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

“আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি তার অগণিত সৃষ্টির সমান, তার সন্তুষ্টি, তার আরশের ওযনের পরিমাণ ও তার কালেমার (কালির) সংখ্যার পরিমাণ।

বিষয় বস্তু ঠিক রেখে শব্দ ও সনদের পরিবর্তনে আরো একটি হাদিস:

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، … عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهَا،

أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى

تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ  أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ 

فَقَالَ ‏”‏ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ

وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ

وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ

وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ ‏.‏ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ ‏.‏

আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) ….. আয়েশা বিনতে সা’দ, তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে জনৈক মহিলার নিকট গমন করে তার সম্মুখে কিছু দানা অথবা পাথরের টুকরা দেখতে পান,

যা দ্বারা তিনি তাসবীহ পাঠে রত ছিলেন। এতদ্দর্শনে তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে এর চেয়ে সহজ পন্থা শিক্ষা দিব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

সুবহানাল্লাহ শব্দটি আসমানের যাবতীয় সৃষ্টিবস্তুর সম-সংখ্যক এবং সুবহানাল্লাহ যমীনে সৃষ্টি যাবতীয় সৃষ্টির সম-সংখ্যক

এবং সুবহানাল্লাহ শব্দটি এতদুভয়ের মধ্যে সৃষ্টি সমস্ত বস্তুর সম-সংখ্যক।

সুবহানাল্লাহ শব্দটি ভবিষ্যতে যা কিছু সৃষ্টি হবে, তার সমসংখ্যক এবং “আল্লাহু আকবর” ও “আল-হামদুলিল্লাহ’ও তার (সুবাহানাল্লাহর) অনুরূপ।

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”ও তার অনুরূপ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ও তার অনুরূপ। (তিরমিযী, নাসাঈ)।

(وَمِدَادَ كَلِمَاتِه) কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ হল

সংখ্যাতে তার সমান। আবার কারো মতে নিঃশেষ না হওয়ার ক্ষেত্রে তার সমান। কেউ কেউ এটি বলেছেন যে, আধিক্যতার ক্ষেত্রে তার সমান।

নিহায়াহ্ গ্রন্থে আছে তার সংখ্যার সমান। কেউ কেউ বলেছেন, আধিক্যতার ক্ষেত্রে কাইল, ওযন, আযান বা সীমাবদ্ধকরণ ও পরিমাপকরণের অন্যান্য মানদণ্ডের মতো বা সমান একটি মাপ।

এটা একটি উপমা পেশকরণ যার মাধ্যমে নিকটবর্তীকরণ উদ্দেশ্য করা হয়। কেননা কথা পরিমাপ ও ওযনের মাঝে প্রবেশ করে না। তা কেবল সংখ্যাতে প্রবেশ করে।

বিদ্বানগণ বলেন, এখানে সংখ্যার ব্যবহার রূপক।

কেননা আল্লাহর বাণীসমূহ সংখ্যা এবং অন্য কিছু দ্বারা পরিসংখ্যান করা যায় না। উদ্দেশ্য আধিক্যতার ক্ষেত্রে বেশি করা,

কেননা প্রথমে সৃষ্টির সংখ্যা সীমাবদ্ধ করে এমন অধিক সংখ্যা উল্লেখিত হয়েছে। অতঃপর এর অপেক্ষা আরও বড় কিছুর দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাকে প্রকাশ করেছে।

অর্থাৎ- কোন সংখ্যা দ্বারা যাকে পরিসংখ্যান করা যায় না। যেমন আল্লাহর বাণীসমূহ পরিসংখ্যান করা যায় না।

একে ইমাম নাবাবী বর্ণনা করেছেন। লাম্‘আত প্রণেতা বলেন, এটা একটি দাবীকরণ এবং আধিক্যতাতে বেশিকরণ।

এই যে দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো সকালে পড়া চাই। কেননা সকালে পড়া রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।

কেউ যদি এটি বিকেলে পড়েন তাহলে তিনি এই ফজিলত পাবেন না বিষয়টি এমন নয়। এ তাসবীহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে পড়তে বলেছেন এর অর্থ এই নয় বিকেলে পড়লে এর ফজিলত থেকে তিনি মাহরুম হবেন।

বিকেলে, রাতে, সকালে সব সময় পড়তে পারেন। কেউ যদি এটি নিয়মিত পড়তে পারেন, তাহলে এটি তার জন্য উত্তম কাজ।

বিঃ দ্রঃ আপনার ব্যাকলিং প্রয়োজন?

আমাদের যে কোন পোস্টের লিংক আপনার পোস্টে সংযোগ করে কমেন্ট সেকশনে তার লিংক দিয়ে কমেন্ট করুন।

আমরা আপনাকে আমাদের সাইটে সংযোগ করে নিব।

Facebook Comments

1 Trackback / Pingback

  1. কি আমলে সমস্ত গুনাহ মাফ | কি কারণে উটের গোশত হারাম ? | Bangla Islam

Comments are closed.